ইসলাম টাইমস ডেস্ক: সংশোধিত ও সাম্প্রদায়িক নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) প্রতিবাদে দেশজুড়ে যারা ‘হিংসা ও অগ্নিসংযোগে’র ঘটনাগুলিতে ‘নেতৃত্ব’ দিয়েছেন, তাদের নিয়ে কড়া সমালোচনা করলেন ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত। সেনাপ্রধান হয়ে রাজনৈতিক বিষয়ে মুখ খুলে তিনি বললেন, ‘‘যারা হিংসা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নেতৃত্ব দেন, তারা আদৌ নেতা নন।’’
ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে দেশজুড়ে চলামান আন্দোলন, প্রতিবাদ-বিক্ষোভের ঘটনা নিয়ে এই প্রথম সমালোচনা করেন দেশটির সেনাপ্রধান।
এদিকে সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াতের এই রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে প্রতিবাদ ব্যক্ত করেছেন ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।
কংগ্রেসের এক মুখপাত্র ব্রিজেশ কালাপ্পা টুইট করে জানান, ‘‘সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত সিএএ-র প্রতিবাদ নিয়ে কথা বলেছেন যা সাংবিধানিক গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে। আজ যদি সেনাপ্রধানকে রাজনৈতিক বিষয়ে কথা বলতে দেয়া হয়, তাহলে তা কাল তাকে সেনা দখলের অনুমতিও দিতে পারে।”
হায়দরাবাদের এমপি ও এআইএমআইএম-এর প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসিও এই বিষয়টির সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, নেতৃত্ব দেয়ার অর্থ নিজের দফতরের সীমাবদ্ধতা জানা। কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে তার গুরুত্ব ও অবস্থানও তার জানা উচিত বলে জানান ওয়াইসি।
বৃহস্পতিবার দিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান জেনারেল রাওয়াত বলেন, ‘‘নেতৃত্ব মানেই সব কিছুকে সামনে থেকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। তাই নেতৃত্ব বিষয়টা কিছুটা জটিলও। সব কিছুকেই কি নেতৃত্ব দেওয়া উচিত? নাকি সেটা সঠিক? নেতৃত্ব দেওয়ার কাজটা বেশ কঠিন। কারণ, কেউ নেতৃত্ব দিলে তাকে অনুসরণ করেন অনেকে। নেতৃত্ব দেওয়াটাকে খুব সহজ বলে মনে হয়। কিন্তু আদৌ নয়। কাজটা বেশ কঠিন।’’
রাওয়াতের মতে, মানুষের মধ্যে নেতার অভাব হয় না। কিন্তু সকলেই সেই অর্থে নেতা হয়ে ওঠেন না। কারণ, যারা অনুসরণ করছেন, তাদের সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয় নেতাকে। সেটাই সঠিক নেতৃত্ব। মানুষকে ভুল দিক নিয়ে গেলে সঠিকভাবে নেতৃত্ব দেওয়া যায় না।
নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে যে ভাবে শামিল হয়েছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা, তারও সমালোচনা করেছেন জেনারেল রাওয়াত। বলেছেন, ‘‘আমরা দেখছি, প্রচুর মানুষকে ভুল পথে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা। সেই নেতৃত্বে কিছু ভুল থেকে যাচ্ছে। এটাকে নেতৃত্ব দেওয়া বলে না।’’
















