হিন্দু নেপালে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় রক্তাক্ত’ উৎসব ‘গাধিমাই’

ইসলাম টাইমস ডেস্ক : ইসলাম সৌন্দর্য এর ধর্ম। ইসলাম দয়ার ধর্ম। ইসলামের প্রতিটি বিধানে সৌন্দর্য ও দয়া  খুঁজে পাওয়া যায়। কোরবানীর পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রেও ইসলামের বিধান হচ্ছে,  যখন পশু জবাই করবে তখন খেয়াল রাখবে, পশুর যেন কষ্ট না হয়। কোরবানীর পশুর জবাই যেন পশুর জন্যে আরামদায়ক হয় সেজন্য রাসূল সল্লাল্লাহু বিশেষভাবে নির্দেশ দিয়েছেন।

ইসলামের এই সৌন্দর্যটি আরও উজ্জ্বলভাবে ফুটে ওঠে যখন অন্য ধর্মের বলি দান উৎসবের দৃশ্য সামনে আসে। আল জাযিরা ও বিবিসি গতকাল নেপালে  ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় রক্তাক্ত’ উৎসব পালিত হয়েছে বলে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ‘গাধিমাই উৎসব’ নামে পরিচিত  হিন্দু ধর্মের এ উৎসবে মহিষ, ছাগল, ইঁদুর, মুরগি, শুকর আর কবুতর বলি দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর কম সময় আগে নেপালের হিন্দু ধর্মীয় পশু বলিদান প্রথার সমাপ্তি ঘোষণা করেছিল নেপালের প্রাণি দাতব্য সংস্থাগুলো। কিন্তু গতকাল থেকে সেটি আবার চালু হয়েছে।

নেপালের প্রত্যন্ত ওই এলাকা ঘুরে আসা একজন প্রাণী অধিকার কর্মী বলছেন, এরপরে সেখানে কয়েক হাজার মহিষ হত্যা করা হয়।

২০১৪ সালের সর্বশেষ উৎসবে প্রায় দুই লাখ প্রাণী হত্যা করা হয়েছিল।

এই প্রথার শুরু হয় প্রায় আড়াইশো বছর আগে থেকে। তখন একজন পুরোহিত বলেছিলেন যে, তিনি স্বপ্নে দেখতে পেয়েছেন, শক্তির দেবী গাধিমাই তাকে বলেছেন যে, কারাগার থেকে তাকে মুক্ত করতে হলে রক্ত ঝরাতে হবে। সেই থেকে শুরু হয়েছে এ সহিংস গাধিমাই বলিদান প্রথা।

 

২০১৫ সালে হিউম্যান সোসাইটি ইন্টারন্যাশনাল এবং অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার নেটওয়ার্ক নেপাল বিজয় ঘোষণা করে জানায় যে, পশু বলিদান নেপালে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তবে বারিয়ারপুর গাধিমাই মন্দিরের চেয়ারম্যান রাম চন্দ্র শাহ বিবিসিকে বলছেন, এ ধরণের কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

”ভক্ত হিন্দুদের অনুরোধ করা যেতে পারে যাতে তারা দেবীর উদ্দেশ্যে পশু বলি না দেন। কিন্তু সেজন্য তাদের বাধ্য করা যাবে না এবং এই রীতিও পুরোপুরি নিষিদ্ধ বা বন্ধ করা যাবে না।” তিনি তখন বলেছিলেন।

দুই দিনব্যাপী এই উৎসবটি শুরু হওয়ার আগে পশুর আনা-নেয়া আটকে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। অনুমোদন ছাড়া সীমান্ত দিয়ে পশু পারাপার করার সময় সেগুলো জব্দ করতে শুরু করে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।

নেপালের সরকারও কোনরকম সহায়তা করেনি বলে জানিয়েছেন উৎসবের চেয়ারম্যান মোতিলাল কুশোয়া।

তা সত্ত্বেও নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে বারিয়ারপুরের মন্দিরে পশু আনা হতে থাকে। মঙ্গলবার ভোর থেকে ২০০ কসাই তাদের কাজকর্ম শুরু করার জন্য প্রস্তুতি নেয়।

উৎসব শুরু হওয়া সত্ত্বেও প্রাণি অধিকার কর্মীরা এখনো আশা করছেন যে, তাদের বার্তা সবার কাছে পৌঁছে গেছে।

হিউম্যান সোসাইটি ইন্ডিয়া বলছে, তাদের পরিচালক আলোকপর্ণা সেনগুপ্তা ওই মন্দিরের পুরোহিতকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছেন।

তবে তার আবেদনটি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। কিন্তু উৎসবে অংশ নেয়া বেশ কয়েকজন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এ বছর তারা কোন প্রাণি বলি দেবেন না।

এসব দেখে অধিকার কর্মীরা বলছেন, হয়তো কিছু পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে।

”অধিকার কর্মীদের দাবিদাওয়ার ফলে সরকারের পাশাপাশি মন্দিরের কমিটিও একটা ধাক্কা খেয়েছে। উৎসবে যতো প্রাণি বলি দেয়া হতো, তার সংখ্যা ধীরে-ধীরে কমে আসছে,” বলছেন অ্যানিম্যাল ইকুয়ালিটি ইন্ডিয়ার কর্মকর্তা অমৃতা উবালে।

বিবিসি, আল জাযিরা অবলম্বনে

পূর্ববর্তি সংবাদমিরপুর হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার ১ : ‘ফ্লাটে অপরিচিত তরুণ-তরুণীর আনাগোনা ছিল’
পরবর্তি সংবাদদ্রবমূল্যের উর্ধ্বগতি মানুষের জীবনকে চরম দূর্বিষহ করে তুলেছে : অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমাদ