ওলিউর রহমান ।।
পাহাড়ের ঢল ও কিছুদিন আগে কয়েকদিনের লাগাতার বৃষ্টি এবং নদী-ভাঙনে উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলা এবং জামালপুর, নেত্রকোণা, সিলেট, সুনামগঞ্জসহ দেশের অনেক জেলা বন্যায় প্লাবিত। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যমতে এবছরের ভয়াবহ বন্যায় জামালপুরে ২৯ জনসহ সারাদেশে ৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘদিন পানিবন্দী থাকায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বন্যা কবলিত অঞ্চলের অসংখ্য মানুষ। খাদ্য-সঙ্কট, নিরাপদ পানির অভাবসহ অন্যান্য সমস্যায় সেসব এলাকার মানুষের জীবন দুর্বিষহ।
অসহায় বন্যার্ত এসব মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবতার দাবি। সরকার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল দুর্গতদের মাঝে দলীয় উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ করছে। মানবতার ডাকে সাড়া দিয়ে বরাবরের মতো এবারো ব্যক্তিগত, সামাজিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক মাধ্যম ভিত্তিক বিভিন্ন গ্রুপের উদ্যোগে সাধ্য ও সামর্থ অনুযায়ী অসহায় মানুষদের কাছে ছুটে যাচ্ছেন আলেম ও মাদরাসার ছাত্ররা।
আলেম, মাদরাসার ছাত্র ও দ্বীনদার মানুষদের ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম ও প্রক্রিয়া জানতে ইসলাম টাইমসের পক্ষ থেকে কথা বলা হয় সামাজিক সেবামূলক সংগঠন হাফেজ্জী হুজুর সেবা সংস্থার দায়িত্বশীল মাওলানা রাজিবুল হক ও অনলাইন ভিত্তিক কওমি মাদরাসার ছাত্রদের ফেসবুক গ্রুপ আসহাবে কাহাফের ত্রাণ বিতরন কর্মকাণ্ডের একজন দায়িত্বশীল মাওলানা সাকিব মুস্তানসিরের সাথে।

মাওলানা রাজিবুল হক বলেন, আমাদের সংস্থার একটি কাফেলা গতকাল সিরাজগঞ্জে কাজ করেছে। সংস্থার জিম্মাদার মাওলানা ইবরাহিম খলীলের নেতৃত্বে সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে ১২০ টি পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার, প্রয়োজনীয় সামগ্রি, নগদ অর্থ প্রদান করা হয়। ঈদের আগে আমাদের আরেকটি কাফেলা কুড়িগ্রামে যাওয়ার প্রোগ্রাম রয়েছে। সেখানে অসহায় দুর্গতদের মাঝে চাল, ডাল, তেল ও ঘর বাঁধার টিনসহ আরও প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি বিতরণ করা হবে।
মাওলানা রাজিবুল হক আরও জানান, কুরবানীর দিনে বন্যা কবলিত এলাকায় হাফেজ্জী হুজুর সেবা সংস্থার পক্ষ থেকে ৫০ টি গরু ও ১০০ টি ছাগল কুরবানী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে আসহাবে কাহাফের ত্রাণ বিতরন কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা মাওলানা সাকিব মুস্তানসির বলেন, আসহাবে কাহাফের সদস্যদের পক্ষ থেকে ত্রাণ নিয়ে আগামী শুক্রবার গাইবান্ধায় যাওয়া হবে। অসহায় দুর্গতেদর মাঝে শুকনো খাবার বিতরণের পাশাপাশি গাইবান্দায় বিশুদ্ধ পানির জন্য বেশ কয়েকটি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হবে।

কিছুদিন পরে পানি কমে গেলে গ্রুপের সদস্যদের পক্ষ থেকে বন্যা কবলিত অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতার জন্য টিন, কাটসহ ঘর মেরামত করতে যা যা প্রয়োজন সাধ্যানুযায়ী তা বিতরণ করা হবে।
মাওলানা সাকিব মুস্তানসির আরও বলেন, আসহাবে কাহাফের সদস্যরা তাদের সীমিত সামর্থের মধ্যে মাঝেমাঝেই জনগণের পাশে দাঁড়াতে চেষ্টা করে। তবে দেশের মানুষের দুর্ভোগের অন্ত নেই। সমাজের দায়িত্বশীল ও বড়দের পাশাপাশি তরুন আলেম, দ্বীনদার ও সর্বস্তরের মানুষের জন্য অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো উচিত।
এদিকে মাওলানা রাজিবুল হক বলেন, হাফেজ্জী হুজুর সেবা সংস্থার পক্ষ থেকে আমরা সাহায্য নিয়ে মানুষের কাছে গেলে দেখা যায়, মানুষের কত প্রয়োজন। আমরা আমাদের সীমিত সামর্থের মধ্যে সবার প্রয়োজন পুরণ করতে পারি না। তাই এ কাজে বেশি বেশি মানুষের সমর্থন ও অংশগ্রহণ জরুরী। সৎকাজে সহযোগিতা ও অসহায়-দুর্বলদের পাশে দাঁড়ানো তো মানবতার দাবি।
















