‘অর্থনীতির কোথায় যেন একটা ছন্দপতন হয়েছে’

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: দেশের অর্থনীতির চেহারাটা এখন কেমন, কোন দিকে যাচ্ছে আর্খিক পরিস্থিতি-এ নিয়ে সম্প্রতি একটি নিউজ পোর্টালে সরকার দলের প্রতি সহানুভূতিশীল হিসেবে পরিচিত সাংবাদিক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা কলাম লিখেছেন। সে কলামে তিনি অর্খনৈতিক খাতে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ ও চিত্রের প্রশংসা করলেও তুলে ধরেছেন কিছু আশংকার আলামত। দেশের অর্খচিত্রের কিছু বাস্তবতা পাঠকদের সামনে উপস্থিত করতে তার কলাম-নিবন্ধের প্রধান অংশটি এখানে তুলে ধরা হলো।

অর্থনীতির সার্বিক চিত্রের নেতিবাচক চেহারাটির ওপর তিনি মন্তব্য করেন, ‘মনে হচ্ছে দ্রুতগতিতে ছুটে চলা অর্থনীতির কোথায় যেন একটা ছন্দপতন হয়েছে। বিশেষ করে অর্থনীতির মূল যে চালিকাশক্তি ব্যক্তিখাত, সেখানে কোনও চাঞ্চল্য নেই, স্থবিরতা না হলেও একটা দম বা উদ্যমের অভাব লক্ষণীয়। চলতি বছরের শেষ দিকে এসে একমাত্র প্রবাসী আয় ছাড়া সামষ্টিক অর্থনীতির সব সূচক নিয়েই চিন্তিত সংশ্লিষ্টরা। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগে গতি না থাকায় কর্মসংস্থানের গতিতেও ভাটা পড়েছে, ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট কাটেনি, বৈদেশিক লেনদেনে ঘাটতি বজায় আছে এবং সমাজে বৈষম্য প্রকট আকার ধারণ করছে। কাগজে-কলমে দারিদ্র্যের হার কমেছে, কিন্তু সেটা উচ্চ প্রবৃদ্ধির হারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বড় প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও বেসরকারি বিনিয়োগ কেন গতি পায়নি, সেটাই হতে পারে এ বছরের বড় অর্থনৈতিক ভাবনা।’

জিটিভি ও সারাবাংলার প্রধান সম্পাদক ইশতিয়াক রেজা বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে জানান, ‘ বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ছাড়া বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রায় সব সূচকই নিম্নমুখী হয়ে পড়েছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমদানি ও রফতানি বাণিজ্য। দীর্ঘদিন ধরে দেশে বাণিজ্য ঘাটতি থাকলেও সম্প্রতি তা আরও বেড়ে গেছে। এত দিন আমদানি বাড়ার প্রবণতা ছিল। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসের হিসাবে দেখা গেছে, আমদানি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ১৭ শতাংশ কমে গেছে। যা কিছু আমদানি হচ্ছে এর মধ্যে খাদ্যপণ্যই বেশি। সার্বিক আমদানির পাশাপাশি শিল্প খাতে বিকাশের প্রধান উপকরণ মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানিও অনেক কমে গেছে। রফতানি খাতেও বিরাজ করছে নেতিবাচক পরিস্থিতি।’

তার মূল্যায়ণ- ‘ঠিকমতো এগোতে পারেনি সরকারের বাজেট বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াও। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্যমতে, গত জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত রাজস্ব আহরণ হয়েছে ৬৫ হাজার ৯৬ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২০ হাজার কোটি টাকা কম। রাজস্ব খাত থেকে প্রত্যাশিত পরিমাণে আয় না হওয়ায় ব্যয়ের অর্থের সংস্থান করতে সরকারকে ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ধার করতে হচ্ছে। এর ফলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে আসছে। চলতি অর্থবছরের অর্ধেক এখনও পার হয়নি, এরই মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে পুরো বছরের জন্য সরকারের ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ছুঁই ছুঁই করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে সরকার অভ্যন্তরীণ খাত থেকে মোট ৭৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা ঋণ নেবে বলে ঠিক করে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ৪৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার কথা। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের পাক্ষিক প্রধান অর্থনৈতিক সূচকে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকার ৪১ হাজার ৩৬২ কোটি টাকারও বেশি ঋণ নিয়েছে। অর্থাৎ পাঁচ মাসের মধ্যেই সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে বাজেটে টার্গেটের সিংহভাগ নিয়ে বসে আছে। দ্রুতই হয়তো পুরো বছরের ঋণের লক্ষ্যমাত্রার সম্পূর্ণ টাকাটাই নিয়ে নিতে হবে।’

আশংকা ও ভাবনার দিকটি সম্পর্কে তিনি লেখেন, ‘যে দিনগুলো আমরা কাটাচ্ছি, সেগুলো কতখানি ভালো সেটিই বড় ভাবনার বিষয়। দেশের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির মূল সূচক বেশি থাকার পরও কেন মন্দার মতো পরিস্থিতি, সেটি গুরুত্ব দিয়ে চিন্তা করা প্রয়োজন। সঞ্চয়পত্রে সুদের পতন, ব্যাংকেও সুদের হার কমে যাওয়া অতি সাধারণ মানুষের কাছে চরম দুশ্চিন্তার বিষয়। পুঁজিবাজার আজ পর্যন্ত সোজা হয়ে দাঁড়াতেই পারল না। ব্যাংকগুলোর অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ বাড়তে বাড়তে কোথায় গিয়ে ঠেকে, সেটিও কেউ ধারণা করতে পারছে না। অর্থনীতির এই চেহারাটা কাঙ্ক্ষিত নয়।’

পূর্ববর্তি সংবাদআজ থেকে শুরু মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলা, উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
পরবর্তি সংবাদউইঘুর শরণার্থী শিশুদেরকে তাদের মুসলিম সংস্কৃতি শিক্ষা দিচ্ছে তুরস্ক (ভিডিও)