কোটি টাকার বাসও রেজিস্ট্রেশন হয় মিনিবাস হিসেবে !

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথোরিটির (বিআরটিএ) তালিকায় বিলাসবহুল এসি বাসের জন্যে ভিন্ন কোনো ক্যাটাগরি না থাকায় এসি, নন এসি সব পরিবহনকে ধরা হচ্ছে এক ক্যাটাগরিতে। এবং কোটি টাকার বাস রেজিস্ট্রেশন হচ্ছে মিনিবাস হিসেবে। এতে করে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। তাছাড়া এসব পরিবহনের ভাড়ার ওপরও নিয়ন্ত্রণ নেই সংস্থাটির। এ সুযোগে মালিকপক্ষ ইচ্ছেমতো ভাড়া নির্ধারণ করছে। তাই যাত্রীরা অভিযোগ দিয়েও কোনও প্রতিকার পাচ্ছেন না।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থায় যুক্ত হচ্ছে দেশের গণপরিবহনগুলো। দীর্ঘ যাত্রাপথে এসি বাসই পছন্দ যাত্রীদের। এসব গাড়ির ভাড়া নন এসির তুলনায় বেশি।

শুধু এসি বাসের ভাড়া নির্ধারণে নয়, রেজিস্ট্রেশনেও রয়েছে অসঙ্গতি। বিলাসবহুল বিজনেস ক্লাস, হুন্দাই, হাইডেক ও ভলবোসহ কোটি টাকা মূল্যের পরিবহনও রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হচ্ছে মিনিবাস হিসেবে। বিআরটিএ’র দাবি, এসি বা বিলাসবহুল বাসের বিষয়ে কোনও আইন-কানুন বা নিয়মনীতি তাদের নেই। তারা শুধু বাসের আসন হিসেবেই রেজিস্ট্রেশন দিয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে বিলাসবহুল এসব পরিবহন আসন সংখ্যা হচ্ছে ২৮ সিটের। কিন্তু ২৮ সিটের বাসকে মিনিবাস হিসেবেই রেজিস্ট্রেশন দিচ্ছে বিআরটিএ। এতে কোটি টাকা মূল্যের এসব বাস মিনিবাস হিসেবেই চলাচল করছে।

আর বিজনেস ক্লাস বা বণিজ্যিক পরিবহন হিসেবে রেজিস্ট্রেশন নিতে হলে এসব পরিবহনকে ৩৬ আসনের পরিবহন হিসেবে দেখাতে হয়। বাণিজ্যিকভাবে এসব পরিবহনের রেজিস্ট্রেশন নিতে হলে ৩৬ আসন হিসেবেই রেজিস্ট্রেশন নিতে হয়। এতেও সমস্যায় পড়েন মালিকরা। সড়কে ট্রাফিক সার্জন পরিবহনের ব্লু বুকের সঙ্গে আসনের বাস্তবতার মিল না পেলে মামলায় জড়িয়ে দেন। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ বাস মালিকরা। এ ধরনের বাস থেকে রাজস্ব আয় বেশি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও মিনিবাস হিসেবে রেজিস্ট্রেশন দেওয়ায় তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

অবশ্য মালিকরাও বলছেন, তারাও চান প্রকৃত রাজস্ব দিয়ে লাক্সারিয়াস গাড়ি হিসেবে রেজিস্ট্রেশন নিয়ে সড়কের হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে।

 

পূর্ববর্তি সংবাদকাবুলে বিয়ের অনুষ্ঠানে ভয়াবহ বোমা হামলা, নিহত ২০
পরবর্তি সংবাদকাশ্মীর: হাসপাতালে জন্ম নেওয়া শিশুর খবর পরিবারের কাছে পাঠানো যাচ্ছে না