ফ্রান্সের আদালতে সৌদি রাজকন্যার কারাদণ্ড

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: প্যারিসে নিজের অ্যাপার্টমেন্টে এক কর্মীকে মারধরের দায়ে সৌদি রাজকন্যা হাসা বিনতে সালমানের দশ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ফ্রান্সের একটি আদালত। বৃহস্পতিবার একই আদালত রাজকন্যার দেহরক্ষীরও আট মাসের কারাদণ্ড দেন।

রাজকন্যা হাসা (৪৩) সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বোন ও সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের মেয়ে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, কারাদণ্ডের পাশাপাশি সৌদি রাজকন্যা ও তাঁর দেহরক্ষী রানি সাইদিকে যথাক্রমে প্রায় ১০ লাখ টাকা ও প্রায় পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। তবে রায় ঘোষণার সময় তাঁরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনার পরপরই তাঁরা ফ্রান্স ত্যাগ করেন।

এর আগে গত ৯ জুলাই রাজকন্যার অনুপস্থিতিতে বিচারকাজ শুরু করেন ফ্রান্সের আদালত। ২০১৮ সালের মার্চে ফ্রান্সের একটি আদালত হাসা ও তাঁর দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

কারাদণ্ডের রায় ঘোষণার পর হাসার আইনজীবী ইমানুয়েল মইন বলেন, এই মামলাটি কল্পনাপ্রসূত। তাঁরা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।

প্যারিসে হাসার বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে কাজ করা সংশ্লিষ্ট কর্মীর নাম আশরাফ ইদ। তিনি মিসরের নাগরিক। মামলায় আশরাফ ইদ অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন তাঁকে ওই অ্যাপার্টমেন্টের ষষ্ঠ তলায় ডেকে নেওয়া হয় এবং রাজকুমারীর পায়ের পাতায় চুম্বন করতে বাধ্য করা হয়। একপর্যায়ে হাসা বিনতে সালমানের নির্দেশে তাঁর দেহরক্ষী ওই কর্মীকে মারধর করেন, তাঁকে কয়েক ঘণ্টা বেঁধে রাখেন।

তবে রাজকন্যা তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তাঁর ভাষ্য, ওই কর্মী মোবাইলে তাঁর (রাজকন্যা) ছবি তুলেছেন। ছবি তুলে সেগুলো বিক্রি করার মতলব এঁটেছিলেন। যদিও মারধরের শিকার ওই কর্মী বলছেন, তাঁকে শৌচাগারের বেসিন সংস্কার করার জন্য ডাকা হয়েছিল। ওই কাজের জন্যই তিনি শৌচাগারের ছবি তুলেছিলেন। রাজকন্যার ছবি তোলেননি তিনি।

এদিকে রাজকন্যার আইনজীবী ইমানুয়েল মইন বলেন, তাঁর মক্কেল অত্যন্ত বিনয়ী, ভদ্র এবং সংস্কৃতিমনা। সৌদি আইনে এবং রাজকন্যার নিরাপত্তার খাতিরেই তাঁর ছবি তোলাটা নিষিদ্ধ।

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে বিবিসি বলছে, নিজের দাতব্য সংস্থা ও নারী অধিকারের পক্ষে কাজ করার জন্য হাসা বিনতে সালমান সৌদিতে বেশ প্রশংসিত।

পূর্ববর্তি সংবাদকাশ্মীরের মুসলমানরা সন্ত্রাসী নয়, স্বাধীনতাকামী: আল্লামা বাবুনগরী
পরবর্তি সংবাদসংসদে স্পিকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা