ইসলাম টাইমস ডেস্ক : ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার দৃশ্য, তাদের কথোপকথন ও নুসরাতের জবানবন্দি ভিডিও পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশীদের আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের ফেনী শাখার পরিদর্শক মো. শাহ আলম এই ভিডিও উপস্থাপন করেন।
মো. শাহ আলম চতুর্থ দিনের মতো আদালতে সাক্ষ্য উপস্থাপন শেষে ভিডিও প্রদর্শন করেন। পরে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা করেন। বিকাল ৫টায় আদালতের সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় বিচারক সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য বুধবার (২৮ আগস্ট) নতুন দিন নির্ধারণ করেন।
এর আগে গত ২১, ২৫ ও ২৬ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণ হয়। নুসরাত হত্যা মামলায় ৯২ সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত বাদীসহ ৮২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে।
পিপি হাফেজ আহাম্মদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি প্রথম মামলা, যেখানে কোনও হত্যাকাণ্ডের ঘটনার রহস্য উন্মোচনের জন্য ভিডিও প্রজেক্টরের মাধ্যমে তা প্রদর্শন করা হলো। এতে নুসরাত হত্যার আগে ও পরে আসামিরা হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়ে যে উল্লাস করেছে এবং তাদের কথোপকথন ও নুসরাতের জবানবন্দি বিচারককে দেখানো হয়েছে।’
উল্লেখ্য, নুসরাত সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন। ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে তিনি যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়।
৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসাকেন্দ্রে যান নুসরাত। এ সময় তাকে পাশের বহুতল ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নুসরাত মারা যান। এই ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে ৮ এপ্রিল সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
















