ইসলাম টাইমস ডেস্ক : হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও হাটহাজারী মাদরাসার সহযোগী পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেছেন,ইসলাম একমাত্র শান্তির ধর্ম।হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশ্ববাসীর জন্য রহমত স্বরূপ ধরনী বুকে আগমন করেছিলেন।ইসলাম সকলকে শান্তির বার্তা দেয়।বর্তমান সময়ে একমাত্র শান্তির ধর্ম ইসলামের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী চতুর্মুখী ষড়যন্ত্র চলছে।এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় ওলামায়ে কেরাম ও এবং তৌহিদীর সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
জামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগরে জামিয়া ওবাইদিয়া নানুপুর মাদরাসার দুইদিন ব্যপী (১৯-২০ ডিসেম্বর) বার্ষিক মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন তিনি।
আল্লামা বাবুনগরী বলেন,ভারতে মুসলমানদের উপর একের পর এক ষড়যন্ত্রে হচ্ছে।উগ্র হিন্দুত্ববাদী জালিম মোদি সরকার ভারতের মুসলমানদের ওপর অমানবিক জুলুম নির্যাতন করছে। ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলুপ্তির মাধ্যমে কাশ্মীরের বিশেষ স্বাতন্ত্র্য ও মর্যাদা কেড়ে নিয়ে কাশ্মীরের মুসলমানদের ওপর জুলুম করেছে।মুসলমানদের পাঁচশত বছরের ঐতিহ্য বাবরী মসজিদের স্থানে রাম মন্দির নির্মাণের রায় দিয়ে বিশ্বমুসলিমের কলিজায় আঘাত করেছে।সম্প্রতি মুসলিমবিরোধী গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বিতর্কিত নাগরিকত্ব বিল পাশ করেছে।
আল্লামা বাবুনগরী বলেন,জালিম মোদি মুসলমানদেরকে ভারত ছাড়া করার হীন ষড়যন্ত্রে এ নাগরিকত্ব বিল পাশ করেছে।বিশ্বজুড়ে নাগরিকত্ব বিলের বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড় বইছে।আমাদের দাবীও সুস্পষ্ট,অনতিবিলম্বে এই মুসলিম বিরোধী নাগরিকত্ব বিল বাতিল করতে হবে,বাবরি মসজিদের জায়গায় পুনরায় মসজিদ নির্মাণের রায় দিতে হবে এবং ভারতের মুসলমানদের ওপর সর্ব প্রকার জুলুম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে।
জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য সহ পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্র মুসলিম বিরোধী এ বিতর্কিত নাগরিকত্ব বিলের ব্যপারে ক্ষোভ জানিয়েছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি জোর দাবী জানিয়ে হেফাজত মহাসচিব বলেন,নাগরিকত্ব বিলে মুসলমানদের ওপর অবিচার করা হয়েছে। বাংলাদেশ ৯০% মুসলিম অধ্যুষিত দেশ হিসেবে এ বিলের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে নিন্দা প্রস্তাব পাশের উদ্যোগ নিন।বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিলের প্রতিবাদ জানান।
আল্লামা বাবুনগরী বলেন,মুসলমানদের ঈমান-আক্বিদা নষ্ট করতে কাদিয়ানী, হেযবুত তওহীদ এবং উগ্রবাদী হিন্দুদের সংগঠন ইসকন,ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে চতুরমুখী ষড়যন্ত্র করছে।ক’দিন পর পর কিছু নাস্তিক মুরতাদ আমাদের কলিজার টুকরা নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিয়ে কটুক্তি করে আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ করছে। ৯০% মুসলিম অধ্যুষিত দেশে বিশ্বনবীর শানে কোন কটুক্তি মেনে নেওয়া হবে না।বিশ্বনবী সা.এর অবমাননা বন্ধে মৃত্যুদন্ডের আইন রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাশ করতে হবে।
হেফাজত মহাসচিব আরো বলেন, আকিদায়ে খতমে নবুওয়াত ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। খতমে নবুওয়াতে বিশ্বাসী হওয়া ছাড়া মুসলমান হওয়া যায় না। কাদিয়ানীরা খতমে নবুওয়াতকে অস্বীকার করে তাই তারা কাফের৷মুসলিম নাম ধারণ করে ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশে তাদের ঈমানবিধ্বংসী কোনো কার্যক্রম চলতে পারেনা।অনতিবিলম্বে কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে কাফের ঘোষণা করতে হবে। এবং হেযবুত তওহীদ ও উগ্র হিন্দু সংগঠন ইসকনকে নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশে তাদের সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ করতে।
ইসলাম বিরোধী ষড়যন্ত্র বন্ধ না হলে আকিদায়ে খতমে নবুওয়াত সহ বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রক্তমাখা ধর্ম দ্বীন ইসলামকে রক্ষায় প্রয়োজনে লক্ষ কোটি তৌহিদী জনতা নিজের বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দেবে হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন হেফাজত মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।
এদিকে দুইদিন ব্যপী মাহফিলের প্রথম দিনে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী উপস্থিত হলে জামিয়া ওবাইদিয়া নানুপুরের শায়খুল হাদীস আল্লামা মুফতী কুতুবুদ্দীন সাহেব তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। ১ ম দিনে অন্যান্যদের মাঝে আরো বয়ান করেন,জামিয়া ওবাইদিয়ার মহাপরিচালক মাওলানা সালাহ উদ্দিন পীর সাহেব নানুপুর ,মুফতী আব্দুল হালিম বোখারী,মুফতী শামছুদ্দীন জিয়া, মাওলানা আবু তাহের নদভী,মাওলানা আজিজুল হক আল মাদনী প্রমূখ। মাওলানা আবু তাহের নদভীর আখেরী মুনাজাতের মাধ্যমে প্রথম দিনের কার্যক্রম শেষ হয়।
















