মারকাযুদদাওয়াহ আল ইসলামিয়ার আমীনুত তালীম মাওলানা আবদুল মালেক গত ৬ সেপ্টেম্বর খুলনায় সফর করেন। সে সফরে তিনি কুয়েটের ছাত্রদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন। কুয়েটের ছাত্ররা ছাড়াও খুলনার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনেক ছাত্র এবং সাধারণ দ্বীনদার মানুষ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। সে আলোচনার সার-সংক্ষেপ তুলে ধরা হল।
হামদ ও সালাতের পর তিনি বলেন,
বিভিন্ন পরিস্থিতির মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে পরীক্ষা করেন। সকল অবস্থায় আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষের জন্য আহকাম আছে, বিধান আছে। এ জন্য শরীয়তের সঠিক ইলম যদি কেউ হাসিল করে তাহলে কঠিন থেকে কঠিন পরিস্থিতিতেও তার করণীয় কি সেটা সে বুঝতে পারবে। সাথে সাথে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে দোয়া করতে হবে, তিনি যেন জানা বিধানের উপর আমল করার তাওফীক দান করেন।
কোন কোন জিনিস মানুষকে সহীহ এলেম থেকে দূরে সরিয়ে রাখে: একটা হল জাহালাত বা মূর্খতা। সহীহ কোনটা জানার চেষ্টা না করা। অথবা ভুল কোন এলেমকে সহীহ মনে করা। কেউ যদি ভুল এলেমকে সহীহ মনে করে তাহলে সে সহীহ এলেম শিখতে যাবে না। এ জন্য জাহালাত ও গলত এলেম মানুষকে সহীহ এলেম থেকে দূরে সরিয়ে রাখে।
কিন্তু এতাআতি ভাইদের জন্য আমার আফসোস! বাতিল ফেরকাগুলোর মতো তারাও গলত কথার পক্ষে দলিল দাঁড় করানোর নীতি গ্রহন করেছে। গলত কথার তো কোন দলিল থাকে না। নিশ্চয় ভুল তথ্য দাঁড় করানো হচ্ছে, না হয় তথ্য বিকৃতি করা হচ্ছে।
আরেকটা হলো হটকারিতা যাকে এক কথায় কোরআন হাদিসের ভাষায় বলে ইত্তেবায়ে হাওয়া। নিজের খেয়াল খুশির পিছনে পড়া। এটাও সহীহ এলেম থেকে মানুষকে দূরে সরিয়ে রাখে।
মানুষ যদি নিজের খেয়াল খুশির পিছনে পড়ে, তাহলে সঠিক এলেম তার উপর কোন প্রভাব ফেলতে পারে না। সে বুঝেও না বুঝার মত থাকে। ঘুমন্ত ব্যাক্তিকে জাগানো যায়, কিন্তু যে ঘুমের ভান ধরেছে তাকে জাগানো যায় না।
আরও পড়ুন: মাওলানা আবদুল মালেক সাহেব দা.বা.- এর কুয়েট সফর: কারগুজারির এক ঝলক
এজন্যই নবিজী বলেছেন, ‘যতক্ষণ না নিজের চাহিদাকে সুন্নাহর অনুগামী না বানাবে, ততক্ষণ তুমি পরিপূর্ণ মুমিন হবে না।’ ঈমানের পূর্ণতা তখন আসবে যখন তুমি নিজের খেয়াল-খুশি, চিন্তা-চেতনা সবকিছুকে সুন্নাহর অনুগামী বানাতে পারবে। আর নিজের খাহেশাতকে সুন্নাহর অনুগামী করাটাই হলো ঈমানের সবচে বড় দাবি।
আরবিতে তাআসসুব একটা শব্দ আছে। যার অর্থ হলো অন্যায় পক্ষপাতিত্ব করা। দলিলের দাবি একটা, কিন্তু নিজস্ব বিশেষ কোনো কারণে এটাকে গ্রহণ না করে অন্য আরেকটাকে গ্রহণ করা। এটাকে বলে তাআসসুব। বাসের মধ্যে দেখবেন কোন যাত্রী অন্যায়ভাবেও যদি কন্ট্রাক্টরের সাথে ঝগড়া লাগে তাহলে অন্য সকল যাত্রীরা তার পক্ষ নেয়। কারণ উভয়েই যাত্রী। এই অন্যায় পক্ষপাতিত্ব করাকেই বলে আসবিয়্যাত। এটা যার মধ্যেই থাকবে সে হক গ্রহণ করতে পারবে না।
মাওলানা সাদ সাহেব দা.বা. আমদের অত্যন্ত প্রিয় ইলিয়াস রহ.-এর খান্দানের মানুষ। তার কথা শুনে আমরা অনেকে নামাজ পড়তে শুরু করেছি। দ্বীনের পথে চলতে শিখেছি। আমাদের মধ্যে দ্বীনের প্রতি আগ্রহ পয়দা হয়েছে। তার সাথে সম্পর্কের কতগুলো দিক! কত গভীর সম্পর্ক!
এই সম্পর্কের একটা দাবি আছে। একটা দাবি এটাও যে, তুমি তোমার ভাইকে সাহয্য করো। মাযলুম হলেও করো, যালিম হলেও করো। এটা রাসূলের বাণী। সাহাবীরা আরয করলেন, মাযলুমকে সাহয্য করা তো বুঝলাম কিন্তু যালেমকে সাহায্য করার অর্থ কি? নবিজি বললেন, যালেমকে তার যুলম থেকে বিরত রাখাই তাকে সাহায্য করা।
আমাদের এই প্রিয় ব্যক্তি, শ্রদ্ধা ও আস্থাভাজন ব্যাক্তি যখন হোচট খেয়েছেন, ভুল পথে চলে গেছেন, এখন তার অনুসরণ না করাটাই তাকে সাহায্য করা। তার অনুসরণ করা, তার অনুসরণের দিকে মানুষকে ডেকে ডেকে নেওয়া, এটা হলো তার উপর যুলুম করা। এ কথাটাই আমাদের এতাআতি ভায়েরা বুঝতে চেষ্টা করছেন না।
আমাদেরকে ভুল বুঝবেন না। সা’দ সাহেবের প্রতি মহব্বত আপনাদের চেয়ে আমাদের অন্তরে আরও বেশি। আর এই মহব্বতের কারণেই আমরা এ কথাগুলো বলি। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সঠিক এলেম শিখে তার উপর আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
অনুলিখন: মুহাম্মদ মামুনুর রশীদ
















