মাওলানা ইবরাহীম দেওলা।।
মানুষের কাজের দু’টি গুরুত্বপূর্ণ দিক আছে। ১ টি হল নিয়ত। হাদীসে আছে, মানুষ যে নিয়ত করে সে নিয়ত অনুযায়ী তার কাজের প্রতিদান পাবে৷ এই জন্য আমরা নিয়তের সাথে আমলের জন্য দ্বীনি কথা শুনি। অন্যটি হল, মেহনত। মেহনতের অনুযায়ী আল্লাহ তার বান্দাকে প্রতিদান দিয়ে থাকেন৷ আল্লাহ মানুষকে তার নিয়ত ও মেহনতের দ্বারাই সবকিছু দিয়ে থাকেন৷ নিয়ত করি যতদিন আমরা বেঁচে থাকি ততদিন আমরা দ্বীনের মেহনতের সাথে থাকবো।
একবার এক অপরিচিত সাহাবী রাসূল সা.-এর সফরসঙ্গী হওয়ার ইচ্ছাপোষণ করলেন, রাসূল তাকে অনুমতি দিলেন। যখন তিনি গন্তব্যে পৌঁছলেন এবং কাজ সামনে আসলো তখন প্রত্যেককে তাদের কাজ বণ্টন করে দিলেন। অপরিচিত সেই সাহাবীকে বাহনজন্তু দেখাভালের দায়িত্ব দিলেন৷ সে বাহনের দায়িত্ব পেয়ে তার কাজে নিয়োজিত হয়ে গেলো। এদিকে রাসূল যে কাজে গিয়েছিলেন সে কাজ পূর্ণ হওয়ার পর অনেক মালামাল হাসিল হলো। সে মাল সবাইকে বণ্টন করে দিলেন৷ এবং বাহন দেখভালকারীকে একটা অংশ দিলেন৷ সে উপস্থিত না থাকায় তার অংশ অন্য এক সাহাবীর কাছে আমানত হিসেবে রাখলেন৷ পরবর্তীতে যখন তাকে তার মাল বুঝিয়ে দেয়া হলো তখন সে বললো আমি এই মালের জন্য আসি নাই। এই মাল আমার প্রয়োজন নাই৷ জিজ্ঞাসা করা হলো কেন আসছো? তিনি বললেন, এখানে এসেছি রাসূলের জন্য। দুশমনের পক্ষ থেকে রাসূলকে টার্গেট করে তীর আসবে আর সে তীর আমার গলায় বিঁধবে। তিনি হাত দিয়ে সে জায়গা দেখালেন৷ কিছুক্ষণ পর দেখা গেলো হুবহু তেমনি ঘটলো।
আরো পড়ুন: প্রচুর বিদেশি মেহমান এসেছেন এবার, তাদের বহন করতে রিজার্ভ করতে হচ্ছে অতিরিক্ত বাস
পরে রাসূল সা.কে সে বিষয়ে অবহিত করা হলো। তিনি বললেন সে কি ঐ ব্যক্তি যে সফরসঙ্গী হওয়ার অনুমতি চেয়েছে। রাসূল সা. তার জুব্বা দিয়ে ঐ ব্যক্তির কাফন দিলেন৷ এবং তাকে শহীদ হিসেবে আখ্যায়িত করলেন৷ এবং দোয়া করলেন হে আল্লাহ আমি তার নিয়ত ও মেহনতের স্বাক্ষী দিচ্ছি। তার নিয়ত ও মেহনত সঠিক ছিলো৷ এজাতীয় ঘটনায় শিক্ষণীয় বহু বিষয় রয়েছে৷
এক. জামাতের সাথে বের হলে পরামর্শ করে প্রত্যেকের কাজ ভাগ করে দেয়া৷ দুই. ব্যক্তির নিয়ত অনুযায়ী সে তার ফলাফল পাবে।
আরো পড়ুন: শুরু হয়ে গেছে ময়দানের ধারাবাহিক আমল, জেনে নিন কখন কে বয়ান করবেন
আল্লাহ পুরো দুনিয়া এবং দুনিয়ার অনান্য জিনিস বনী আদমের জন্য সৃষ্টি করেছেন৷ রাসূল সা. আমাদের আখেরাতের সুসংবাদ দিয়েছেন এবং দুনিয়ার দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েছেন৷ সুসংবাদ হলো, দুনিয়া তোমাদের জন্য সৃষ্টি এবং দুনিয়ার সমস্ত সৃষ্টি তোমাদের কাজ করতে বাধ্য। জিম্মাদারি হলো, দুনিয়ার জীবন তোমাদের দেয়া হয়েছে তোমাদের আখেরাত সুন্দর করার জন্য৷ দুনিয়াকে মুহাব্বত করবে এই পরিমাণে যার দ্বারা মালের হেফাজত হয়৷ এমন মুহাব্বত যেন না হয় যা আল্লাহ ও আখেরাতকে ভুলিয়ে দেয়৷
দুনিয়ায় থেকে আখেরাত বানানোর জন্য আল্লাহ দুটা জিনিস আমাদের দিয়েছেন৷ ১. ঈমান। ২. ইলম। ঈমানের তাকাযা হলো আল্লাহকে মানা৷ ইলমের তাকাযা হলো সমস্ত আমল নবীর তরীকা অনুযায়ী করা৷ ঈমান আনার দ্বারা বান্দার উপর হক আরোপিত হবে। আর ইলমের দ্বারা হক আদায়ের তরীকা জানা যাবে৷ ঈমানহারা লোকদের দুনিয়া হবে ধোঁকার জায়গা। আখেরাত হবে পেরেশানির জায়গা। যতক্ষণ দুনিয়ায় ঈমান থাকবে ততক্ষণ দুনিয়া টিকে থাকবে। ঈমান থাকবে না তো দুনিয়া থাকবে না৷ আল্লাহ দুনিয়াকে রেখেছেন ঈমান দ্বারা এবং আখেরাতের সফলতা এই ঈমান দ্বারাই হবে৷ তিনি ঈমানকে ঈমানের মেহনতের জন্য দিয়েছেন।
ঈমানের কালিমা দ্বারা আমাদের জিম্মাদারি বেড়ে গেছে৷ ১. ইবাদতের জিম্মাদারি। ২. দাওয়াতের জিম্মাদারি। যখনি আমি আল্লাহর হুকুম ও নবীর তরীকা মানবো তখন আল্লাহ আমার উপর রাজি হয়ে যাবেন৷ আল্লাহ রাজি হয়ে গেলে সবকিছু সহজ হয়ে যাবে৷ পেরেশানি দূর হয়ে যাবে। দ্বীনের জন্য আমরা মেহনত করবো৷
ভাষান্তর করেছেন ইসলাম টাইমসের ইজতেমা প্রতিনিধি: আবু দারদা
















