নিংজিয়া: চীনের যে এলাকায় আজানের পরিবর্তে বাশি বাজাতে হয়

এনাম হাসান জুনাইদ ।।

চীনের ছোট্ট একটি শহর নিংজিয়া। এখানকার অধিকাংশ বাসিন্দা ধর্মভীরু তাই এলাকাটিকে মানুষ চিনে লিটল মক্কা নামে। এলাকাটি চীনের উত্তর পশ্চিমে পড়েছে। স্থানীয় সরকার এলাকাটির মসজিদের মিনার ও গম্বুজগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। কারণ এগুলো ইসলামের বিশ্বাসকে প্রবলভাবে প্রকাশ করে। চীনের বিভিন্ন অঞ্চলে এ জাতীয় ঘটনা একের পর এক ঘটে চলেছে।

ইনার মঙ্গলিয়া, হেনান, নিংজিয়া, চীনের আরো কয়েকটি অঞ্চল। এসব অঞ্চলে চীনের সর্ববৃহৎ মুসলিম জনগোষ্ঠী হুই সম্প্রদায়ের  বসবাস। জানা গেছে, এসব এলাকাতেও অনেক মসজিদ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

চীনের দক্ষিণ মুসলিম প্রদেশ ইউননান এলাকাতেও অনেক মসজিদ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। কিছু কিছু মসজিদ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বেইজিং থেকে লিংজিয়া পর্যন্ত সরকার সাধারণ মানুষকে আরবি অক্ষর ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

Prayers at a mosque in Linxia, on Sunday. Spray paint has been applied to the vase on the right, possibly to cover up Arabic script.

চীন সরকারের এ সকল কর্মকান্ড প্রমাণ করে, সরকার  বিগত কয়েক দশক ধরে প্রকাশ্যে নামে মাত্র মডারেট ইসলাম পালনের যে অনুমতি দিয়ে রেখেছিল, সেটি এখন সংকুচিত করা হচ্ছে। এখন থেকে চীনে মডারেট ইসলাম পালনেও কড়াকড়ি আরোপ করা হবে।

সরকারের এই কঠোর বিধিনিষেধগুলো শুরু হয়েছে উইঘুর মুসলমানদের ব্যাপক ধরপাকড় ও নির্যাতনের মাধ্যমে। সেটি এখন ধীরে ধীরে চীনের অন্যান্য প্রদেশে ও অন্যান্য জনগোষ্ঠীর মধ্যেও সম্প্রসারিত করা হচ্ছে।

বলা হয়, সরকারের এই অভিযান পরিচালনার কারণ হচ্ছে, সরকার ভয় পায়, মুসলমানরা ইসলামের প্রতি অনুগত থাকলে  দেশে ধর্মীয় চরমপন্থা উত্থান হতে পারে। এবং মানুষ প্রকাশ্যে রাষ্ট্রীয় আইন লংঘন করতে পারে। গোটা চীন জুড়ে সরকার এখন ইসলামী বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের উপর নতুন আইন-কানুন চাপিয়ে দিচ্ছে।

সরকারের এ সব  অভিযান মুসলমানদের দুশ্চিন্তা কে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। জিনজিয়াংয়ে মুসলমানদের উপর যে অত্যাচার হয়েছিল তার ক্ষতগুলো এখন চীনের অন্যান্য রাজ্যে ছড়াতে শুরু করেছে। এবার এসব অভিযানের প্রধান টার্গেট হুই  ও অন্যান্য মুসলিম সম্প্রদায়, যাদের ইতিহাস উইঘুর চীনা মুসলিমদের চেয়েও আরও অনেক প্রাচীন। A Hui Muslim studying the Quran at a mosque in Linxia.

অবশ্য নতুন আরোপ করা এই সব কঠোরতাগুলো জিনজিয়াংয়ে মুসলমানদের উপর চলমান ব্যাপক ধরপাকড় ও নির্যাতনের তুলনায় কিছুই নয়। কিন্তু বিষয়গুলো ওই সম্প্রদায়ের মুসলমানদের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে, যাদের সংখ্যা ১০ মিলিয়নের অধিক।

“আমরা আবার পিছিয়ে পড়ছি।” বলছিলেন কুই হকসিন, একজন হুই মুসলিম কবি, যিনি ছদ্মনামে এক সাক্ষাৎকারে একথা বলেন।

তার মতে নিপীড়নমূলক এ সকল পদক্ষেপ যা উইঘুর মুসলমানদের উপর চালানো হচ্ছে তা ধীরে ধীরে সমগ্র চীনে ছড়িয়ে পড়বে। একদিন এই নীতি শুধু মুসলমানদেরকেই আঘাত করবে না বরং চীনের প্রতিটি এর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।The Arabic word “halal” has been removed from this sign at a poultry shop in Linxia.

নিংজিয়া এলাকায় সরকার আরবি নিষিদ্ধ করেছে। এমনকি সরকারি সিল থেকে হালাল শব্দ উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিংজিয়া ও গানসু এলাকায় আজান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নামাজের সময় এখন সেখানে বাশি বাজিয়ে মানুষের মধ্যেই নামাজের কথা ঘোষণা করা হয়। আরবিকে মনে করা হয় একটি বিদেশী ভাষা।

এক সাক্ষাৎকারে মিস্টার ম্যা, চীনের একজন বিদ্বান ব্যক্তি বলেন, চীনের বর্তমান সরকার ধর্মকে মনে করছে রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু। কিন্তু মিস্টার ম্যা মনে করেন, চীন সরকারের সকল উদ্যোগ ব্যর্থ হবে। তিনি বলেন, চীন সরকার ধর্মীয় বিশ্বাস গুলো উৎখাত করতে পারবে এর মধ্যে আমি যথেষ্ট সন্দেহ করি। কারণ এটি অসম্ভব।

সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস

পূর্ববর্তি সংবাদক্যাসিনোর সরঞ্জাম আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের সন্ধানে গোয়েন্দারা
পরবর্তি সংবাদ“পক্ষপাত না থাকলে আমি অনেক কিছুতেই নোবেল পেতাম”