ইসলাম টাইমস ডেস্ক : জিফটলিকে ফিলিস্তিনি একটি পারিবারিক খামারে খেজুরের ফলন সংগ্রহ মাত্র শেষের দিকে।
কিশোর-কিশোরীরা একটি উঁচু জায়গায় উঠে গাছ থেকে ঝাঁকুনি দিয়ে পাকা ফল পাড়ে আর বয়স্করা সেগুলো বাক্সে ভরে।
এই খামারের মালিক হাযা ডারাগমা। তিনি জানালেন, ইসরাইলি দখলের কারণে তার খেজুর উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
“ইসরায়েলি কৃষক ফিলিস্তিনি কৃষকের চেয়ে বেশি সুবিধা পাচ্ছে। তার পানি এবং কাঁচামাল রয়েছে। সরকারি সেবা এবং বাজার সুবিধা পাচ্ছে সে। তার খেজুর ইউরোপের বাজারে বিক্রি করছে। আমরা রপ্তানি করতে পারছি না। তাই পশ্চিম তীরে আমরা খুব কম মূল্য পাচ্ছি”।
ইসরায়েল এবং পশ্চিম তীরের মধ্যকার সমস্ত ক্রসিং পয়েন্ট নিয়ন্ত্রণ করে ইসরাইল, যা ফিলিস্তিনিদের পক্ষে তাদের পণ্য সরাসরি রফতানি করার ক্ষেত্রে সার্বিক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠা পেতে দিচ্ছে না।
অনেকেই তাদের উৎপাদিত পণ্য ইসরায়েলি কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে অথবা কেবলমাত্র পশ্চিম তীরের মধ্যেই ব্যবসা বাণিজ্য করতে হচ্ছে।
খামারি হাযার বাবা মাজিদের বয়স আশির ওপরে। তিনি ভূমি বাজেয়াপ্ত করার এবং ইসরায়েলি সামরিক জোনে পরিণত করার আগের দারুণ দিনগুলোর কথা স্মরণ করছিলেন, যখন তিনি জর্ডান নদীর তীরে শস্য চাষাবাদ করতেন।

“আমাদের প্রচুর জমি ছিল। এখন আমাদের হাতে সামান্য পরিমাণে আছে এবং তারা আমাদের আরও ঘিরে ধরেছে”-বলেন অশীতিপর মাজিদ।
ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকে ব্যাপকভাবে আন্তর্জাতিক আইনের লংঘণ হিসেবে দেখা হয়, যদিও ইসরায়েল তা অস্বীকার করে আসছে।
এই সীমান্ত এলাকায় প্রথম এই প্রতীরক্ষা রেখা স্থাপন করা হয় জাতীয় নিরাপত্তাকে মাথায় রেখে। এখন এই উপত্যকা প্রায় নয় হাজার সেটলারের এবং ৫৬ হাজার ফিলিস্তিনির আবাসস্থল।
১৯৬৭ সালের ছয়দিনের যুদ্ধে জর্ডান উপত্যকার অধিকাংশ ইসরায়েল দখল করে নেয়। এই বিস্তৃত এলাকা যা পশ্চিম তীরের এক চতুর্থাংশ, সেটিই ভবিষ্যত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়ার কথা।
অন্যদিকে ইসরায়েল বলছে, নিরাপত্তার কারণে তারা এই উপত্যকা হাতছাড়া করতে রাজি নয়।
আবু আল আজাফা গ্রামটি এখন যে কোন সময় গুড়িয়ে দেয়া হতে পারে এমন আতঙ্কে স্থানীয় বাসিন্দারা। একজন বয়স্ক নারী জামিলা আদেইস তাই ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত।
নিকটবর্তী মাসুয়া বসতি এলাকা দেখিয়ে তিনি বলেন, “ইসরাইলিরা চায় না যে আমরা এখানে থাকি। লাথি মেরে তারা আমাদের উৎখাত করে দিতে চায় এবং বসতি স্থাপনকারীদের এই জমি দিয়ে দিতে চায় যাতে করে তারা খেজুর গাছ চাষ করতে পারে”।
যদিও ফিলিস্তিনি শ্রমিকরা এইসব বসতি নির্মাণে কাজ করছে, তবে সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে অস্বস্তিপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজ করছে।
এবং গতমাসে জর্ডান উপত্যকায় ব্রোশ হাবিকা সম্প্রদায়ের একজন ইসরাইলি সেটেলারের হত্যা এবং সন্দেহভাজন ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তারের পর উত্তেজনা কেবল আরও তীব্র হয়েছে।
গত অগাস্টে পুনরায় চালু হওয়া শান্তি আলোচনার বিষয়বস্তু গোপনীয় রাখা হয়েছে। বলা হচ্ছে এই উপত্যকার ভাগ্য কি দাঁড়ায় সে বিষয়টি এই আলোচনার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। যা নিয়ে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি মধ্যস্থতাকারীরা একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর জোর সংগ্রাম চালাচ্ছেন।
ডেভিড এলহায়ানি একটি আঞ্চলিক কাউন্সিলের প্রধান যিনি ২০টির বেশি বসতির প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি বলেন, “জর্ডান উপত্যকার মীমাংসার জন্য সরকার আমাদের পাঠিয়েছে।
“একজন ইহুদী হিসেবে আমি আপনাকে বলতে পারি আমরা কোন ঝুঁকি নিতে পারি না। জর্ডান উপত্যকা ইসরায়েলি সার্বভৌমত্বের অধীনেই থাকতে হবে। আমি বাইবেল থেকে আমাদের দাবির বিষয়ে বলছি না। আমি বলছি নিরাপত্তার কথা। এখানে অবস্থানের মাধ্যমে আমরা তেল আবিব এবং ইসরায়েলের সব মানুষকে রক্ষা করছি”।
ফিলিস্তিনিদের দ্বারা পশ্চিম তীরের সাথে যোগাযোগে ব্যবহৃত হতে পারে জর্ডানের একমাত্র ক্রসিং অ্যালেনবাই ব্রিজের নিয়ন্ত্রণও ইসরাইলি সীমান্ত-রক্ষা কর্তৃপক্ষের হাতে।
জর্ডান উপত্যকা অঞ্চলটি সবচেয়ে বড় একক অংশ নিয়ে তৈরি যা “সি অঞ্চল” হিসেবে পরিচিত-ইসরাইলের এই অংশে ১৯৯৩ সালে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি চুক্তির অধীনে চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি ঝুলে আছে।
সূত্র: বিবিসি
















