ইসলাম টাইমস প্রতিবেদন: বৌদ্ধ প্রধান দেশ থাইল্যান্ডে সেনা ক্যাম্পে জিজ্ঞাসাবাদের নামে এক মুসলিম যুুবককে (৩৪) নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দেশটির মানবাধিকার সংগঠনগুলো এবং যুবকটির আত্মীয়স্বজন সরকারের নিকট তার মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনের জন্যে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
গত রবিবার (২৫ অগাস্ট) থাইল্যান্ডের মুসলিম প্রধান প্রদেশ পাট্টানিতে শত শত লোকের অংশ গ্রহণে তার জানাযা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
আবদুল্লাহ এসোরমোসোর নামে যুবকটিকে গত ২০ জুলাই আটক করা হয়। আটকের পরের দিন তাকে তার কক্ষে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। তার বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠির সাথে যোগযোগ আছে বলে অভিযোগ আনা হয়।
তার পরিবারের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলা হয়েছে, কোনো সন্দেহভাজন গোষ্ঠীর সাথে আবদুল্লাহর কোনো সম্পর্ক নেই। সেনাবাহিনী জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন করে তাকে হত্যা করেছে।
সেনাবাহিনীর কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির কর্যক্রম নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন আবদুল্লাহর পরিবার। “ এ পর্যন্ত তদন্তের কোনো অগ্রগতি হয়নি। আমরা যা ঘটেছে, তার স্বচ্ছ তদন্ত চাই” সংবাদ মাধ্যম রয়টার্সের নিকট এ দাবি জানান আবদুল্লাহর চাচাত ভাই মুহাম্মদ রহমত ম্যামু।
থাই প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবদুল্লাহর পরিবারের পক্ষ থেকে সুবিচারের আবেদন জানিয়ে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে কোনো সন্দেহভাজন গোষ্ঠীর সাথে তার সম্পর্ক নেই বলে সরকারকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
থাইল্যান্ডের বিরোধী দলগুলো বলছে, সংসদে আবদুল্লাহর মৃত্যুর কারণ উদঘাটনের জন্যে এ সপ্তাহেই তারা দাবি জানাবে। জার্মানভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ও টুইটারে থাইল্যান্ড সরকারের আবদুল্লার মৃত্যুর তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, গত ১৫ বছরে মালয় ভাষাভাষী বৌদ্ধ অধ্যুষিত থাইল্যান্ডে সশস্ত্র অভিযানের নামে প্রায় ৭ হাজার লোককে হত্যা করা হয়েছে।
মানবাধিকার কর্মী ব্রাড আদম এক বিবৃতিতে বলেছেন, নির্যাতন বন্ধে থাই সরকার বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও এ প্রতিশ্রুতি রক্ষায় তারা বরাবরই ব্যর্থ হচ্ছেন।
সূত্র: আল জাযিরা অনলাইন
















