শিশুর প্রতিপালন : ইয়েমেনের কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি

মুহাম্মদ আসলাম ।।

#সর্বপ্রথম সন্তান সম্ভবা মা এ বিষয়টি নিশ্চিত করবেন যে তিনি যা খাচ্ছেন তার প্রতিটি লোকমা হালাল। যারা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান তারা বেশি বেশি আয়াতুল কুরসী, সূরা ফালাক, সূরা নাস এবং বিভিন্ন আত্মরক্ষামূলক দোয়া পড়বেন ।

#যখন সন্তান কথা বলতে শিখে তখন তাকে শেখাবেন,  আমি আল্লাহকে রব হিসেবে  পেয়ে সন্তুষ্ট। ইসলামকে ধর্ম হিসেবে এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নবী হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট।

#মা বাবা সন্তান কে ভালো কাজের গুরুত্ব শেখাবেন।নেক কাজের ভালোবাসা অন্তরে বদ্ধমূল করবেন। মা বাবা সন্তানকে আল্লাহর কাছ থেকে সবকিছু চেয়ে নিতে শিখাবেন । যদি কোন শিশু কোন কিছু তায় তাহলে বাবা প্রথমে তাকে বলবেন, আগে অজু করো । তারপর দু’রাকাত নামাজ পড়ো । তারপর আল্লাহর কাছে তোমার প্রয়োজনীয় জিনিস চাও। এটি করার পর সন্তান যা চেয়েছে তা তাকে দিবেন। এবং তাকে বলবেন যে আল্লাহ তোমার দোয়া কবুল করেছেন।

#প্রত্যেক শিশুকে বাড়িতে কোন একটি কাজ ঠিক করে দিবেন। যেমন একজনকে দোকান থেকে কোন জিনিস কেনার দায়িত্ব দিবেন । অপরজনকে ঘর পরিষ্কার করার দায়িত্ব দিবেন।  আরেকজনকে মেহমানদের সামনে খাবার পরিবেশনের দায়িত্ব দিবেন।

#মা বাবা প্রতিদিন অথবা প্রত্যেক সপ্তাহে ঘরের সদস্যদের কে নিয়ে একবার একত্রে বসবেন। সেখানে তারা কুরআন তেলাওয়াত করবেন এবং হাদিসের কোন কিতাব থেকে পড়বেন।

#সন্তানদেরকে বিশেষ কোন দিন বা মাসের আগেও তাদেরকে জমা করতে পারেন এবং তাদেরকে জিজ্ঞাসা করবেন, তাদের কি পরিকল্পনা রয়েছে? যেমন, এই রমজানে তুমি কয় খতম তেলাওয়াত করবে? কী পরিমাণ অর্থ আল্লাহর রাস্তায় খরচ করবে?

#যখন সন্তানদের কেউ প্রাপ্তবয়স্ক হবে, তখন বাবার উচিত, এলাকার গণ্যমান্য এবং শিক্ষিত লোকদেরকে দাওয়াত করা। তাদের সাথে নিজ সন্তানকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। এবং একথা বলে দেওয়া যে , সে এখন থেকে আইনগতভাবে দায়িত্বশীল। এখন তার দুই কাঁধে দুই ফেরেশতা রয়েছেন যারা তার সব ভালো ও মন্দ কাজ লিপিবদ্ধ করছেন।

#মা বাবা কন্যা সন্তানের শিক্ষার প্রতি বেশি গুরুত্ব দিবেন। কারণ মেয়েরা তাদের সিংহভাগ সময় ঘরে কাটায় ।প্রকৃতপক্ষে মেয়েদেরকে শিক্ষাদীক্ষা দেওয়া এবং বড় করার অর্থ হচ্ছে নিজের পরবর্তী প্রজন্মকে শিক্ষিত করা

#মা-বাবা তাদের সন্তানকে যত শীঘ্রই সম্ভব বিয়ে করিয়ে দিবেন। যাতে তারা কোন ধরনের অন্যায়মূলক কাজে জড়িয়ে না পড়ে।

আল্লাহ আমাদের সন্তানদের উপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তাদেরকে সকল ভাল কাজের তাওফিক দান করুন আমিন।

লেখকের ফেইস বুক থেকে অনুবাদ: এনাম হাসান জুনাইদ

 

 

পূর্ববর্তি সংবাদতিন দিন পর আকাশে রোদ
পরবর্তি সংবাদকাশ্মিরের শ্রীনগরে গ্রেনেড হামলা, আহত ৬ ভারতীয় পুলিশ