আরজু আহমাদ ।।
বর্তমানে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত মূলধারার যে গণমাধ্যম তার অধিকাংশই বড় বড় ইন্ডাস্ট্রি কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এবং সেগুলোর কর্পোরেট মানসিকতার ব্যাপারটা প্রকাশ্য। যেমন কিছুদিন আগে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির কয়েকজন ছাত্রের সাথে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলে বসুন্ধরা গ্রুপের সংবাদমাধ্যমগুলো সিন্ডিকেট করে এ ঘটনাকে সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ বলে রিপোর্ট করেছে। দেশের একটি প্রভাবশালী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সামান্য সংঘর্ষের ঘটনাকে সন্ত্রাসবাদ বলে রিপোর্ট করাটা বুঝিয়ে দেয় অন্যান্য ব্যাপারে তাদের কর্মপন্থা কী হয়? ফলে মূলধারার গণমাধ্যমের উপর যখন সেন্সরশিপ আরোপিত হয় এবং তারা দেশের গণমানুষের অধিকারের ব্যাপারে কথা বলতে পারে না তখন বিকল্প মিডিয়ার প্রয়োজন দেখা দেয়।
বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে বিকল্প সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রয়োজনীয়তা এবং সম্ভাবনা ব্যাপক। প্রচুর পাঠক আছে, যাদের কথা মূলধারার সংবাদমাধ্যমে না আসার কারণে তারা বিকল্প মাধ্যমগুলোর প্রতি নির্ভর করে। ইসলাম ও মুসলমান প্রশ্নে মিডিয়াগুলোর যে অবস্থান সেটা তো কোনো গোপন ব্যাপার নয়। তাই যেসকল সংবাদমাধ্যম বঞ্চিত মানুষদের কথা এবং ইসলাম ও মুসলমানদের কথা বলে যাবে, সামনের দিনগুলোতে মিডিয়া হিসেবে তারা সমাদৃত হবে।
মূলধারার গণমাধ্যমের সুযোগ-সুবিধের বিপরীতে বিকল্প সংবাদমাধ্যমগুলোর অনেক সংগ্রাম করে এগুতে হয়। এখানে অর্থনৈতিক সংকট থাকে, দক্ষ কর্মীর অভাব দেখা দেয়। তবে ত্যাগের মানসিকতা থাকলে অর্থনীতি বড় ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে না এবং কাজ করতে করতেই কর্মীরা মানসম্পন্ন হয়ে উঠবে।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে অনলাইন কেন্দ্রিক ইসলামি ঘরানার মিডিয়ার উপস্থিতি বাড়ছে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে ইসলাম ও মুসলমান প্রশ্নে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা অনেক। ইসলামি ঘরানার সংবাদমাধ্যমগুলো যদি পারস্পরিক সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব এবং স্বাতন্ত্র্যবোধ বজায় রেখে সামষ্টিকভাবে কাজ করে যায় তাহলে দেশের মূলধারার গণমাধ্যমের উপর একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ইসলাম টাইমস টোয়েন্টি ফোর ডটকম। প্রচলিত বিকল্প সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে এ পোর্টালটিকে আমার পড়া অনুযায়ী বস্তুনিষ্ঠ মনে হয়েছে। আমার প্রত্যাশা থাকবে, ইসলাম টাইমস যেন দেশের গণমানুষের কথা বলবার মাধ্যম হয়ে উঠে। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করার মাধ্যমে মূলধারার গণমাধ্যমকে চ্যালেঞ্জ করার মতো প্রতিষ্ঠিত হয়ে উঠে।
লেখক: লেখক, কলামিস্ট
(শ্রুতিলিপি)
















