গণহত্যা এবং ধর্ষণের খবর ধামাচাপা দিতে নানা কৌশল করেছে সু চির দপ্তর : আইসিজেতে আইনজীবী

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: রোহিঙ্গাদের শান্তির সন্ধানে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় বেলা তিনটায় বিচারের শুনানি শুরু হয়েছে।

শুনানিতে রোহিঙ্গাদের হয়ে লড়ছেন সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের আইনজীবী তাফাদজ পাসিপান্দো। তিনি বলেন, গণহত্যা এবং রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণের কথা ধামাচাপা দিতে নানা কৌশল করেছে সু চি দপ্তর। ধর্ষণের খবর অস্বীকার করতে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি বলেছেন, সেনাবাহিনী এবং বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর কেউ নোংরা বাঙালি মেয়েকে ছোঁবে না। ওরা আকর্ষণীয় নয়। এই আইনজীবী বলেন, ফেসবুকে ‘ফেক রেপ’ নামে যে পেজ খোলা হয়েছে, সেটির নিয়ন্ত্রণও হচ্ছে স্টেট কাউন্সিলরের দপ্তর থেকে।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যা চালিয়ে মিয়ানমার বৈশ্বিক সনদ লঙ্ঘন করেছে কি না, তার বিচারই আইসিজের এই শুনানির উদ্দেশ্য। একই শহরের ১০ কিলোমিটারের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি), যেখানে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে এর আগে উত্থাপিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন।

যুক্তরাষ্ট্রের আইনজীবী তাফাদজ পাসিপান্দো এরপর আদালতের কাছে আরাকানে এখনো যে ছয় লাখ রোহিঙ্গা আছেন, তাদের দুর্ভোগ ও ঝুঁকির কথা তুলে ধরেন। পাসিপান্দো বলেন, সেখানে রোহিঙ্গাদের কাঁটাতারের বেষ্টনীর মধ্যে শিবিরে আটক রাখা, চলাচলের স্বাধীনতা খর্ব করা ও অন্যান্য বিধিনিষেধের কথা, যা জাতিসংঘ তদন্তে উঠে এসেছে, সেগুলোর বিবরণ দেন।

এই আইনজীবী বলেন, রোহিঙ্গাদের চাষাবাদের জমি কেড়ে নেওয়া হয়েছে, খাদ্য সরবরাহ কমানো হয়েছে, তাঁদের পালিত পশু কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে জাতিসংঘ তদন্তে যে তথ্য উঠে এসেছে, তার উদ্দেশ্য হচ্ছে তাদের অভুক্ত রাখা। এগুলো গণহত্যার উদ্দেশ্য হিসেবে সনদের লঙ্ঘন। আরও গণহত্যার অপরাধ যাতে না ঘটে, সে জন্য ব্যবস্থা নিতে পারেন এই আদালত। তিনি বিভিন্ন প্রমাণ তুলে ধরে বলেন, এগুলোয় গণহত্যার উদ্দেশ্যের প্রতিফলন ঘটেছে। এরপর তিনি তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।

পূর্ববর্তি সংবাদমৃত্যু শয্যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কাদিয়ানীদের নিয়ে যা বললেন আল্লামা আশরাফ আলী (ভিডিও)
পরবর্তি সংবাদহজ বিষয়ে ইরান ও সৌদি আরবের মাঝে সমঝোতা স্বাক্ষর