এনাম হাসান জুনাইদ ।।
দিন দিন উস্তায–শাগরিদের মধ্যকার সম্পর্ক শুকনো হয়ে যাচ্ছে। উস্তাযগণও দরসের উস্তায এবং ছাত্ররাও দরসের ছাত্র। দরসের বাইরে উস্তাযদের সাথে ছাত্রদের সম্পর্ক এক ধরণের অনুষ্ঠান সর্বস্ব হয়ে পড়ছে, দেশের প্রবীণ আলেমদের মুখে এমন অভিযোগ অহরহই শোনা যায়। এমতাবস্থায় বাংলাদেশ সফররত শায়খ ইবরাহীম আফ্রিকী হতে পারেন ছাত্রদের জন্যে এক উত্তম আদর্শ।
শায়খ ইবরাহীম আফ্রিকী ছিলেন ফকীহুল উম্মাহ হযরত মুফতী মাহমুদ হাসান গাঙ্গুহী রাহ. এর একজন একনিষ্ঠ খাদেম। জানা যায়, দীর্ঘ ২৬ বছর ফকীহুল উম্মাহ রাহ. এর খেদমত করেছেন। তাও আবার শায়েখ যাকারিয়া রাহ. থেকে খেলাফত পাওয়ার পর, যা এ যুগের ছাত্রদের জন্যে কল্পনাও করা যায় না।
হযরত মাওলানা ইবরাহীম আফ্রিকী আফ্রিকায় ইবরাহীম প্যান্ডোর আফ্রিকী নামে পরিচিত। সাত ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার ছোট। বাবা হাজ্বী ইসমাইল ইউসুফ প্যান্ডোর ছিলেন খুব ধার্মিক। আলেমদেরকে মনেপ্রাণে ভালোবাসতেন। এই ভালোবাসার বদৌলতে হয়তো আল্লাহ তার গোটা পরিবারকে দ্বীনের জন্যে কবুল করেছেন। তার চার ছেলে শায়খুল হাদীস যাকারিয়া রহ. এর খলীফা ছিলেন বলে জানা যায়। বাকী তিন ছেলে আসআদ মাদানী রহ. থেকে এজাযত প্রাপ্ত। হযরত মাওলানা ইবরাহীম আফ্রিকী একাধারে শায়খুল হাদীস যাকারিয়া রহ. এবং মাহমুদুল হাসান গাঙ্গুহী রহ. থেকেও এজাযত লাভ করেছেন।
মাওলানা ইবরাহীম আফ্রিকী প্রাথমিক পড়াশোনা করেন নিজ দেশ সাউথ আফ্রিকায়। তারপর ভারতের হাতুড়ায় মাওলানা সিদ্দীক আহমদ বান্দবীর মাদরাসায় ভর্তি হয়ে মাধ্যমিক পড়াশোনা সমাপ্ত করেন। তারপর দারুল উলুম দেওবন্দে ভর্তি দাওরায়ে হাদীস সমাপ্ত করেন। বোখারী শরীফ পড়েন মাহমুদুল হাসান গাঙ্গুহী রহ. এর নিকট। দাওরা সমাপ্ত করে তিনি গাঙ্গুহী রহ. এর খেদমতে নিজকে উৎসর্গ করেন। তার ইসলাহী সম্পর্ক যদিও গাঙ্গুহী রহ. এর সাথে, কিন্তু তিনি যাকারিয়া রহ. থেকেও ইজাযত লাভ করেন।
যাকারিয়া রহ. এর থেকে ইজাযত লাভ করার পর সকলে ভেবেছিল, তিনি দেশে চলে যাবেন। কিন্তু তিনি প্রাণপ্রিয় শায়খ মাহমুদুল হাসান গাঙ্গুহী রহ. এর খেদমতে থেকে গেলেন।
যখন বিয়ে করার জন্যে দেশে গেলেন, সকলেই ভেবেছিল, তিনি আর আসবেন না। কিন্তু দেখা গেল, বিয়ের পর তিনি সপরিবারে ইন্ডিয়া চলে এসেছেন শায়খের খেদমত করার জন্যে। সদূর আফ্রিকা থেকে সপরিবারে এভাবে বিদেশে থাকাটা তার জন্যে এবং তার পরিবারের জন্যে মোটেই আরামের ছিল না কিন্তু শায়খের প্রতি তার ভালোবাসা এসব ত্যাগ ও কুরবানিকে সহজ করে দিয়েছে।
হযরত মাওলানা ইবরাহীম আফ্রিকী সাহেব সফরে হযরে সব সময় তার শায়খ গাঙ্গুহী রহ. এর সাথে থাকতেন। শায়খের যখন যা দরকার হত তা ব্যবস্থা করে দিতেন। শুধু তাই নয়, শায়খের কাছে আগত মেহমানদের ব্যবস্থাপনারও দায়িত্ব ছিল তার।
হযরত মাওলানা মাসীহুল্লাহ খান জালালাবাদি রহ. বলতেন, মাওলানা ইবরাহীম তো হযরত মুফতি সাহেবের খেদমত করে জান্নাত কিনে ফেলেছেন।
সূত্র: হায়াতুল ওলামা ওয়ার্ডপ্রেস ডট কম
















