সিরাত থেকে ।। অবশেষে মানতে হলো

মুহাম্মাদ ইরফান জিয়া ।।

ছেলেটা ছিলো ইয়াহুদী। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খাদেম। বেশ কিছুদিন ধরেই সে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমত করছিলো।

একদিন হঠাৎ সে অসুস্থ হয়ে পড়লো। রোগীর শুশ্রুষায় উপস্থিত হওয়া নবীজীর অনুপম আদর্শ। হোক সে ইয়াহুদী বা খৃস্টান বা যেকোনো ধর্মের। সেই অসুস্থ বালকের খোঁজ খবর নিতে রওয়ানা হলেন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। সাথে কয়েকজন সাহাবী।

সেখানে পৌঁছে নবীজী দেখলেন, ছেলেটির পিতা তার মাথার সামনে দাঁড়ানো। তাওরাত পাঠ করছে।

নবীজী সুস্পষ্টভাবে জানতেন, তাঁর বর্ণনা তাওরাত-ইঞ্জিলে আছে। তিনি ইয়াহুদীকে তাওরাত পাঠরত পেয়ে তাকে দিয়ে কথাটা স্বীকার করাতে চাইলেন।

ইয়াহুদীরা হযরত মূসা আ. কে নবী মানার দাবি করে। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়াহুদীকে মূসা আ. -এর রবের কসম দিলেন। বললেন, ‘হযরত মূসা আ.-এর ওপর তাওরাত নাযিলকারী রবের শপথ, সত্যি করে বলোতো, আমার কথা কি তাওরাতে নেই? আমার আবির্ভাবের বর্ণনা কি তোমরা সেখানে পাও না?

কিন্তু না, মূসা আ. -এর রবের কসমও সে ইয়াহুদীর মধ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করলো না। সে পরিস্কার অস্বীকার করে বসলো। বাবার এই অসত্যকথন দেখে ছেলে স্থির থাকতে পারলো না। সে বলে উঠলো, হে আল্লাহর রাসূল, আপনার গুণাবলীর কথা, আপনার আবির্ভাবের কথা সবই আমরা তাওরাতে পেয়েছি।

সহজ সরল এ স্বীকারোক্তির পর ছেলেটির হেদায়াতের দরজা খুলে গেলো। কেটে গেলো জমে থাকা মেঘের আঁধার। উচ্চ কণ্ঠে বলে উঠলো, আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ওয়া আন্নাকা রাসূলুল্লাহ।

*ইসলামী যিন্দেগী: ১৮১, দালায়েলুন নবুওয়াহ: ৬/২৭২, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৫/১৭৮।

পূর্ববর্তি সংবাদআন্দোলনকারীদের পিটিয়ে ছত্রভঙ্গ করায় ছাত্রলীগের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন জাবি ভিসি
পরবর্তি সংবাদআযাদি মার্চ : পাকিস্তানে সরকার এবং বিরোধীপক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থান বহাল