জুমাবার বাদ মাগরিবের বয়ান: তাবলীগের মাকসাদের কথা স্মরণ করালেন আহমদ লাট

ইসলাম টাইমস ইজতেমা প্রতিনিধি: হামদ ছানা ও দুরুদের পর৷ দুনিয়ার একটা নিয়ম হলো, যে ব্যক্তি যা তৈরী করে সে তার ব্যবহার পদ্ধতি ও উদ্দেশ্য জানায়৷ দুনিয়াতে যতো মানুষ আছে সব মানুষকে সৃষ্টি করেছেন আল্লাহ৷ কুরআনে স্পষ্টভাষায় বলেছেন, আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি আমার ইবাদতের জন্য৷ এমনিভাবে কিছু আদেশ নিষেধ দিয়েছেন সেগুলো মান্য করে চলার জন্য৷

আল্লাহকে মান্য করার সবচেয়ে উত্তম নিদর্শন রয়েছে রাসূল সা.-এর মধ্যে। রাসূলের মতো আল্লাহকে মান্য করলে তিনি আমাদের উপর রাজি হয়ে যাবেন৷

আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করে অনেক অনুগ্রহ করেছেন৷ আমাদের কী নিয়মনীতি মানতে হবে সেসব পদ্ধতি বাতলে দিয়েছেন৷ এমন নয় যে, তিনি আমাদের বানিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন৷ বরং তিনি কীভাবে চলতে হবে সেসব তরীকা বলে দিয়েছেন৷ এই তরীকা মান্য করে চলার নাম দ্বীন৷

আল্লাহর সমস্ত তরীকা একমাত্র আলেমদের কাছে জানা যাবে৷ তারাই বলে দিবেন কোন আমল কীভাবে করতে হবে৷ এই জন্য আমাদের সবসময় আলেমদের শরণাপন্ন হতে হবে৷

আলেমরা বলেন, দ্বীন ছাড়া অন্য কিছু যদি আল্লাহর প্রিয় হতো তাহলে তিনি রাসূলদের সেসব জিনিস দান করতেন৷ আল্লাহর কাছে প্রিয় দ্বীন ও দ্বীনের মেহনত এই দুই কাজের জন্যই তিনি নবী রাসূলদের প্রেরণ করেছেন৷

আলমী শূরার সাথীদের ইজতেমা: জোরালো হচ্ছে দুই পর্বে করার আবেদন

আলেমরা বলেন, ইনসান ও হায়ওয়ানের মাঝে বুনিয়াদি পার্থক্য হলো দ্বীন৷ কারণ মানুষ ছাড়া অন্য কারো জন্য ধরাবাঁধা কোন দ্বীন বা শরীয়ত নাই৷

যেদিন থেকে মানবজাতির জন্ম হবে সেদিন থেকেই তার কোন ছাড় নেই৷ যেমন, কোন সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পর আল্লাহু আকবর বলে তাকে প্রথম শিক্ষা দেয়া হয় আল্লাহ সবচেয়ে বড়৷ এটাই জন্মের পর শিশুর কানে শিক্ষা দেয়া হয়৷ যেন সে, আল্লাহকে মান্য করে৷ বড় মনে করে৷ ভুলে না যায়৷ হৃদয়ে আল্লাহকে ধারণ করে৷ লালন করে৷ দীলে বসিয়ে নেয়৷ কোন কিছুই যেন তার চোখে বড় না আসে। সেই শিক্ষাই জন্মের পর দেয়া হয়৷

আল্লাহ সবচেয়ে বড়৷ তাকে একমাত্র বসানোর জায়গা দিল৷ রাসূল সা.বলেন, প্রত্যেক মানুষের ভেতর একটা টুকরো থাকে৷ যার নাম দিল৷ যখন সেটা সুস্থ থাকে তখন পুরো দেহ সুস্থ থাকে৷ যার দীল আল্লাহর ভালোবাসায় পূর্ণ থাকে তার উপর আল্লাহ রাজি হয়ে যান৷ এমন নয় যে, মানুষের দিল দুইটা। একটাতে আল্লাহকে রাখবে৷ অন্যটাতে দুনিয়ার লোভ-লালসা ও মোহ রাখবে৷ বরং দিল একটাই যেখানে শুধুমাত্র আল্লাহর বড়ত্ব বসাবে৷

দিলের মধ্যে চারটা রাস্তায় কথা প্রবেশ করে, জবান, কান, চোখ ও দেমাগ৷ মানুষ যখন রাতে ঘুমায় তখন তার তিনটি রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়৷ একটি রাস্তা খোলা থাকে৷ সেটা হলো দেমাগ। দেমাগ তখন জবান, কান ও চোখের ব্যবহৃত জিনিসগুলোকে চিন্তা করতে বাধ্য হয়ে যায়৷ সুতরাং আমাদের জীবন শুরু করতে হবে আল্লাহ সবচেয়ে বড় এই ধ্যান-ধারণা নিয়ে৷

নিজেকে বড় করে দেখার কোন সুযোগ নেই। বরং তুমি ও দুনিয়ার সব মূল্যবান ধাতু মাটি থেকে সৃষ্টি। তাই এসব চিন্তা বাদ দিয়ে আল্লাহর বড়ত্ব দীলে পোক্তভাবে বসাবে। মানুষকে বড় করে দেখার কোন অবকাশ নাই। মানুষকে মাটি দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে, সে মাটির সাথেই মিশে যাবে। বরং মানুষ এমন গান্ধা জিনিস দ্বারা সৃষ্টি যা আলোচনা করাও লজ্জাকর৷ তাই নিজের কোন কামাইকে বড় মনে না করে আল্লাহকে বড় করে দেখবে৷

জনস্রোত: লাখ লাখ মুসল্লির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে জুমআর নামাজ

আল্লাহ মানুষ সৃষ্টি করার যেমন মাকসাদ রয়েছে, তেমনি মাওলানা ইউসূফ সাব রহ.-এর দাওয়াত ও তাবলীগের মাকসাদ রয়েছে। তিনি এই মাকসাদ সম্পর্কে তিনবার কসম খেয়ে বলেন, এই কাজের উদ্দেশ্য হলো উম্মাহকে ঐ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যা রাসূল নবুয়াতের ২৩ বছরে সাহাবায়ে কেরামকে নিয়ে গেছেন৷ দাওয়াতের কাজকে আমি সে পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই৷ এটাই দাওয়াতের মাকসাদ৷

ইলিয়াস রহ. বলতেন; এই মেহনতের দ্বারা আমার তিনটি মাকসাদ। ১,আল্লাহর ছাড়া যা কিছু আমার দীলে রয়েছে তার প্রভাব যেন দূরে চলে যায়৷ ২, দুনিয়ার সমস্ত চাকচিক্য থেকে আমার অন্তর যেন বেজার হয়ে যায়৷ এবং রাসূলের সুন্নতের গুরুত্ব আমার অন্তরে মজবুত করে যেন বসে যায়৷ কারণ রাসূল কোন প্রোডাক্টের ফজিলত বলেন নাই, বরং তিনি আমলের ফাজায়েল বর্ণনা করেছেন৷ ৩, দুনিয়ায় কোন কিছু উপর যেন দৃষ্টি না পড়ে। বরং দৃষ্টি যেন আখেরাতের উপর পড়ে। কারণ এই দুনিয়া টিকে থাকবে না৷ বরং তা ক্ষণস্থায়ী। আর আখেরাত চিরস্থায়ী।

সমস্ত উম্মতের৷ মাঝে যেন এই তিন মাকসাদ এসে যায় এটাই ইলিয়াস রহ.-এর মাকসাদ ছিলো৷ কোনভাবে কষ্ট করে যদি এই তিন মাকসাদ আমরা হাসিল করতে পারি তাহলে আখেরাতে চিরস্থায়ীভাবে আমরা জান্নাতে থাকতে পারবো, ইনশাআল্লাহ।

অনুলিখন ও অনুবাদ: আবু দারদা, ইজতেমা প্রতিনিধি

পূর্ববর্তি সংবাদরাজধানীতে ১৩ বছরের কিশোরীকে গণধর্ষণ, গ্রেফতার ৫
পরবর্তি সংবাদখাগড়াছড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, পুড়ে গেছে ১৫ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান