পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়াতে চায় বিইআরসি

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ২৩ দশমিক ২৭ শতাংশ এবং পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) সঞ্চালন মাসুল ৫০ দশমিক ৭৭ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। তবে এসব প্রস্তাব পর্যালোচনা করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি বিদ্যুতের দাম ১৯ দশমিক ৫০ শতাংশ ও সঞ্চালন মাসুল ৬ দশমিক ৯২ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ও বিকালে পিডিবি ও পিজিসিবির দর ও সঞ্চালন মাসুল বৃদ্ধি নিয়ে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) অডিটরিয়ামে। এতে এবারই প্রথম রাজনৈতিক দল বিএনপির প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন। আগামী বছর বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ে এ গণশুনানির আয়োজন করেছে বিইআরসি, চলবে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত।

পাইকারি মূল্যের ওপর শুনানি

শুনানিতে পাইকারি বিদ্যুতের দাম ২৩ দশমিক ২৭ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাবসংবলিত আবেদনে পিডিবি বলেছে, ২০২০ সালে বিদ্যুতের দাম না বাড়ালে তাদের ৮ হাজার ৬০৮ কোটি টাকা লোকসান হবে। কারণ তখন বিদ্যুৎ বিক্রি করে সম্ভাব্য আয় হবে ৩৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকা আর ব্যয় হবে ৪৫ হাজার ২০৮ কোটি টাকা। এ যুক্তি তুলে ধরে পিডিবি বলছে, প্রতি ইউনিট পাইকারি বিদ্যুতের দাম ১ দশমিক ১১ টাকা বাড়ানো হোক।

আর বিইআরসির কারিগরি কমিটি বলছে, ইউনিটপ্রতি সর্বোচ্চ ৯৩ পয়সা বাড়ানো যেতে পারে। শুনানিতে পিডিবির পক্ষ থেকে প্রস্তাব উত্থাপন করেন জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) কাউসার আমীর আলী। অন্যদিকে মূল্যায়ন কমিটির পক্ষে সুপারিশ তুলে ধরেন কমিশনের উপপরিচালক (ট্যারিফ) মো. কামরুজ্জামান।

সঞ্চালন মূল্যবৃদ্ধির শুনানি : আগামী বছর কোম্পানির কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হলে সঞ্চালন মাসুল ৫০ দশমিক ৭৭ শতাংশ বৃদ্ধি করতে হবে জানিয়ে পিজিসিবি বলছে, ইউনিটপ্রতি শূন্য দশমিক ১৪১৫ টাকা বৃদ্ধি করা হোক। কিন্তু কমিশন বলছে, সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ০১৯৩ টাকা বাড়ানো যেতে পারে। শুনানিতে পিজিসিবির পক্ষে প্রস্তাব তুলে ধরেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম কিবরিয়া। তিনি বলেন, এককভাবে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের ক্ষেত্রে নতুন নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে এতে তাদের ব্যয় বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে তাদের সঞ্চালন মাসুল না বৃদ্ধি করলে বিপাকে পড়তে হবে।

দাম বাড়ানোর ব্যাখ্যা চেয়েছে বিএনপি

প্রথমবারের মতো গণশুনানিতে অংশ নিয়ে বিএনপির প্রতিনিধি হিসেবে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল গ্যাসের দাম বাড়লেও বিদ্যুতের দাম বাড়বে না- সরকারের এমন বক্তব্যের পরও ফের কেন দাম বাড়ানো হচ্ছে তার ব্যাখ্যা চেয়েছেন। আলাল কমিশনকে মনে করিয়ে দেন, ২০১৮ সালে গ্যাসের দাম বাড়ানোর শুনানিতে কমিশন বলেছিল, গ্যাসের দাম বাড়লেও বিদ্যুতের দাম বাড়বে না। তা হলে এখন কেন বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর শুনানি হচ্ছে।

এর জবাবে কমিশনের সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, এ বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত দাম না বাড়ানোর কথা বলা হয়েছিল, বাড়েনি। গ্যাসের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে এলএনজি (তরলিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানির কথা বলা হয়েছিল। এলএনজি আসায় বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ কমেছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে আলাল বলেন, জেলখানায় না গেলে আবার শুনানিতে এসে এসব কথা মনে করিয়ে দেব। তিনি বলেন, কুইকরেন্টালের মেয়াদ নিয়ে প্রশ্ন করলে পিডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, কুইকরেন্টালের একেকটির মেয়াদ একেক সময়ের। ফলে একই সঙ্গে সব বন্ধ হবে না। এ সময় আলাল প্রশ্ন করেন, তা হলে কি অনন্তকাল ধরে এসব চুক্তি চলতে থাকবে?

তিনি বলেন, অনন্তকাল ধরে দেশে কুইকরেন্টাল কালচার চলতে পারে না। কবে নাগাদ রেন্টাল কেন্দ্র বন্ধ হবে পিডিবি সুনির্দিষ্ট করে বলতে না পারায় আলাল বলেন, মানুষ কোমায় থাকলে নির্দিষ্ট করে বলা যায় না কখন কী হবে। এ ক্ষেত্রে পুরো জাতি কি কোমায় চলে গেছে?

শুনানিতে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সামসুল আলম বলেন, বিদ্যুতের মূল্য কী করে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা যায়, সেই চেষ্টা কখনো করা হয় না। এতে বারবার দামবৃদ্ধি করতে হয়।

কমিশনের সদস্য আবদুল আজিজ খানকে নিয়ে প্রশ্ন

সাম্প্রতিক সময়ে কমিশনের এক সদস্যকে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বহুল আলোচিত দুদকের করা কয়লা চুরির মামলায় কমিশনের সদস্য আবদুল আজিজ খান চার্জশিটভুক্ত আসামি। একই মামলাতে জ্বালানি মন্ত্রণালয় কাউকে কাউকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে। কেউ কেউ জেলেও রয়েছেন। শুনানিতেও প্রশ্নের মুখে পড়ে কমিশন।

বাংলাদেশ লেবার পার্টির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ইরান কমিশনকে প্রশ্ন করেন, চার্জশিটভুক্ত আসামি বিইআরসির সদস্য আবদুল আজিজ খানকে পাশে বসিয়ে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির এ গণশুনানিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে কিনা?

কমিশনের চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম বলেন, বিষয়টি আদালতের। এটি আদালতে নিষ্পত্তি হবে। এ বিষয়ে কমিশনের কিছু করণীয় নেই। সাংবাদিক সেরাজুল ইসলাম কমিশনকে প্রশ্ন করেন, বিইআরসির আইন অনুযায়ী একজন অভিযুক্ত শুনানি করতে পারে কিনা? কমিশন এর জবাব দেয়নি।

প্রসঙ্গত, সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পিডিবির প্রস্তাবিত পাইকারি মূল্যহার পরিবর্তনের ওপর গণশুনানি হয়। এর পর বেলা ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) প্রস্তাবিত সঞ্চালন মূল্যহার পরিবর্তন নিয়ে শুনানি হয়। আবার আগামী রবিবার থেকে শুরু হয়ে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিতরণ কোম্পানিগুলোর খুচরা মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবের ওপর শুনানি হবে।

পূর্ববর্তি সংবাদকানাইঘাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত
পরবর্তি সংবাদইরাকে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ২৫ বিক্ষোভকারী নিহত