সিরিয়ায় খোলা আকাশের নিচে উন্মুক্ত পাঠশালা

তারিক মুজিব ।।

ছবিটি সিরিয়ার বৃহত্তম শহর আলেপ্পোর একটি এলাকার।

গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সিরিয়া থেকে ভালো কোনো খবর আমাদের শোনা হয় না সাধারণত। খবরের কাগজে আন্তর্জাতিক পাতায় চোঁখ বুলালেই দেখা যায়, রাক্কায়…. ঘটনায় ২৩ জনের প্রাণহানী, ইদলিবে… বাহিনীর আক্রমণে ৪৫ জন নিহত।

দীঘর্দিন ধরে সিরিয়ার হতাহতের খবর শুনে আমরা এতটাই অভ্যস্থ যে, হামলার শিকার হয়ে ৩০ জন ৪৫ জনের মৃত্যু আমাদের অন্তরে বাড়তি প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে না। সিরিয়ায় প্রতিদিন কিছু মানুষের প্রাণনাশের ঘটনা নৈমিত্তিক সাধারণ ব্যাপার।

নানামুখী আক্রমণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হয়ে যাওয়াকে গৃহযুদ্ধে সিরিয়ার সবচেয়ে বড় ক্ষতির দিক বলে বিবেচনা করা হয়। স্বৈরাচার আসাদের পতনে সিরিয়ার মহাযুদ্ধ যদি কোনোদিন ভাল কোনো পরিণতিতে পৌঁছে, তবুও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ক্ষতি সিরিয়াবাসীকে বহন করতে হবে অনন্তকাল ধরে।

ছবির ব্যাপারে ফেরা যাক। ছবিটি আলেপ্পোর কোথাও হবে। ক্লান্ত, বিধ্বস্ত শিশুগুলো যেখানে বসে আছে এর পেছনেই একটি বড় মাদরাসা ছিল। ধর্মীয় এবং সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ে মানসম্মত একটি পাঠ্যক্রম ছিল মাদরাসাটিতে। কয়েকবছর আগে বিমান হামলায় বিধ্বস্ত হয় মাদরাসার ভবন। এখন বিরাণ পড়ে আছে। এ মাদরাসার যারা শিক্ষার্থী ছিল তাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাও আপাত সমাপ্ত হয়ে যায় মাদরাসাটি বিরাণ হয়ে পড়লে।

তবে শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার স্বপ্নকে সম্পূর্ণ ভঙ্গ হতে দেননি সিরিয়ান যুবক জিয়া উমরি। তিনি যুদ্ধ শুরুর আগে সিরিয়ার কোনো ভার্সিটিতে আরবি সাহিত্য নিয়ে পড়ছিলেন। তার স্বপ্ন ছিল অনেক বড় কেউ হবেন। তবে যুদ্ধ শুরু হলে তার স্বপ্ন আর পূরণ হতে পারেনি। পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়।

নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে না পারার বেদনা থেকে তিনি নিজ দেশ যুদ্ধ বিধ্বস্থ সিরিয়ান শিশুদের শিক্ষার জন্য তিনি গ্রহণ করেন এক ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ। বন্ধু কয়েকজনকে নিয়ে ‘তাসিসু হায়াতিন জাদিদ’ নামে শিক্ষামূলক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। সংগঠনের উদ্যোগে শিক্ষাবঞ্চিত শিশুদের জন্য মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষার ব্যবস্থা করেন।

খোলা আকাশের নিচে চলে তাদের পাঠদার কর্মসূচি। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটির আর্থিক সংগতি না থাকায় তারা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারেনি। তবে আলেপ্পোর এ এলাকাটিতে একশত পঞ্চাশটি শিক্ষাকেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে এ সংগঠনের ব্যবস্থাপনায়। ১ হাজার ৩ শত ৫০ জন শিক্ষার্থী বর্তমানে নিয়মতান্ত্রিক অধ্যয়নরত এসব শিক্ষাকেন্দ্রে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা সরেজমিন প্রতিবেদন করে এ ঘটনার শিরোনাম দিয়েছে-সিরিয়ার বধ্যভূমিতে খোলা আকাশের নিচে গড়ে উঠছে উন্মুক্ত পাঠশালা।

পূর্ববর্তি সংবাদসাম্প্রদায়িকতাপূর্ণ আইন: আগমীকাল ভারতীয় মুসলিম সংগঠনগুলোর বৈঠক
পরবর্তি সংবাদসীমান্ত এলাকায় বন্ধ করে দেওয়া হল মোবাইল নেটওয়ার্ক, কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা