ওলিউর রহমান ।।
কুরবানির সময় আসন্ন। প্রত্যেক সামর্থ্যবান ব্যক্তির উপর কুরবানি করা ওয়াজিব। কুরবানির গোশত নিজে খাওয়ার পাশাপাশি আত্মীয় ও দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করা উত্তম। কুরবানিকৃত পশুর চামড়া নিজে ব্যবহার করা যায়। চামড়া বিক্রি করে এর মূল্য গরিবদেরককে দানও করা যায়। তবে বাংলাদেশে কুরবানিকৃত পশুর চামড়া বিক্রি করে সে মূল্য গরিবদেরকে দান করার প্রচলনই বেশি।
চামড়া বিক্রি করে দিলে এর মূল্য গরিবের হক হয়ে যায়। সে মূল্য নিজে খরচ করা যায় না। কুরবানিতে বাংলাদেশে কমপক্ষে ৫০ লাখ গরু জবাই করা হয়। সে হিসেবে চামড়ার ভালো দর পেলে দেশের অসহায় জনগোষ্ঠীর জন্য টাকার একটা বিশাল পরিমাণ বরাদ্দ হয়ে যায়।
আরও পড়ুন: http://চামড়ার পড়তি দর: করণীয় প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞদের কতিপয় প্রস্তাব
চামড়ার তৈরি দ্রব্যাদির দাম দিন দিন বাড়লেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে কমে গেছে কুরবানির সময় জবাই হওয়া পশুর কাঁচা চামড়ার দাম। গতবছরে অর্ধলক্ষাধিক টাকার গরুর চামড়া মাত্র ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। ছাগল বা খাসির চামড়ার দাম শতকের ঘরেও পৌঁছায়নি।
দ্বীনদার মানুষ কুরবানির চামড়া বা বিক্রিত চামড়ার দরের উল্লেখযোগ্য একটা অংশ দান করেন কওমি মাদরাসার লিল্লাহ বোর্ডিং এবং এতিমখানায়। সুতরাং কুরবানী চামড়ার দর কমে যাওয়ার প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ প্রভাব পড়ে কওমি মাদরাসার ‘আয়খাতে’।
গরিবের হক কুরবানির চামড়ার দর ক্রমশ কমে যাওয়া প্রসঙ্গে ইসলাম টাইমসের পক্ষ থেকে কথা বলা হয় ফরিদাবাদ মাদরাসার মুহাদ্দিস মুফতি ইমাদুদ্দিন এবং লালবাগ মাদরাসার মুহাদ্দিস মুফতি সাখাওয়াত হোসাইনের সঙ্গে।
গত কয়েকবছরের মতো এবারও চামড়ার দর কম থাকার আশঙ্কা করেন কি না জানতে চাইলে মুফতি ইমাদুদ্দিন বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্রমান্বয়ে চামড়ার দাম যেভাবে কমে এসেছে তাতে আশঙ্কা কেন বাস্তবেই হয়ত চামড়ার দর এবার আরও কম হবে। তবে নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রে এ তথ্য এখনও পাইনি।
এদিকে মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন বলেন, ট্যানারি মালিকদের সিন্ডিকেট, কুচক্রীদের তসরুফ দিন দিন কুরবানির চামড়ার দর কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ। চামড়ার দাম কম থাকায় দেশের গরিব জনগোষ্ঠী বড় রকমের আর্থিক অনুদান হারায় এবং মাদরাসা কর্তৃপক্ষও অর্থনৈতিক ব্যাপারে কিছুটা দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়ে।
এ পরিস্থিতিতে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ বা স্থানীয় পর্যায়ে লোকদের কিছু করণীয় আছে কি না জানতে চাইলে লালবাগের এ মুহাদ্দিস বলেন, আপাতত মিডিয়ায় আলোচনা, সেমিনার-কনফারেন্স বা অন্য কোনো উপায়ে প্রশাসনের উপর চাপ প্রয়োগ করা যায়, যেন প্রশাসন কতিপয় পুঁজিপতি ট্যানারি মালিকদের সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দেয়। তাহলে চামড়ার ন্যায্য মূল্য পাওয়ার আশা করা যায়। এছাড়া মাদরাসা কর্তৃপক্ষ নিজেদের উদ্যোগে কিছু করার জন্য বাস্তবসম্মত কোনো পরিকল্পনা করা দরকার। তবে সেটা খুব সহজ কাজ নয়।
এদিকে ফরিদাবাদ মাদরাসার মুহাদ্দিস মুফতি ইমাদুদ্দিন বলেন, চামড়ার মূল্য তো শুধু মাদরাসার গরিব ছাত্রদের হক না। দেশের সকল গরিব মানুষের হক। সুতরাং কুরবানির সময় এলে কাঁচা চামড়ার মূল্য কমিয়ে দেয়াটা অন্যায়। যারা কুরবানি করেন তাদেরও এ বিষয়টিতে চিন্তা করা প্রয়োজন। সমাজের সর্বস্তরে সচেতনতা দরকার যেন গরিবের হক নষ্ট না হয়।
















