গাজীপুরে নবীন বরণ অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা, দুই পক্ষের হাতাহাতিতে আহত ১০

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: গাজীপুরের জয়দেবপুরে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে দুই পক্ষের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।  এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকসহ আহত হন অন্তত ১০ থেকে ১৫জন। দুজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মিলনায়তনের ডেকোরেশনের দায়িত্বে থাকা ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, অনুষ্ঠান চলাকালে মাগরিবের আজানের জন্য বিরতি দেওয়া হয়। নামাজের কিছুক্ষণ পর দুই যুবকের সঙ্গে কলেজের শিক্ষার্থীদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ওই দুই যুবককে কলেজের শিক্ষার্থীরা মারধর করে। এর মধ্যে একজন ঘটনাস্থল থেকে কোনো রকম ছুটে যায়। ততক্ষণে অন্য যুবকটিও মার খেতে থাকে।

জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমি কলেজশিক্ষককে বারবার বলছি তাদের শান্ত করার জন্য। কিন্তু তারপরও তারা শান্ত করেনি। এর কিছুক্ষণ পরই বাইরে থেকে কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ জন হাতে রাম দা, লাঠিসোঁটা, চাপাতি নিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। সামনে যাদের পাইছে তাদেরই আঘাত করছে। ভাঙচুরে অডিটোরিয়ামের সব শেষ।’

এদিকে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বলা হয়,  মিলনায়তনটিতে আজ সকাল থেকে ‘ইনস্টিটিউট অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলোজি’ নামের একটি কলেজের নবীনবরণ ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান চলছিল। বিকেল থেকে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

সন্ধ্যার পর হঠাৎ একদল যুবক হাতে রাম দা, লাঠিসোঁটা, চাপাতি নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে অতর্কিত হামলা চালায়। মিলনায়তনের দরজা-জানালা, চেয়ারসহ বিভিন্ন আসবাব ভাঙচুর করে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের কেউ দায়ের আঘাতে, কেউ লাঠির আঘাতে আবার কেউবা চাপাতির আঘাতে আহত হয় । অনেকে হামলা থেকে বাঁচাতে মিলনায়তনের সিঁড়ি , শৌচাগারসহ বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নেন। প্রায় আধা ঘণ্টা চলে এমন তাণ্ডব।

এ ব্যাপারে গাজীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর ভূঁইয়া বলেন, ‘হামলার সঙ্গে কে কারা কারা জড়িত তা তা তদন্ত করে বের করার চেষ্টা চলছে। আর এ ধরনের অনুষ্ঠান করার আগে আমাদের পুলিশ প্রশাসনের অনুমতি নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষ তা করেনি।’

 

 

 

পূর্ববর্তি সংবাদএবার পেট্রোল পাম্পে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট
পরবর্তি সংবাদউবারের মোটরসাইকেল থেকে পড়ে ইডেনের ছাত্রী আইসিইউতে