ইসলামি ধারার গণমাধ্যম: আমাদের পথচলার গল্প

শাহ মুহাম্মাদ খালিদ ।।

একমুখী স্রোতে ভেসে যাচ্ছিল সব, ডুবেও যাচ্ছিল অনেক কিছু। পাশ্চাত্য ধারা ও চেতনার তল্পিবাহী সেই  জোয়ারে মাথা তুলে দাঁড়ানো ছিল দুরূহ ব্যাপার আমাদের জন্য।  আমি প্রিন্ট মিডিয়া যুগের কথা বলছি, যেটা ধীরে ধীরে এখন শেষ হতে চলেছে।

ছাপানো দৈনিক পত্রিকা বিগত ৩০ বছর ধরে একচেটিয়া যে ধারণা ও মতাদর্শ প্রচার করে গিয়েছে, সুযোগ পেলে যেভাবে ইসলামী অঙ্গন ও ঘরানাকে ছাপানো অক্ষরে কোণঠাসা করতে চেয়েছে তা আমরা নিজ চোখে দেখেছি।

পত্রিকা হাতে নিয়ে দেখতাম সরল সংবাদকে তারা নিজেদের মতাদর্শের ছাঁচে ঢেলে কিভাবে গেলাচ্ছে পাঠককে এবং একজন পাঠক কতটা অবচেতনে গোগ্রাসে তা গিলছে। এভাবে আমরা, আমাদের দেশের মানুষেরা এজেন্ডাধারী মুদ্রিত পত্রিকার চোখ দিয়ে দেশ জগত ও বিশ্বকে দেখে এসেছি।

কিন্তু অর্থ, জনবল, ধারাবাহিকতা আর বড় কোন সাপোর্ট— এগুলো মৌলিক পূর্বশর্ত মুদ্রণের পথে এগুনোর জন্য। এর প্রায় সবগুলোতে ঘাটতি থাকায় প্রতিরোধের সে পথে নীতিবান কেউ এগুতে পারেনি। সাপ্তাহিক পাক্ষিক আকারে যা এসেছিল তাও হারিয়ে গেছে অল্প সময়ে। ফলে যোগাযোগ মাধ্যমের বৃহৎ রণক্ষেত্রে নীরব দর্শক হয়ে তামাশা দেখা ছিল আমাদের ভূমিকা। পত্রিকাগুলোর সংবাদ উপস্থাপন দেখে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসত বুকের গহীন থেকে— আমাদের যদি এমন কিছু থাকতো!

পাঠককে আমি সুখবর দিতে চাই। দীর্ঘশ্বাসের দিনগুলো ফুরিয়ে এসেছে। ইন্টারনেট সম্বলিত স্মার্টফোনের সহজলভ্যতা প্রিন্ট মিডিয়াকে কোণঠাসা করে ফেলছে। ঘটনার সংবাদ মানুষ এখন সাথে সাথে জানতে চায়। পরদিন সকালে বাসি সংবাদ পড়ার ধৈর্য ও সময় কোনটাই নেই উৎসুক পাঠকের।

পাঠকের সেই চাহিদা পূরণ করছে অনলাইন মিডিয়া। স্বস্তির ব্যাপার হলো এখানে মিডিয়া মোঘলদের একচেটিয়া দাপট নেই। নেই বড় ধরনের আর্থিক বাজেট কিংবা বিপুল জনবলের পূর্বশর্ত। ফলে উদ্যমী আগ্রহী মানুষদের জন্য এই জগতটি উন্মুক্ত হয়ে উঠেছে। কোটি কোটি পাঠক ঘুরছে অনলাইনে। এখান থেকে খুঁজে খুঁজে সংবাদ পড়ছে তারা। এমতাবস্থায় পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপটই দাবি করছে নতুন কোন উদ্যোগের, স্রোতের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সত্যটা বলে যাওয়ার দীপ্ত শপথের।

আমার মতো বহু তরুণের হৃদয়ে আলোর মিনার হয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে islamtime24.com ।  মান ও  ধারাবাহিকতা বজায় রেখে পাঠক ধরে রাখার মতো সংবাদ বৈচিত্র নিয়ে আসা হচ্ছে বড় চ্যালেঞ্জ। পত্রিকাটি এই বৈতরণী অতি সহজে পার করে চলেছে উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতায় যুক্ত ব্যক্তিদের প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতায়। সরাসরি দ্বন্দ্বে না গিয়ে যুদ্ধটা তারা করে চলেছেন। পাঠক সংখ্যা বাড়ছে দিন দিন। মধ্যপন্থা এবং কোটি জনতার মতাদর্শে গড়া সংবাদগুলো নজর কাড়ছে পাঠকের। এতে ভ্রু কুঁচকে উঠছে অন্যদের। তাদের গো-খাদ্য গ্রহণ না করে পাঠক অন্যদিকে কেন ঝুঁকছে সেই প্রশ্নটা এখন তাদের সামনে পেন্ডুলামের মতো ঝুলছে।

ফলশ্রুতিতে আমরা দেখেছি পথচলায় কিছু জটিলতা, প্রবহমান কাজের মধ্যেই কিছু বিঘ্নতা। এর অর্থ হচ্ছে এটি হরহামেশা চোখে পড়া এবং মন চাইতেই খুলে বসা কোনো পোর্টাল না। সবকিছুর মধ্যেও এটি তার গন্তব্য পথে এগিয়ে চলেছে। এটার কাজ ও অন্তর্নিহিত ভূমিকা বিপরীত মেরুগুলোতেও নজরে এসেছে। সে কারণেই বাধা সৃষ্টির অপচেষ্টা দেখি আমরা মাঝেমধ্যে।

আমাদের জন্য স্বস্তির ব্যাপার হলো বিষাক্ত দৃষ্টি এড়িয়ে, অদৃশ্য নানা প্রতিবন্ধকতা মাড়িয়ে ইসলামটাইমস এগিয়ে চলেছে আপন গন্তব্যে। এ আমাদের সম্পদ, আমাদের গরবের ধন।

পাঠক, ইসলাম টাইমসের গৌরবময় পথচলায় সঙ্গী হোন আপনিও। আসুন আমরা হই আদর্শ পাঠক, নিঃস্বার্থ প্রচারক। দিনে অন্তত একবার বেড়িয়ে যাই পোর্টালের অন্দরমহলে। তাহলে জগতকে আমরা দেখব নিজেদের আয়নায়। সংবাদের মোড়কে বিষ ও বিদ্বেষের যে উপাদান মিশ্রিত থাকে তা থেকে রইব নিরাপদ। “শুরু থেকেই আমি ইসলাম টাইমসের একনিষ্ঠ পাঠক” –একসময়ে যে একথা গর্বভরে বলতে পারব- তা আমি বুকে হাত রেখে বলতে পারি।

লেখক: তরুণ আলেম-গদ্যকার, শিক্ষক

পূর্ববর্তি সংবাদসুনামগঞ্জে গাছের সঙ্গে ঝোলানো শিশুর ক্ষতবিক্ষত লাশ
পরবর্তি সংবাদ‘পশ্চিমা হুমকি সিরিয়ায় তুর্কি অভিযান বন্ধ করতে পারবে না’