ইসলাম টাইমস ডেস্ক : ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করায় ভিম আর্মি দলের প্রধান চন্দ্রশেখর আজাদকে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। শনিবার টিস হাজারি আদালতে আজাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়।
শুক্রবার দুপুরে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভের ঢেউ আছড়ে পড়ে দিল্লির জামা মসজিদের কাছে। পুলিশের বাধাকে উপেক্ষা করেই ভীম সেনা প্রধান চন্দ্রশেখর আজাদ মসজিদ এলাকায় ওই বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন। বিক্ষোভ ঘিরে এলাকায় চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। জামা মসজিদের মূল ফটকের কাছে সংবিধানের প্রতিলিপি হাতে বিক্ষোভে বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শোনা যায় তাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আটক করা হয় চন্দ্রশেখর আজাদকে।
জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর আদালতে আজাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদির অন্তত আলোচনা করা উচিত ছিলো। তিনি দেশকে বিভক্ত করছেন। আমার বিরুদ্ধে কোনও অবিযোগ নেই। দেশ আগুনে পুড়ছে। আর তিনি শুধু মিছিল নিয়ে চিন্তা করছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ভীম সেনার সমর্থনকারীরা শুক্রবার জামা মসজিদ থেকে যন্তর মন্তর পর্যন্ত নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতায় বিক্ষোভ মিছিল করার পরিকল্পনা করে। ভীম সেনা প্রধান চন্দ্রশেখর আজাদ বলেন, ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করেই ওই অঞ্চল থেকে বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দেবেন তিনি। সেই মতো দুপুর ১ টার দিকে জামা মসজিদ চত্বরে ভিড় জমাতে থাকেন প্রতিবাদীরা। অবস্থা বেগতিক দেখে চন্দ্রশেখর আজাদকে আটক করে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, গত ১২ ডিসেম্বর ভারতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকেই দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ১৯ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) উত্তর প্রদেশে বিক্ষোভরত অবস্থায় ২ জন প্রাণ হারায়। শুক্রবার জুমার নামাজের পর সংঘর্ষে নিহত হয় ৯ জন। শনিবার রাজ্যের রামপুরের ঈদগাহ এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের পর সেখানে মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে পাথর ছুড়লে তাদের লক্ষ্য করে লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ। সবমিলে উত্তর প্রদেশে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ জনে।
















