লালমনিরহাট সেমিনারে নৈতিক অবক্ষয় রোধে ইসলামী অনুশাসন পালনের আহ্বান জানান বক্তারা

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: লালমনিরহাট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘সামাজিক অবক্ষয় রোধে ওলামায়ে কেরামের চিন্তা-ধারা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ও আলোচকরা বলেন,  সমাজে বিরাজমান নানাপ্রকার নৈতিক অবক্ষয় থেকে সমাজকে বাঁচাতে হলে ইসলামী অনুশাসন মান্য করা ও বাস্তবায়ন করার কোন বিকল্প নেই।

তারা বলেন, অবক্ষয় ও বিপর্যয়ের শেষ সীমায় পৌঁছার পরও ইসলামী জীবনের আদর্শ অনুসরণ করলে আবার প্রত্যাশার ভোর জাগ্রত হয়ে উঠবে।

১৮ আগস্ট রবিবার লালমনিরহাট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। দিনব্যাপী এ সেমিনারের আয়োজন করে জেলার ওলামা পরিষদ।   সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা শফিকুল ইসলাম ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন ওলামা পরিষদের আহ্বায়ক মাওলানা জয়নাল আবেদীন।

প্রধান মেহমান ও আলোচকের বক্তব্যে প্রফেসর ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, দেওবন্দের ওলামায়ে কেরাম উপমহাদেশ ও বিশ্বব্যাপী যে ব্যাপক অবদান রেখে গেছেন তা থেকে উপকৃত হওয়া সমাজের মানুষের দায়িত্ব। তিনি বলেন মুসলমানরা আজ নানা ভাবে বিপর্যস্ত। কিন্তু হতাশার কোনো কারণ নেই। রাত যত গভীর হয় ভোর তত নিকটে আসে।

অনুষ্ঠানে মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ বলেন, নৈতিক অবক্ষয় থেকেই সমাজে নানা রকম দুর্যোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এসব দুর্যোগ ও সংকট থেকে বের হতে হলে মূল সমাধান হচ্ছে ইসলামী আদর্শের অনুসরণ।শাখাগত সমস্যার পেছনে না পড়ে মৌলিক সমাধান আঁকড়ে ধরলে সবগুলো সমস্যা সমাধানের পথ খুলে যাবে।

তিনি বলেন, নৈতিকভাবে কোন জাতি বিপর্যস্ত হয়ে গেলে তাকে ধ্বংস করার জন্য শত্রুপক্ষের সশস্ত্র হামলা প্রয়োজন হয় না। নিজেদের অবক্ষয় ও ব্যর্থতায় নিজেরাই ধ্বংস হয়ে যায়। তাই আমাদের সতর্ক হতে হবে।

মাওলানা যাইনুল আবিদীন বলেন, ওলামায়ে কেরাম সমাজকে শিক্ষাদীক্ষা ও যথাযথ পরিচর্যার মধ্য দিয়ে আলোকিত করে গেছেন, করে যাচ্ছেন। তাদের পথনির্দেশনা গ্রহণ করলে সমাজের সব রকম সংকট কেটে যাবে।

মাওলানা রুহুল আমিন কাসেমী মুসলিম সমাজে নানা রকম ফিতনা ও ইসলাম বিরোধী ষড়যন্ত্রের বর্ণনা দিয়ে বলেন, জাতিকে বাঁচতে হলে এসব ফিতনা ও সংকট সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং দাওয়াতি মেজাজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ রেখে যেতে হবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মাওলানা ইয়াহইয়া ইউসুফ নদভী। তিনি তার প্রবন্ধে নৈতিক অবক্ষয় ও মুসলিম জাতির বিপর্যয় সম্পর্কে আলোকপাত এর পাশাপাশি ইসলামী আদর্শে নৈতিক উন্নয়ন ঘটানোর সমাধান মূলক পরামর্শ পেশ করেন।

সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন লালমনিরহাট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব মতিয়ার রহমান, লালমনিরহাট সদর উপজেলার চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সুজন, জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসান ইকবাল প্রমুখ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন লালমনিরহাট শহরের তরুণ আলেম মাওলানা মোহাম্মদ শরীফ, মাওলানা তারেক হুসাইন ও মাওলানা মাহমুদ হাসানসহ স্থানীয় ওলামা পরিষদের সক্রিয় সদস্যরা।

সকাল ১০ টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত সেমিনার চলে। দুপুরে জোহরের নামাজের বিরতি ও আপ্যায়নের ব্যবস্থা রাখা হয়।

এ সেমিনারে লালমনিরহাট জেলা সদর, আদিতমারী উপজেলা, পাশের কুড়িগ্রাম জেলাসহ আশপাশের শহর ও জেলা শহর থেকে প্রচুর সংখ্যক আলেম ও সাধারণ শিক্ষিত দ্বীনদার মানুষেরা অংশগ্রহণ করেন।

পূর্ববর্তি সংবাদচলন্তিকা বস্তির ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকবে সরকার: ওবায়দুল কাদের
পরবর্তি সংবাদকমলাপুরে ট্রেনের পরিত্যক্ত বগি থেকে ছাত্রীর লাশ উদ্ধার