দাবানল থেকে প্রাণি বাঁচানোর জন্য যারা হা-হুতাশ করল তারাই শুরু করল উট হত্যাকাণ্ড!

তারিক মুজিব ।।

অবলা প্রাণির প্রতি মানুষের মমত্ববোধ ও ভালবাসা একটি সহজাত স্বাভাবিক বিষয়। পশু-প্রাণির অসুখে-বিপদে মানুষকে কাতর হতে দেখা যায় হর হামেশায়। হামলার আশঙ্কা বা খাবারের প্রয়োজন মেটানো ছাড়া পশু হত্যার নজির পৃথিবীতে কম। এছাড়া মুসলমানরা ধর্মীয় বিধি পালনে কুরবানীর সময় পশু জবাই করে থাকেন। তবে সম্প্রতি পশু হত্যার নৃশংসতম নজির স্থাপন করল ওসেনিয়ার দেশ অস্ট্রেলিয়া। ‘ভূ-ভাগের পানি কমে যাওয়ার মিছে আশঙ্কা থেকে’ দেশটিতে সরকারিভাবে দশ হাজারের মতো উট হত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরও কয়েক হাজার বছর আগে এরূপ নিকৃষ্ট কাণ্ড ঘটিয়েছিল অভিশপ্ত ছামুদ জাতি। তারপর তাদের উপর নেমে এসেছিল রবের মর্মন্তুদ আযাব।

মুসলমানদের ধর্মীয় বিধি পালনে কুরবানীর সময় পশু জবাই নিয়ে যে স্যাকুলাররা সব সময় উচ্চবাক্য; অস্ট্রেলিয়ায় নৃশংসতম পশু হত্যাকাণ্ডের পরও তাদের নিরবতা প্রসঙ্গে অনেকেই বলছেন, উটের সাথে ইসলামের ইতিহাসের কিছুটা সংশ্লিষ্টতা থাকার কারণে ভেকধারী স্যাকুলাররা এ ব্যাপারে মুখে কুলুপ এঁটে রয়েছেন। উটের সাথে ইসলামের ইতিহাসের সংশ্লিষ্টতা খোঁজা বা উটের প্রতি বাড়তি দরদ প্রকাশ করা এ লেখার উদ্দেশ্য নয়। বরং একটি প্রাণীকেও অযথা কষ্ট দেওয়া যে ভয়াবহ অন্যায় ও অমানবিকতা সেদিকে ইঙ্গিত করাই এখানে মুখ্য।

অস্ট্রোলিয়া ক্যাঙ্গারুর দেশ হিসেবে সারা বিশ্বে পরিচিত। দেশটিতে হাজার হাজার বর্গমাইলজুড়ে বিস্তৃত বনাঞ্চলে রয়েছে বিশাল জীববৈচিত্র। সাত কোটি কিলোমিটারের বিশাল এবং বিশ্বের ষষ্ট বৃহত্তম দেশটিতে জনসংখ্যার বাস মাত্র ২ কোটি। চারদিকে সমুদ্রবেষ্টিত বিশাল দেশটিতে রয়েছে ২১০০ কিমি দীর্ঘ প্রবাল প্রাচীর। সুতরাং উট পানি পান করার কারণে দেশটির ভূ-ভাগের পানি কমে যাওয়ার অজুহাত নিছকই খেলতামাশাপূর্ণ।

সম্প্রতি ভয়াবহ দাবানলের মুখে পড়েছিল অস্ট্রেলিয়া। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তখন দেশটিতে। দাবানল এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। দাবানলের ভয়াবহ তোপের সময় দেখা গেছে আগুনের প্রচণ্ড তাপ সহ্য করে বন্য জন্তু-জানোয়ারকে সেদেশের মানুষ রক্ষা করেছে। গণমাধ্যমে এটির বেশ প্রশংসাও করা হয়েছে।

তবে দাবানলের ভয়াবহতা থেকে যারা প্রাণীকে রক্ষা করেছে তারাই আবার দাবানল কিছুটা কমে আসলে পানি কমে যাওয়ার ঠুনকো অজুহাতে দশ হাজার উট হত্যার নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডে মেতে উঠেছে; সারাবিশ্বের মানুষদের সাথে এ ঘটনাটি আমাদেরও ব্যথিত করেছে চরমভাবে।

অস্ট্রেলিয়ায় উট স্থানীয় প্রাণি না। মূলত ইংরেজদের দ্বারা ভারত, আফগানিস্তান এবং মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোতে থেকেই উট সেখানে নেওয়া হয় এবং পরে এর বিস্তার ঘটে। কেউ কেউ বলছেন উটের এই ‘ন্যাশনালিটি ক্রাইসিস’ না থাকলে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে এইভাবে বনের উট হত্যা সম্ভব ছিল না। নানা জায়গা থেকেই এ ব্যাপারে বাঁধা আসত এবং প্রশ্ন উঠত’।

পূর্ববর্তি সংবাদপারভেজ মোশাররফকে দেওয়া মৃত্যুদণ্ড রায় অসাংবিধানিক আখ্যা দিল লাহোর হাইকোর্ট
পরবর্তি সংবাদসাভারে ‘সন্ত্রাসী আস্তানা’ সন্দেহে একটি বাড়ি ‍ঘিরে রেখেছে পুলিশ