আবু তাশরীফ ।।
ছেলেধরার গুজব, কল্লাকাটার খবর, আতঙ্ক আর গণপিটুনির ঘটনা যেন হাত ধরাধরি করে চলছে। একটাও থামানো যাচ্ছে না। একটা থামলে আরেকটা থামবে– বলা যাচ্ছে না এমন কথাও। খবর আর গুজবের পার্থক্য যেন উঠে গছে। নেই হয়ে গেছে বিচার আর হঠাৎ রাস্তায় ‘সন্দেহভাজন’ মানুষের প্রতি হত্যাকামী মারধরের বিভাজন। কেন এমন হচ্ছে –খুলে বলছেন না কেউ।
এর সঙ্গে আবার জড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে পদ্মা সেতুর নাম। গুজবের কেন্দ্রে টেনে আনা হচ্ছে পদ্মাসেতুকে। অথচ পদ্মাসেতুর নাম এখানে গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুজব বন্ধ করতে হবে। নি:সন্দেহে গুজবকে কেন্দ্র করে মানুষ মেরে ফেলা এক ভয়াবহ ব্যাপার। গুজব তো মিথ্যাই, কিন্তু ছেলেধরা ও কল্লাকাটার খবর তো প্রায়ই চলে আসছে গণমাধ্যমে। নেত্রকোনাসহ দেশের নানা প্রান্ত থেকেই এজাতীয় খবর গত কয়েকদিনে এসেছে। পুলিশ এসব কাটা কল্লার ঘটনায় ব্যাখ্যাও দিয়েছে, কিন্তু আতঙ্ক থামছে না কিছুতেই।
আতঙ্ক থামছে না বলে গুজব বন্ধের নির্দেশনাতেও কান দিচ্ছে না মানুষ। ছেলেধরা আতঙ্ক আর গণপিটুনির শিকার হয়ে মারা পড়ার আতঙ্ক –দুটাই বেড়ে চলেছে।
বাচ্চাদের স্কুল ও মাদরাসার সামনে অভিভাবকদের ভিড় অনেক বেড়ে গেছে। কেউ যেন শিশু সন্তানকে চোখের আড়াল হতে দিতে চাচ্ছে না। অপরদিকে পথেঘাটে চলতে মানুষের সাবধানতা বেড়ে গেছে। আলুথালু বেশে, অপ্রস্তুত পোশাকে চলাফেরা বিজজ্জনক হয়ে গেছে। পথে ঘাটে অপরিচিত কোনো শিশুকে সাহায্য করা, স্নেহ করা কিংবা মুচকি হেসে কথা বলাও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আসতে পারে। সন্দেহের চোখ চারদিকে, আতঙ্কের দৃষ্টি সব চোখে। এক কঠিন দমবন্ধ অবস্থা!
গুজবের মৃত্যু ঘটুক –সুস্থ সচেতন সবাই চায়। সঙ্গে ছেলেধরার ঘটনা, কল্লাকাটার খবর, শিশু অপহরণের নিউজও বন্ধ হওয়া দরকার। এসব ঘটনা যদি বাস্তুবেই না ঘটে, তাহলে গুজবের পথ বন্ধ করতে হবে কঠোরভাবে। আর যদি ঘটনার চোরা পথ খোলা থাকে, তাহলে খবর বন্ধ করে দিয়ে পরিস্থিতি কতোটা স্বাভাবিক করা যাবে– ভেবে দেখা দরকার। সংকট ও আতঙ্কের শেকড়ে হাত দিতে হবে।
কোনেভাবেই গুজবের পক্ষে কথা বলা যাবে ন। কোনোভাবেই গণটিুনিতে মানুষ হত্যার সমর্থন দেওয়া যাবে না। সন্দেহ নেই, এগুলো অন্যায়। কিন্তু ছেলেধরা নিয়ে মানুষের মনে, শহরে-গ্রামে যে গভীর আতঙ্ক ভর করেছে- তার বাস্তুব ও যৌক্তিক উৎপাটনও তো করতে হবে। শুধু নির্দেশনায় আতঙ্ক দূর হয় না। আর আতঙ্ক দূর না হলে দু রকম ঘটনাই ঘটতে পারে। বহু নির্দোষ মানুষ বেঘোরে মারা পড়তে পারে। মৃত্যুর আগে রেণুর মতো নিরীহ নারীর অসহায় চোখ আর কত দেখতে হবে- কে জানে!
দায়িত্বের কথা বললে তো সমাজের সব মানুষের কথাই বলতে হয়। সাবধানতার কথা বললেও আসে তাদেরই কথা। এসব পরিস্থিতিতে প্রশাসনের ক্ষিপ্র, সাহসী ও আস্থা সৃষ্টিকারী ভূমিকার প্রত্যাশাও কি খুব অযৌক্তিক? সন্তান হারানোর দিন কেটে যাক। গুজবের দিন কেটে যাক। আতঙ্কের দিনও কেটে যাক। দায়িত্বশীলতা ও সুরক্ষার সাথে চলুক সবার জীবন।
















