শুদ্ধি অভিযান : কী ভাবছেন দেশের আলেম সমাজ

ইসলাম টাইমস প্রতিবেদন : বাংলাদেশে বিভিন্ন সরকারের আমলে বিভিন্ন নামে অনেক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। শুদ্ধিমূলক এসব অভিযান বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের প্রশংসা লাভ করলেও দেখা যায়, আখেরে এসব অভিযানে যতটা ফল আশা করা হয়, ততটা ফলদায়ক হয় না।

সম্প্রতি একদিনেই (১৮ সেপ্টেম্বর) র‌্যাব প্রায় চারটি জুয়ার ক্লাবে অভিযান চালিয়ে শতাধিক লোককে গ্রেফতার করেছে।  এইসব জুয়ার আসর থেকে নারীসহ সারি সারি বিদেশী মদের বোতল উদ্ধার হয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্লাবে অভিযান চালিয়ে পাওয়া গেছে, জুয়ার বোর্ড ,নানা রকম যান্ত্রিক চাকতি, গুটি।এসব যান্ত্রিক জুয়ার আয়োজনকে বলা হয় ক্যাসিনো।  এখনো অভিযান চলমান রয়েছে।

দেশে চলমান এই অভিযানকে কীভাবে দেখছেন আলেম সমাজ? এ নিয়ে ইসলাম টাইমসের পক্ষ থেকে কথা বলা হয়েছিল বিশিষ্ট আলেম ড. আ ফ ম খালেদ হুসাইনের সাথে।

ড. আ ফ ম খালেদ হুসাইন বলেন, আমরা সরকারের এ অভিযানকে ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে চাই। এ অভিযানের জন্যে সরকার সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। তবে আমরা একথা অবশ্যই বলব, এ অভিযানকে ফলপ্রসূ করেতে হলে অভিযানের পরিধি আরও বাড়াতে হবে। এবং অভিযানকে চলমান রাখতে হবে। শুধুমাত্র দর্নীতির চুনোপুটিদেরকে ধরলেই হবে না, রাঘব বোয়ালদেরকেও ধরতে হবে।

ড. খালেদ আরও বলেন, সরকারের হাসপাতাল, ব্যাংকিং, বিভিন্ন বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়, শেয়ার বাজার ইত্যাদি সব সেক্টরকেও এ অভিযানের আওতায় আনতে হবে। প্রত্যেক জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এ অভিযানকে প্রসারিত করতে হবে। এ অভিযান আরও আগেই শুরু করা দরকার ছিল। তাহলে হয়তো বেসিক ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে যেত না। হলমার্ক সোনালী ব্যাংকের টাকা লুটতে পারত না। মাদক আর ইয়াবার এমন সর্বগ্রাসী সয়লাব হয়ে যেত না। দেরি করে হলেও যখন এটা শুরু হয়েছে, আমরা এটাকে সাধুবাদ জানাই। তবে আমরা বলব, শুধুমাত্র আইওয়াশ টাইপের অভিযান চালালে এতে জনগণের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটবে না।

ঢাকার মিফতাহুল উলুম মাদরাসার উস্তায মাওলানা আবদুল মাজেদ বলেন, এ সব অভিযান কখনোই স্থায়ী কোনো সমাধান নয়। এগুলো জনগণকে সান্ত্বনা দেওয়া জন্যে এবং আরও বড় ধরণের দুর্নীতি ধামাচাপা দেওয়ার জন্যে করা হচ্ছে। এসকল অভিযান যারা পরিচালনা করছেন, তাদের উচিত নিজদেরকেও এ শুদ্ধি অভিযানের আওতায় নিয়ে আসা।

মাওলানা আবদুল মাজেদের মতে, দুর্নীতি, মাদক, জুয়া ইত্যাদি যাবতীয় সামাজিক ব্যাধি ও অনাচারের স্থায়ী সমাধান হল,  সমাজটাকে আগাগোড়া আবার ঢেলে সাজানো। সমাজটাকে গোড়া থেকেই আল্লাহর বড়ত্বের অনুভূতি ও আখেরাতের ভয়ের উপর প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

ঢাকার মারকাযুদ দাওয়াহর শিক্ষক মাওলানা যাকারিয়া আবদুল্লাহ বলেন, সরকারের এ ধরণের অভিযান অবশ্যই প্রশংসনীয়। সরকারের অভিযান থেকে বোঝা যায়, সরকার চাইলে মদ জুয়া বেহায়াপনা ইত্যাদি সমাজবিরোধী দেশবিরোধী নীতিবিরোধী বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে চাইলে শক্ত অবস্থান নিতে পারে।

মাওলানা যাকারিয়া আবদুল্লাহ আরও বলেন, এ অভিযান থেকে এটাও প্রকাশ পেয়েছে যে, সরকারের এ ধরণের পদক্ষেপগুলোকে দেশের সাধারণ মানুষ “ওয়েলকাম” করার জন্যে সব সময় প্রস্তুত। সুতরাং সরকারের কখনোই উচিত নয়, গুটিকতক লোকের কারণে এ ধরণের পদক্ষেপ থেকে পিছিয়ে আসবে।

 

পূর্ববর্তি সংবাদনড়াইলে হাতুড়ি পেটায় আহত ৩ স্কুলশিক্ষক
পরবর্তি সংবাদ‘বিক্রম’ এর সঙ্গে যোগাযোগে ব্যর্থ ভারত