এনাম হাসান জুনাইদ ।।
ঘুম থেকে হঠাৎ জেগে ওঠলাম। ঘন্টা খানেক হবে ঘুমিয়েছি। কাঁচা ঘুম ভাঙ্গলে যেমন খারাপ লাগে তেমন খারাপ লাগছে। আধোঘুম আধো জাগরণের মধ্যে দুলছি। এর মধ্যে চতুর্দিকে কত উল্লাস ধ্বনি, কত উদ্দাম করতালি, কান ফাটা বোমার শব্দ। চেষ্টা করছিলাম ঘুমাতে কিন্তু ঘুমাতে পারছি না।
হঠাৎ একটু নিরব হল। আবার ঘুম আসল। কিন্তু হঠাৎ আবার বিকট শব্দ। ঘুমের ঘোরে হঠাৎ মনে হল, কওমে লুতের কথা। এক অভিশপ্ত সম্প্রদায়। জিবরীল আ. গোটা জনপদ হাতের মুঠোয় তুলে ফেলেছিলেন। একেবারে আসমানের কাছাকাছি ওঠানোর পর শুরু হল পাথরের বৃষ্টি, আগুনের বৃষ্টি। জনপদের লোকজনের সে কী আহাজারি, আর্তনাদ, হাহাকার, চতুস্পদ জন্তুগুলোর গলাফাটা চিৎকার। ভেড়া বকরি গরু মহিষ এমন মুরগীর চিৎকারও শোনা যাচ্ছে।
মনে মনে দোয়া করছি, না আল্লাহ, না, আমাদেরকে এমন শাস্তি দিও না।
আহা, গোটা ঢাকায় এমন আগুনের বৃষ্টি হচ্ছে। পাথরের বৃষ্টি হচ্ছে। আর মানুষের হাহাকার আহাজারি শোনা যাচ্ছে। একটু নীরব হল। হয়তো আগুনের বৃষ্টি থেমে গেছে। হয়তো অনেক মানুষ মারা গেছে। অনেক বাড়ি ঘর পুড়ে গেছে। এবার কি শহরটা উল্টো করে নিক্ষেপ করা হবে?
একটু বিরতি দিয়ে আবার কান ফাটা শব্দ, আবার আগুনের গোলা নিক্ষেপ আবার মানুষের করতালি, উল্লাস ধ্বনি।
তাহলে কী হচ্ছে? ওই বুঝি আগুন ধরে গেল। ওই তো ওরা চিৎকার করছে। আগুন না ধরলে কি মানুষ এমন চিৎকার করে। আমেরিকা সিরিয়ায় আফগানে ইরাকে এভাবেই রাতের রাত হামলা করেছে! এভাবে সিরিয়ার শিশুরা আফগানের শিশুরা ইরাকের শিশুরা ঘুমাত কিভাবে।
আচ্ছা, এটা শাপলা চত্বরের ঘটনা নয়তো। ওই যে গ্রেনেডের শব্দ, গুলির শব্দ। পুরো দেশে হঠাৎ এই রাতে যুদ্ধ লেগে গেল। এই যুদ্ধ শেষ হচ্ছে না কেন?
ফজরের আজানে ঘুম ভাঙ্গল। মনে মনে হাসলাম। গতকাল থার্টি ফাস্ট নাইট ছিল। রাতে আমি খুব ক্লান্ত ছিলাম। শোয়ার আগেই ঘুম চলে এসেছিল। ঘুমের মধ্যে ব্যাঘাত ঘটায় কত আজেবাজে জিনিসই না মাথায় এসেছিল। আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন।
ঘুমের ঘোরে যে সব জিনিস মাথায় এসেছিল সেগুলো কতই না ভয়ানক। আমরা সামাজিকভাবে যে সব পাপ কাজ করে যাচ্ছি, রাষ্ট্রীয়ভাবে যে সব পাপ কাজ করে যাচ্ছি, আল্লাহ যদি সেগুলোর জন্যে স্বপ্নে দেখা ঘটনাগুলোর মতই পাকড়াও করেন তাহলে কি আমাদের উপায় আছে? হায়, আমরা কবে সতর্ক হব?
















