শুধু জুলাই মাসে হাসপাতালে ভর্তি ৭৫১৩ জন ডেঙ্গুরোগী

রাজধানীসহ সারাদেশে ভয়ানকভাবে বেড়েই চলছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। রাজধানীর বড় বড় হাসপাতালে স্থান সঙ্কুলান হচ্ছে না রোগীদের। নির্ধারিত ওয়ার্ডগুলোর বাইরে অন্য বেডগুলোও ভরে যাচ্ছে ডেঙ্গু রোগীতে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে শুধুমাত্র জুলাই মাসেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭ হাজার ৫১৩ জন রোগী।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে জুলাই মাসের ২২ তারিখে ৪০৩ জন, ২৩ তারিখে ৪৭৩ জন, ২৪ তারিখে ৫৬০ জন, ২৫ তারিখে ৫৪৭ জন এবং ২৬ তারিখে ৩৯০ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে এই হিসাবের বাইরে রয়েছে আরও প্রচুর ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী। কেননা শুধু মাত্র সে সকল ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরাই হাসপাতালে ভর্তি হয়, যাদের রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ ভয়ানকভাবে কমে যায়।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গতকাল ঢাকায় মারা গেছে দুই জন এর মধ্যে একজন নারী চিকিৎসক অন্যজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের এক শিক্ষার্থী। এছাড়াও রাজশাহীতে সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় আছেন এক পুলিশ সদস্য।

তবে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠলেও একে এখনো মহামারী বলা যাবে না বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের সাবেক ডিন, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে, ডেঙ্গুর প্রকোপ থামানো যাচ্ছে না। তবে মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে জ্বর হলে সরাসরি চিকিৎসকের কাছে চলে যেতে হবে। আর মশার কামড় থেকে বাঁচতে দিনের বেলাও প্রয়োজনে মশারি লাগাতে হবে এবং ফুল হাতার কাপড় পরতে হবে।

শুক্রবার (২৬ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দৈনিক প্রতিবেদনে জানানো হয়, মোট ৩৯০ জন রোগীর মধ্যে ঢাকা শহরের বাইরে ঢাকা বিভাগের জেলা শহরে ১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৩ জন ও খুলনা বিভাগে ২ জন রোগী ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন।

ঢাকা শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৩৭৪ জন। এদের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) ১৩৬ জন, ঢাকা শিশু হাসপাতাল ৮ জন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল ২২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এছাড়াও হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ৯ জন, বারডেম হাসপাতালে ৪ জন, রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে ৩৭ জন, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪১ জন, পিলখানা বিজিবি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩ জন রোগী।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, ঢাকা শহরের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে নতুনভাবে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ১১৪ জন রোগী। এদের মধ্যে ধানমন্ডি ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১ জন, স্কয়ার হাসপাতালে ৯ জন, সেন্ট্রাল হাসপাতালে ৩০ জন, কাকরাইল ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে ২৪ জন রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়াও ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮ জন, সালাউদ্দিন হাসপাতালে ১৭ জন, পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

রিপোর্টটিতে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সর্বমোট মৃত্যুর সংখ্যা দেখানো হয় ৮ জন।

রিপোর্টে দেখা যায়, চারটি সরকারি হাসপাতাল এবং ২৯টি বেসরকারি হাসপাতালে নতুন কোনো রোগী ভর্তি হননি।

তবে আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে, শুধুমাত্র ঢাকাতেই না ঢাকার বাইরেও বেড়ে চলছে ডেঙ্গুরোগীর সংখ্যা। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বুধবার পর্যন্ত রোগীর সংখ্যা ১০ জন থাকলেও শুক্রবার বৃদ্ধি পেয়ে ২৬ জন হয়েছে। তাদের মধ্যে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আছেন এক পুলিশ কনস্টেবল। তার নাম আতিক হাসান (২৫)। আতিকের বাড়ি জয়পুরহাট জেলার তিলেবপুর ইউনিয়নের কয়াসসোবলা গ্রামে। বুধবার দুপুর ১২টা থেকে তাকে রামেকের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)-তে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, আতিক বগুড়া পুলিশ লাইনে কনস্টেবল পদে কর্মরত আছেন। তবে দুই মাসের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণে পাবনায় কর্মরত আছেন।

বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ২৮ জন রোগী চিকিৎসাধীন। গত তিন-চার দিনে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বেশ কিছু রোগী ভর্তি হন। এদের মধ্যে ১৬ জনের শরীরে ডেঙ্গুর জীবাণু মিলেছে। তারা হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসাধীন।

পূর্ববর্তি সংবাদফেইসবুকে প্রোফাইল ছবি ও মোবাইল নম্বর দেয়ার নতুন আইন
পরবর্তি সংবাদহজ্ব পালনে সৌদি গেলেন ভারতের ১০১ বছর বয়সী বৃদ্ধা