রাজপথে ভারতের শুভবুদ্ধি: গন্তব্য কোথায়?

আবু তাশরীফ ।।

এনআরসি ও ক্যাব নিয়ে প্রতিবাদ-বিক্ষোভে তোলপাড় ভারতে। সাম্প্রদায়িক ক্ষমতাসীন বিজেপির পাশ করা আইনের বিরুদ্ধে দেশজুড়েই চলছে বিক্ষোভ। প্রথম দিকে আসাম, ত্রিপুরা ও মেঘালয়সহ দেশটির পূর্বাঞ্চলে এই প্রতিবাদ চললেও গত দুদিন ধরে আন্দোলনের ঢেউ আছড়ে পড়েছে দিল্লি, পশ্চিমবঙ্গসহ গোটা ভারতেই। মুসলিম বিদ্বেষী নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে ভারতে চলমান এই আন্দোলনে একাকার হয়ে ভূমিকা রাখছেন বহু অমুসলিম রাজনীতিক ও সাধারণ মানুষ।

বিশেষত ১৫ ডিসেম্বর রোববার রাতে দিল্লির জামিয়া মিল্লিয়া ও আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদরত ছাত্রছাত্রীদের ওপর বেধড়ক পুলিশি হামলার পর ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। ১৬ ডিসেম্বর সোমবার এটাই ছিল ভারতের প্রধান খবর। এসব দেখে অনেকেই বলছেন, সাম্প্রদায়িকতার পাঁকে ডুবে যাওয়া ভারতকে উদ্ধার করতে বিভিন্ন ধর্ম ও দল-মতের শুভ-বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষেরা এখন রাজপথে নেমে এসেছেন। তারা হয়তো চাইছেন উগ্র হিন্দুত্ববাদের বিষাক্ত বিভাজন ও দেশ ধংসের আয়োজন থেকে দেশটিকে রক্ষা করতে।

কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, সিপিআইএম, সমাজবাদী পার্টি, আরজেডির মতো বিরোধী দলগুলো একমঞ্চে উঠে এই নাগরিকত্ব বিলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।তারা সমর্থন দিয়েছে চলমান প্রতিবাদ-বিক্ষোভেও। ভারতজুড়ে বিজেপির পাশাপাশি আরএসএস, শিবসেনা, বিশ্বহিন্দু পরিষদ ও বজরং দলের মতো কট্টর উগ্রবাদী ও মুসলিম-উচ্ছেদকামী অজস্র অপশক্তির জোয়ারের মধ্যেও ভারতকে রক্ষায় এই শুভবুদ্ধিজাত প্রতিবাদ-বিক্ষোভ পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি কেড়েছে। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ভারত বিভাজনের আগুন নেভানোর জন্য এছাড়া অন্য কোনো উপায় হয়তো কংগ্রেসসহ বিজেপি-বিরোধী অন্যান্য দলের সামনে ছিল না, শুভবুদ্ধি সম্পন্ন অরাজনৈতিক মানুষদের সামনেও নেই। তাই তারা নেমে এসেছেন রাজপথে। এতে একদিকে তারা যেমন অধিকার বঞ্চিত মুসলমানদের প্রতি সংহতি প্রকাশের মতো মানবিকতার পরিচয় দিচ্ছেন, অপরদিকে ‘ভাঙন’ থেকে দেশটিকেও রক্ষার শেষ চেষ্টা চালাচ্ছেন।

কিন্তু রাজপথে নেমে আসা রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক এই সব শুভবুদ্ধিজাত প্রতিবাদ নিয়ে কট্টর সাম্প্রদায়িক বিজেপির বিকারে তেমন কোনো হেরফের দেখা যাচ্ছে না। মুখের গরম ভাষা, পুলিশি নির্যাতন ও প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণেই তাদের বেশি মনোযোগী মনে হচ্ছে। চারদিকে আগুন লাগিয়ে দিয়ে ‘গুজরাটের কসাইজি’ শান্তি বজায় রাখার আহবান জানিয়ে বক্তব্য ঝাড়ছেন। এজন্যই এখন বলা মুশকিল- এনআরসি-ক্যাবের এই পাগলযাত্রা শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামবে? বলা যাচ্ছে না- ভারতের রাজপথে শুভবুদ্ধির এই পথচলা কোন গন্তব্যে গিয়ে দাঁড়াবে?

এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে সময়ই হয়তো প্রকৃত সহযোগীর ভূমিকা রাখবে।

 

পূর্ববর্তি সংবাদ‘ভারতের কত চমৎকার আইন! আমাদের জরিমানা ২১ হাজার আর নিতাই দাদাদের ১০০ টাকা’
পরবর্তি সংবাদফের কাশ্মীর সীমান্তে উত্তেজনা, গোলাগুলিতে দুই ভারতীয় সেনা নিহত