ইসলাম টাইমস ডেস্ক : বাংলাদেশের বর্ষীয়ান আলেমেদ্বীন হযরত মাওলানা আশরাফ আলী গতকাল সোমবার দিবাগত রাত (৩১ ডিসেম্বর) দেড়টার দিকে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তিনি একাধারে বেফাকুল মাদারিস ও হাইআতুল উলয়ার সিনিয়র সহ-সভাপতি, ঢাকা মালিবাগ জামিয়ার শায়খুল হাদীস ও প্রিন্সিপাল এবং বাংলাদেশে মুসলিম উম্মাহর একজন দরদী অভিভাবক ছিলেন।
বেশ কিছুদিন যাবৎ অসুস্থ হয়ে তিনি রাজধানীর আসগর আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তখন একবার তাঁকে দেখতে হাসপাতালে উপস্থিত হলেন বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গেলেন শায়খের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতে। কিন্তু দেখা গেলো ভিন্ন চিত্র। শায়খ নিজেকে নিয়ে উদ্বিগ্ন নন। তার উদ্বেগ দেশ-জাতি ও উম্মাহকে নিয়ে। নিজের জন্য কোনো আবদার না করে শারীরিক কঠিন পরিস্থিতিতেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তিনি আবদার জানালেন কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা দেওয়ার। এ আবদার তিনি বারবার করছিলেনন।
প্রচণ্ড অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালের শয্যায় থেকেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবি জানিয়েছিলেন আল্লামা আশরাফ আলী রহ. যা সামাজিক মাধ্যমের কল্যাণে হাজার হাজার মানুষ দেখেছেন।

জানা যায়, ষাটের দশকের শুরুর দিকে জামিয়া এমদাদিয়া কিশোরগঞ্জের শিক্ষকতার মাধ্যমে মরহুমের কর্ম জীবন শুরু হয়। স্বাধীনতার পর শায়খুল হাদীস আল্লামা আশরাফ আলী রহ. ঢাকা ফরিদাবাদ মাদরাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস পদে যোগদান করেন।
আল্লামা আশরাফ আলী রহ. আশির দশকের শুরুর দিকে ফরিদাবাদে শায়েখে সানীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ সালে কুমিল্লা জেলা শহরে অবস্থিত কাসেমুল উলুম মাদরাসায় দাওরায়ে হাদীস চালু হলে শায়খুল হাদীস আল্লামা আশরাফ আলী রহ. সেখানেও শায়েখে সানীর পদ অলঙ্কৃত করেন। ২০১৩ সালে তার একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহকর্মী শায়খুল হাদীস আল্লামা কাজী মুতাসিম বিল্লাহ্ রহ. ইন্তেকাল করলে তিনি জামিয়া শারইয়্যা মালিবাগের শায়খুল হাদীস এবং প্রিন্সিপালের দায়িত্ব পালন করেন।
ফরিদাবাদে শিক্ষকতাকালীন সময়ে মাওলানা আতহার আলী রহ., শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রহ., মাওলানা আতাউর রহমান খান রহ., মাওলানা আব্দুল জব্বার জাহানাবাদী রহ.-এর সঙ্গে দেশের সর্ববৃহৎ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এবং সর্বশেষ বাংলাদেশের কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদীসকে সরকার কর্তৃক মাস্টার্স সমমান প্রদানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
জামিয়া আশরাফিয়া লাহোরে শায়খুত তাফসীর আল্লামা ইদরীস কান্ধলভী রহ., আল্লামা রসূল খান রহ.-এর মহান মনীষীদের সান্নিধ্য লাভ করেন আল্লামা আশরাফ আলী রহ.। তিনি করাচির হযরত শাহ হাকীম মুহাম্মদ আখতার রহ. এর বিশিষ্ট খলিফা ছিলেন বলেও জানা যায়।
আল্লামা আশরাফ আলীর অন্যতম একটি যোগ্যতা ছিলো তিনি ছোটখাটো ইখতিলাফ, মতভেদ ভুলে সকলকে এক সুতোয় গেঁথে রাখতে পারতেন। উম্মাহর এই ক্লান্তিলগ্নে তাঁর ইন্তিকাল নিঃসন্দেহে জাতির জন্য এক বিশাল ক্ষতি। আল্লাহ তাআলা মরহুমের পূর্ণ মাগফিরাত নসিব করুন। এবং তার দারাজাত বুলন্দ করুন।
















