ভারতের পত্রিকাগুলোতে একতরফাভাবে প্রকাশ করা হল বিএসএফ নিহতের খবর

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: রাজশাহী সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফ-এর গোলাগুলির সময় এক বিএসএফ সদস্য নিহত হবার ঘটনাটি আক্রমণাত্বক এবং একতরফাভাবে প্রকাশ করা হয়েছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমগুলোতে। ভারতের বহুল প্রচারিত সংবাদ মাধ্যমগুলোতে আজ শুক্রবার প্রথম পাতায় স্থান করে নিয়েছে এই খবরটি।

অথচ গত ১০ বছরে সীমান্তে প্রাণ হারিয়েছেন ৩১৯ বাংলাদেশি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিজিবি উদ্যোগী হয়ে পতাকা বৈঠক ডেকেছে। চেষ্টা করেছে সমস্যা সমাধানের।

ঘটনা সম্পর্কে ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলোতে বিএসএফ-এর দেয়া ভাষ্যকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। যদিও একই সংবাদে তারা বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর ভাষ্যও যুক্ত করেছে।

তবে বিজিবি এবং বিএসএফ-এর দাবি পরস্পরবিরোধী। বিজিবি কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রথমে বিএসএফ-এর তরফ থেকেই গুলি করা হয়, অন্যদিকে বিএসএফ বলছে তাদের জওয়ানরা গুলি করেনি।

বিএসএফকে উদ্ধৃত করে আনন্দবাজার লিখেছে, “আটক হওয়ার পরে মৎস্যজীবীরা বলেছিলেন যে, ভারতীয় সীমান্ত-রক্ষীদের অনুমতি নিয়েই পদ্মার ওই অংশে মাছ ধরতে এসেছেন তারা। শুনে বিজিবি-র জওয়ানেরা প্রণবকে আটকে রেখে অন্য দু’জনকে বলেন, ”তোরা বিএসএফকে ডেকে আন। তার পরে ওকে ছাড়ব।”

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে গুলিতে নিরাপত্তা বাহিনীর কারও এভাবে মৃত্যুর নজির স্মরণকালে নেই বলে উল্লেখ করে আনন্দবাজার পত্রিকা।

বিএসএফকে উদ্ধৃত করে এনডিটিভি বলেছে, পতাকা বৈঠকে বাংলাদেশের সীমান্ত-রক্ষীরা ভারতীয় জেলেকে ছাড়তে অস্বীকৃতি জানায় এবং বিএসএফ সদস্যদের ঘিরে ফেলার চেষ্টা করে।

পরিস্থিতির অবনতি আঁচ করে বিএসএফ সদস্যরা যখন ফিরে যাচ্ছিল তখন বিজিবি গুলি ছোঁড়ে বলে উল্লেখ করে এনডিটিভি।

কলকাতার বাংলা দৈনিক ‘এই সময়’ তাদের প্রথম পাতায় এই সংবাদটিকে স্থান দিয়ে শিরোনাম করেছে, “বাংলাদেশের গুলিতে নিহত এক জওয়ান।”

ভারতের অন্যতম শীর্ষ সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রথম পৃষ্ঠায় চার কলাম জুড়ে প্রধান শিরোনাম হয়েছে এই খবর। রিপোর্টে বলা হয়, পতাকা বৈঠকের পর বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীরা বিএসএফকে গুলি করেছে এবং এতে এক জওয়ান নিহত হয়েছে।

বিএসএফকে উদ্ধৃত করে টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, কোন রকম উস্কানি ছাড়াই গুলি ছোঁড়া হয়েছে এবং এ ধরনের ঘটনা নজিরবিহীন।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ভারতের তিনজন জেলে মাছ ধরার সময় পদ্মানদীর সীমান্ত পেরিয়ে মাছ ধরার জন্য বাংলাদেশে ঢুকেছিল।

প্রতিবেদনটিতে আরো উল্লেখ করা হয় যে মুর্শিদাবাদের অনেক এলাকায় নদীতে সীমান্ত পিলার দৃশ্যমান নয়। ফলে ধারণার উপর ভিত্তি করে সীমান্ত ধরে নেয় জেলেরা। সেজন্য বিভিন্ন সময় ভারত এবং বাংলাদেশের জেলেরা নদীর মাঝখানে সীমান্ত অতিক্রম করে।

কলকাতার পত্রিকা আনন্দবাজার শিরোনাম করেছে, “পদ্মার বুকে গুলি, মৃত্যু জওয়ানের।” পত্রিকাটি তাদের প্রথম পাতায় উপরের দিকে বেশ গুরুত্বের সাথে এই সংবাদটি পরিবেশন করেছে।

 

 

পূর্ববর্তি সংবাদযুবলীগের দায়িত্ব পেলে ভিসি পদ ছেড়ে দিতে রাজি ড. মীজান
পরবর্তি সংবাদ১৮ বছরের কম বয়সী পাত্রীর বিয়ে পড়ানোর ‘অপরাধে’ ভোলায় কাজিকে পাঠানো হলো জেলে