ইসলাম টাইমস ডেস্ক: ভারতের গুয়াহাটিতে ভাই এক হিন্দু মেয়েকে অপহরণ করেছে, এই অভিযোগে এক সংখ্যালঘু মুসলিম পরিবারের তিন বোনকে দরং জেলার বুড়া পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে গিয়ে বিবস্ত্র করে বেধড়ক মারধর করল পুলিশ। এসআই’র বুটের লাথিতে গর্ভপাতও হয়ে গেলো এক বোনের। খবর আনন্দবাজার পত্রিকা ও দৈনিক গণশক্তির।
নির্যাতিত তিনজনই সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের। ‘লাভ জেহাদ’ থেকে দলবদ্ধ পিটুনি, গোটা দেশেই উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা যেভাবে বিদ্বেষ ছড়িয়ে চলেছে আসামের এই ঘটনা তাকেই আরেকবার সামনে নিয়ে এলো। পাশাপাশি বেআব্রু হলো প্রশাসনও কেমন সঙ্ঘের সাগরেদ হয়ে উঠেছে, তাও।
এবারের ঘটনাটি গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে দরং জেলার বুড়া থানায় ঘটেছে। কিন্তু পুলিশের ভয়ে নির্যাতিতা মহিলারা মুখ খোলার সাহস পাননি। অবশেষে এলাকার মানুষ বিষয়টি সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের নজরে আনলে মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমের কাছে গোটা ঘটনা খুলে বলেন তিন মহিলা। এছাড়া এদিন থানায় মামলাও দায়ের করা হয়েছে। তবে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ।
জানা যায়, গত ৬ সেপ্টেম্বর তাঁদের ভাই রফিকুল ইসলামের সঙ্গে দরংয়ের বুড়া এলাকা থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বী এক যুবতী পালিয়ে যান। তাদের মধ্যে ভালবাসার সম্পর্ক ছিল। ওই ঘটনার পর বিজেপি-আরএসএস লাভজেহাদের অভিযোগ তুলে দরং জেলায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির করার চেষ্টা করে।
গত ৯ সেপ্টেম্বরে হিন্দু মেয়েটির পরিবারের অভিযোগ পেয়ে ওসি মহেন্দ্র শর্মা গুয়াহাটির ছয় মাইল এলাকায় রফিকুলের বাড়িতে পুলিশ পাঠান। রফিকুল না থাকায় তাঁর এক গর্ভবতী বোন-সহ তিন বোনকে থানায় আনা হয়। এরপর চলে বেধড়ক মারধর।
১০ সেপ্টেম্বর ভোরে বুড়া থানায় পৌঁছেই তিন বোনের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পুলিশ। শুরু হয় নির্যাতন। ভাই রফিকুল ইসলাম ও সেই যুবতীকে ‘কোথায় লুকিয়ে রেখেছিস’ বলে লাঠি দিয়ে বেদম মার শুরু করে মহেন্দ্র শর্মা। তার সঙ্গে সঙ্গী হয় থানার মহিলা কনস্টেবল ববিতা বোড়ো।
তিন বোনের অন্যতম মিনুয়ারা জানালেন, পুলিশের মারের চোটে এক সময় অজ্ঞান হয়ে যান মেজুবোন শারীরিক প্রতিবন্ধী রুমেলা। তারপর শুরু হয় ছোটবোন সুনয়ারার উপর আক্রমণ। দু’মাসের গর্ভবতী সুনয়ারা নিজেকে বাঁচাতে এসআই মহেন্দ্র শর্মার পা ধরে কাতর অনুরোধ করেন। মত্ত মহেন্দ্রের তাতেও মন গলেনি। নৃশংসভাবে সুনয়ারার পেটে লাথি মারে। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন সুনয়ারা। সেখানেই গর্ভপাত হয়ে যায় তাঁর। রক্তে ভেসে যায় থানার মেঝে। তার মধ্যেই হাজতে তিন বোনকে নগ্ন করে নৃশংস অত্যাচার চালায় ওই দুই পুলিশ কর্মী।
তিন বোনের অন্যতম মিনুয়ারা বেগম পরের দিনই দরং জেলার এসপির কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। পরে রফিকুল থানায় এসে ধরা দেন। মিনুয়ারার অভিযোগ, এখনও পুলিশ এফআইআর করেনি। উল্টে অভিযোগ তুলে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে ওই ওসি। ডিজিপি কুলধর শইকিয়া জানান, তিনি এসপিকে অবিলম্বে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। দরংয়ের এসপি অমৃত ভুঁইয়া আজ বলেন, ‘‘মারধরের ব্যাপারটি নিশ্চিত নয়। মেডিক্যাল রিপোর্ট পাইনি এখনও। তদন্ত চলছে।’’
ঘটনার তীব্র নিন্দা করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আসাম রাজ্য মহিলা কমিশন। তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালও। ডিআইজি (সেন্ট্রাল)-কে তদন্তের ভার দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেই ওসি মহেন্দ্র শর্মা ও মহিলা কনস্টেবল বিনীতা বড়ো সাসপেন্ড হয়েছেন।
















