মুশফিক রহমান ।।
রাজধানীর হাতিরঝিলে সম্প্রতি ঘটেছে এক অদ্ভুতুরে অমানবিক ঘটনা। একটি মেয়ে একজন পুরুষকে গলায় শিকল বেধে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। পুরুষটি কুকুরের আকৃতিতে উবু হয়ে আছে। অমানবিক হেন এ ব্যাপারটিকে বলা হচ্ছে ‘পারফর্মিং আর্ট’। এই ‘পারফর্মিং আর্টে’র নেপথ্যে ছিলেন টুটুল চৌধুরী ও সেঁজুতি।
পশ্চিমের দেশগুলোতে মাঝেমাঝেই এ জাতীয় ঘটনা দেখা গেলেও বাংলাদেশে এবারই প্রথম ঘটেছে ন্যাক্কারজনক এমন ঘটনা। ঘটনার ছবি এবং ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। ‘মানব কুকুর’ শিরোনামে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবরও ছাপা হয়েছে।
ছবির মেয়েটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পেইন্টিং ও ড্রয়িংয়ের শিক্ষার্থী। ঘটনাটিকে সে ‘সমাজতাত্ত্বিক’ ও ‘আচরণমূলক’ কেসস্ট্যাডি হিসেবে উল্লেখ করেছে। এমন অদ্ভুতুরে কাণ্ডের ব্যাখ্যায় সেঁজুতি একজন লেখকের লেখাকে উদ্ধৃত করে লিখেছে, ‘এই ছবিতে একজন নারী একজন পুরুষকে গলায় রশি বেঁধে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। এটা আমাদের নৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বা আরো ভালো কোনো সামাজিক অবস্থার চিত্র দেখায় না। বরং সমাজ আমাদের ওপর যে সিস্টেম চাপিয়ে দিয়েছে সেটাই ফুটে উঠেছে। আমরা যে কাজটা করেছি এই কাজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি এবং এই কাজটাকে সাধারণ মানুষ কীভাবে নিয়েছে সেটাই আমরা দেখতে চেয়েছি’।
ন্যাক্কারজনক, অমানবিকতার চিত্র প্রকাশকারী এ কাণ্ডের ব্যাখ্যায় নানা কিছু বলা হলেও ঘটনাটিকে দেখা হচ্ছে পুরুষতান্ত্রিকতার প্রতিবাদে পশ্চিমের নিম্ন প্রকৃতির সংস্কৃতি হিসেবেই। গত শতকের সত্তরের দশকে এমন ঘটনা প্রথম দেখা যায় অস্ট্রিয়ার ভিয়েনাতে। পুরুষের কর্তৃত্ববাদ বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে ভিয়েনার ভ্যালি এক্সপোর্ট ও পিটার উইবেল এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার সূচনা করে।
তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরন করেছেন টুটুল চৌধুরী ও সেঁজুতি। অনেকে এটিকে বাংলাদেশে পশ্চিমের নিম্ন প্রকৃতির সংস্কৃতির আমদানি হিসেবে দেখছেন।
অনেকে বলছেন, কোনো বিষয়, আদর্শ বা মতবাদের প্রতিবাদ কেউ করতেই পারে। তবে প্রতিবাদের ভাষা ও ধরন অবশ্যই সুসভ্য স্বাভাবিক হওয়া উচিত। কিন্তু হাতিরঝিলের এ ঘটনা সভ্যতা ও স্বাভাবিকতার মাপকাটি ছাড়িয়ে গেছে।
কেউ কেউ বলছেন, মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত। সৃষ্টি সেরা তথা অভিজাত সৃষ্টি মানুষ। সেই শ্রেষ্ঠ মানুষকে কুকুরের ন্যায় বানিয়ে নগর প্রদীক্ষণ করে এরা অমার্জনীয় অপরাধ করেছে। মানবজাতিকে অপমানিত ও লাঞ্চিত করেছে।
















