ইসলাম টাইমস ডেস্ক: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হেয় করার জন্য অসত্য বক্তব্যের ধারাবর্ষণ করে যাচ্ছে ক্ষমতাসীনরা। বাকশালের মৃত্যুকূপ থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্যই শহীদ জিয়ার বিরুদ্ধে তুষের আগুনের মতো জ্বলতে থাকে আওয়ামী নেতাদের প্রতিহিংসা। কারণ আওয়ামী লীগের ইতিহাস রাজনৈতিক হিংসার ইতিহাস। এরা কারো প্রাপ্য সম্মান দিতে জানে না।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ্য করে রিজভী বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের সাহেব আপনি ১৫ আগস্টের বিষয়ে এইচটি ইমামকে জিজ্ঞেস করুন তাহলেই সব উত্তর পেয়ে যাবেন।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, ‘সত্যকে ঢেকে দিয়ে মিথ্যা প্রতিষ্ঠিত করতে তারা মিথ্যাচার করে আসছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের আলোচনা সভায় বলেছেন, ‘৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের মাস্টার মাইন্ড জিয়াউর রহমান। ২১ আগস্টে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে বঙ্গবন্ধুর কন্যাকেও নিশ্চিহ্ন করতে প্রকাশ্যে গ্রেনেড হামলা করা হয়েছিল। এখনো ওদের ষড়যন্ত্র চলছে। এখনো বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ আসছে।’
রিজভী বলেন, ‘যারা সেদিন লাশ ডিঙিয়ে মোশতাক সরকারের স্পিকার থেকে শুরু করে মন্ত্রী এমপি ছিলেন তাদের অনেকেই বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বড় বড় পদে অধিষ্ঠিত এবং তারা এমপি হলেন কিভাবে? তৎকালীন সেনা প্রধানের কোনো দায় নেই, অথচ মহান স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের নাম কেন টেনে আনেন তা আমরা জানি। সেটি হলো- জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তা, যা নানা কুৎসা রটানোর পরেও আজও তা বিন্দুমাত্র মলিন হয়নি।
রিজভী বলেন, ‘১৫ আগস্টের সময় বিএনপির সৃষ্টি হয়নি এবং শহীদ জিয়াউর রহমান তখন তো কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন না। তাহলে তাকে অভিযুক্ত করতে আওয়ামী নেতারা এতো তৎপর কেন? তৎকালীন সেনা প্রধানের কোনো দায় নেই কেন? কারণ তিনি আওয়ামী লীগের এমপি ছিলেন। ইতিহাসই এর প্রমাণ।
যে ব্যক্তি সাবেক রাষ্ট্রপতি মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের প্লট তৈরি করেছিল, যে ব্যক্তিরা খন্দকার মোশতাকের শপথে অংশ নিতে বঙ্গভবনে গিয়েছিল। সেই ব্যক্তিরাই এখন সরকারের চারপাশে ঘোরাঘুরি করছে। পঁচাত্তরে আওয়ামী লীগের লোকেরাই একজন আরেকজনকে হত্যা করেছে, একজন আরেক জনের কাছ থেকে ক্ষমতা দখল করেছে। আজকে পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, এ আওয়ামী লীগ শুধুমাত্র ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য, নিজেদের ক্ষমতা মগ্নতার কারণে সাবেক রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারী এবং সেই হত্যার প্রেক্ষাপট যারা তৈরি করেছিল সেসব ব্যক্তিদের সঙ্গে সখ্যতা করতে পিছপা হয় না।
















