দ্বীনপ্রাণ জীবন: সন্তানের বেড়ে ওঠায় পরিবার ও পরিবেশের প্রভাব

মাহমুদ সিদ্দিকী ।।

সামাজিকভাবে আমাদের ইসলামের জ্ঞান যে কতটা দুর্বল, তার উদাহরণ আমাদের পরিবারগুলো। সমাজে যারা খানিকটা ইসলামপ্রিয়, তাদের মধ্যে একটা জনপ্রিয় ধারণা আছে এমন- ‘জীবনে আর যাই করি, একটা ছেলেকে হাফেজ-আলেম বানাব। নিজে আমল-টামল করতে পারি আর না পারি, ছেলেটা হাফেজ-আলেম হলে সে-ই আল্লাহ-আল্লাহ করে পার করে নিবে। নিজের আখেরাত নিয়েও তো একটা চিন্তা-ফিকির করা লাগে। আখেরে মুসলমান তো!’

আমাদের সমাজে এই ধারণাটা বেশ পরিচিত ও জনপ্রিয়। যার ফলে, মাদরাসাপড়ুয়াদের বড় একটা অংশের পারিবারিক অবস্থা দেখা যায়- দ্বীনের সাথে তাদের ন্যূনতম সম্পর্কও নাই। কারুর-কারুর থাকলেও সেটা নিজের বুঝের দ্বীন, আদতে সেটা শরিয়াহ কিংবা কুরআন-হাদিসবর্ণিত দ্বীন না। অনেক ক্ষেত্রেই ব্যাপারটা এমন- ইসলামের যেই ব্যপারটা তার কাছে সহজ লাগে, সেটা মানেন। আর যেগুলো কঠিন মনে হয় সেগুলোর ক্ষেত্রে মনোভাব হলো- ‘এগুলো কি মানা সম্ভব নাকি? এগুলো পরহেজগাররা মানবে। আমাদের দ্বারা সম্ভব না। শেষ জীবনে তওবা-টওবা করে ভালো হয়ে যাবনে।’

স্বভাবতই, এই মানসিকতার ফলে সেইসব পরিবারে দ্বীন ও ইসলাম এমন একটা অবস্থায় গিয়ে দাঁড়ায়, যেটা আদতে ইসলামই না; হলেও সেটা কেবল মনগড়া দ্বীন। ব্যক্তিগত দ্বীনদারির অবস্থা করুণ হলেও তারা একটা সন্তানকে হাফেজ-আলেম বানাতে চেষ্টা করেন। সেই চেষ্টা দুঃখজনকভাবে অনেকের ক্ষেত্রে সফল হয় না। যাদের ক্ষেত্রে হয়, তাদের ক্ষেত্রেও প্রায়শ খুব আশাব্যঞ্জক কিছু হয় না। একদিক থেকে তাদের এই আখেরাতচিন্তা প্রশংসনীয় হলেও আদতে এই মানসিকতা বরং ভয়ংকর ও ক্ষতিকর।

নিজের আমল ব্যতীত অন্যের উপর ভর করে পার পেয়ে যাওয়ার চিন্তা সঠিক আখেরাতচিন্তা কিনা— সে আরেক আলাপ। কেবল অন্যের উপর ভরে পার পেয়ে যাওয়াই যদি মৌল বিষয় হত, তাহলে এর সর্বাধিক হকদার হতেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সন্তানাদি ও পরিবারবর্গ। অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘শোনো বনি আব্দুল মুত্তালিব, শোনো বনি হাশেম, আল্লাহ্‌র কাছ থেকে নিজেদের সওদা তোমরা নিজেরা করে নাও। আল্লাহ্‌র মোকাবেলায় তোমাদের জন্য কিছু করার ক্ষমতা আমার নেই। শুনুন নবীর ফুফু উম্মে যুবাইর, শোনো ফাতেমা বিনতে মুহাম্মাদ, আল্লাহ্‌র কাছ থেকে নিজেদের সওদা তোমরা নিজেরা করে নাও। আল্লাহ্‌র মোকাবেলায় তোমাদের জন্য কিছু করার ক্ষমতা আমার নেই। তোমরা আমার কাছে যত ইচ্ছা আমার সম্পদ চাইতে পারো’। মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং—৯১৭৭

এই হাদিসের বক্তব্য স্পষ্ট। সঠিক আখেরাতচিন্তা হলো, শরিয়াহ পূর্ণাঙ্গভাবে মানা। আখেরাতে সুপারিশের সুযোগ আল্লাহ তাআলা রেখেছেন। সেই সুপারিশের প্রকৃতি কেমন হবে- সেই ব্যাখ্যা শরিয়ায় থাকলেও এই নিশ্চয়তা নেই যে, এই সুপারিশ আমার-আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে আর শরিয়াহর খেলাফ সারা জীবন আমল করেও বিনা হিসেবে আখেরাতে পার পেয়ে যাব। যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপন গোত্র ও আত্মীয়স্বজন; খোদ আপন মেয়ে ফাতেমাকে নিজের সওদা নিজে করতে বলছেন, নিজের অপারগতা পেশ করছেন, সেখানে দ্বীন পালন না করে কেবল সন্তানকে হাফেজ-আলেম বানিয়ে আখেরাতে পার পেয়ে যাওয়ার চিন্তা স্পষ্টতই মূর্খ ও অজ্ঞচিন্তা। শরিয়াহর মেজাজ ও প্রকৃতির সম্পূর্ণ বিরোধী এক ধ্বংসাত্মক ফিকির।

তো, শরিয়াহর নিক্তিতে আখেরাতে পার পাওয়ার প্রকৃত ও মৌলিক মাধ্যম হলো, শরিয়াহ অনুযায়ী আমল করা। কাউকে যদি আল্লাহ ছোট কোনো আমলের কারণে ক্ষমা করে দেন, সেটা আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ। কোনো আমল ব্যতীতও আল্লাহ চাইলে ক্ষমা করে দিতে পারেন। আল্লাহ তাআলা চাইলে সবকিছুই করতে পারেন। এই করতে পারার মানে এই নয় যে, আল্লাহ সবকিছুই করবেন। শরিয়াহর নিক্তি অনুযায়ী আল্লাহ তাআলা বিচার করবেন এবং এটাই হবে ইনসাফ ও ন্যায়বিচার। এর বাইরে যাকে ক্ষমা করবেন, সেটা হবে আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ ও দয়া।

২.
একটা সন্তানের বেড়ে ওঠা, চালচলন, ভবিষ্যত গতিপ্রকৃতি নির্ভর করে তার পারিপার্শ্বিক অবস্থার উপর। দ্বীনী পরিবেশে বেড়ে-ওঠা সন্তানের চিন্তাচেতনা গড়ে উঠবে দ্বীনী আলোকে, ভিন্ন পরিবেশে বেড়ে-ওঠা সন্তানের চিন্তাচেতনা গড়ে উঠবে ভিন্ন আলোকে। একটা সহজ উদাহরণ দেয়া যাক। যেই শিশুটি গ্রামীণ মাতৃক্রোড়ে বেড়ে ওঠে, তার বোল হয় গ্রামীণ আঙ্গিকে। শহুরে সন্তানটির কথাবার্তার ধরণ হয় আরেকটু ভিন্ন। অভিন্ন ভাষায় কথা বললেও উভয়ের কথাবার্তা ও চালচলনে ভিন্নতা স্পষ্টতই চোখে ধরা পড়ে। একইভাবে, যেই শিশুটির বেড়ে ওঠা বাঙালি মাতৃক্রোড়ে, তার বোল হয় বাংলায়; ইংরেজ মায়ের সন্তানের ভাষা হয় ইংরেজি। এইক্ষেত্রে মূল পার্থক্যটা আসলে কোথায়? পার্থক্যটা এখানে পরিবেশে। যেই সন্তানটি বেড়ে উঠছে বাংলা ভাষার পরিবেশে, অজ্ঞাতসারেই সে বাংলা শিখে ফেলছে। কারণ, তার চারপাশ ও পরিবেশে সে বাংলা ভাষাই কেবল পেয়েছে। শহরের পরিপাটি ছেলেটা পরিপাট্যের যে-সবক পেয়েছে, গ্রামীণ ছেলেটা সেই পরিবেশের সবক পায়নি। ফলে, উভয়ের চালচলন, আচার-আচরণ সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে যাচ্ছে। দ্যাটস দ্য ডিফারেন্স।

উপরে বলেছি, আখেরাতে সুপারিশের ব্যবস্থা আছে। সেই সুপারিশের জন্য প্রধান শর্ত হলো, সুপারিশকারীকে সুপারিশের যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। হাফেজ-আলেম হয়ে গেলেই সেই সুপারিশের যোগ্যতা অর্জিত হয়ে যায় না। সেটা নির্ভর করে তার আমলের উপর। মোটাদাগে সেটা নির্ভর করে মাদরাসার তরবিয়তের পাশাপাশি পারিবারিক ও পারিপার্শ্বিক সঠিক পরিবেশে তাঁকে গড়ে তোলার উপর। যেই ছেলেটা এক মাস দ্বীনী পরিবেশে ইলম শিখে বাসায় এসে পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে, এর দায়টা আসলে কার? দ্বীন-না-মানা পিতামাতা যখন সেই সন্তানের জন্য আফসোস করেন, তখন কি নিজের কথা একবারও ভাবেন? যেই সন্তানকে দিয়ে আপনি নিজে শরিয়াহ বিরোধী কাজ করাচ্ছেন কিংবা করতে বলছেন, সেই সন্তান যদি আপনার কথা অমান্য করে, সেই ক্ষেত্রে আপনি আফসোস করতে পারেন কি?

তো, একটা সন্তানকে ভালো হাফেজ-আলেম বানানোর জন্য প্রধান শর্ত হলো, তাকে যথাযথ পরিবেশে গড়ে তোলা। মাদরাসার পরিবেশ মাদরাসা নিশ্চিত করলেও পারিবারিক পরিবেশ নিশ্চিত করা বাবার দায়িত্ব। অনুপযোগী পরিবেশে গড়ে-ওঠা সন্তানকে যদি আপনি দ্বীনদারির দুর্বলতা দেখে কটাক্ষ করেন কিংবা দুঃখিত হন, তবে সেই কটাক্ষ করা কিংবা দুঃখিত হবার অধিকার আদতে আপনার নেই। কারণ, আপনি আপনার পরিবারে তার পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারেননি।

সন্তানকে হাফেজ-আলেম বানানো যাদের শুধুই শখ, তাদের সেই ‘শুধুই শখ’-এর মূল্য বাস্তবে কতটুকু— বিষয়টা বিবেচনার দাবি রাখে। অনেক ক্ষেত্রে শুধুই শখের বশে মাদ্রাসায় দেয়া সন্তানের ইলমি-আমলি উন্নতি-অগ্রগতি হলেও, পারিবারিক পরিবেশের অভাবে অনেক সন্তানই ঝরে যায়। যারা টিকে যায়, তাদের মধ্যেও আমলের প্রচুর ঘাটতি দেখা যায়। সম্পূর্ণ দ্বীনী পরিবেশে গড়ে-ওঠা সন্তানের ইলমি-আমলি উন্নতি যতটা হয়, ভিন্ন পরিবেশে বেড়ে-ওঠা ছেলেটার তা হয় না। এই না-হওয়ার দায় যতটা তার, ঠিক ততটাই তার পরিবারের। আরও নির্দিষ্ট করে বললে, সেই পরিবারের কর্তাপুরুষ বাবার।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এজন্য স্পষ্ট ভাষায় বলে গেছেন— ‘তোমরা সকলে অভিভাবক। তোমাদের অধীনস্তদের ব্যাপারে তোমাদের সকলকে জিজ্ঞেস করা হবে। শাসক একজন অভিভাবক। পুরুষ তার পরিবারের সদস্যদের অভিভাবক। নারী তার স্বামীর ঘর ও সন্তানের অভিভাবক। সুতরাং তোমরা সকলেই অভিভাবক। সকলেই নিজ অধীনস্তদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে’। (বুখারি, হাদিস-৫২০০)

খোদ বুখারি শরিফে এই হাদিসটি এসেছে নয়বার। মুসলিমসহ অন্য হাদিসগ্রন্থগুলোতেও এসেছে হাদিসটি। দায়িত্বশীল বা অভিভাবক বোঝাতে হাদিসের ব্যবহৃত শব্দটি হলো— রাঈ। যার আক্ষরিক বাংলা করলে দাঁড়ায়— রাখাল। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রাখালের গুরুত্ব বুঝে না আসলেও আরবের প্রেক্ষাপটে তখন রাখালের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। মরুভূমিতে বিশাল ছাগল কিংবা দুম্বার পাল দিয়ে রাখালকে পাঠানো হত চারণভূমিতে। হিংস্র জন্তু কিংবা মরুদস্যু— এদের কাছ থেকে রক্ষা করে সন্ধ্যায় নিরাপদে ফিরিয়ে আনা ছিল রাখালের দায়িত্ব। বিশাল মরুভূমিতে ছাগল বা দুম্বার পালকে নিরাপদ রাখতে হলে একজন রাখালকে হতে হত চোখ-কান-খোলা সদাসতর্ক একজন মানুষ। সামান্য অমনোযোগী হলেই নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবার আশংকা। ছাগল বা দুম্বার পালের কোনো ক্ষতি হলে মনিবের কাছে রাখালকে জবাবদিহি করতে হত। বলাবাহুল্য, দায়িত্বটি ছিল অত্যন্ত নাযুক। হাদিসে রাঈ শব্দ ব্যবহার করে দায়িত্বের এই নাযুকতা ও সতর্কতার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।

এই হাদিসে একজন পুরুষকে পরিবারের সদস্যদের ব্যাপারে মরুরাখালের মতো সজাগ-সচেতন-চৌকান্ন দায়িত্বশীল হতে বলা হয়েছে। একটা পরিবারে একজন পুরুষের দায়িত্ব দুই ধরণের। এক, অর্থনৈতিক প্রয়োজন পূরণ করা। দুই, পরিবারের দ্বীনী জ্ঞান ও পরিবেশ নিশ্চিত করা। উভয় ধরণের দায়িত্ব পালন করাই পরিবারপ্রধানের জন্য জরুরি। তো, এই দুই দায়িত্বের কোনো একটি পালনে বিঘ্নিত হলেই জবাবদিহি করতে হবে আল্লাহ্‌র কাছে। বিষয়টা শুনতে যতটা সহজ মনে হচ্ছে, বাস্তবে ততটা সহজ নিশ্চয় নয়।
যেই পরিবারের কর্তাপুরুষ অর্থনৈতিক দায়িত্ব পালন করলেও পরিবারের দ্বীনী পরিবেশ নিশ্চিত করেননি, উক্ত হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী তাকে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে জবাবদিহি ও জবানবন্দি দিতে হবে। এটা পরিবার ও সন্তানের হক। অন্যের হক নষ্ট করাকে আল্লাহ ক্ষমা করেন না।

৩.
ইসলামে পারিবারিক জীবনের গুরুত্ব অপরিসীম। সুস্থভাবে পৃথিবীকে টিকিয়ে রাখতে হলে পরিবারব্যবস্থার সুস্থতা নিশ্চিত করতে হবে। উপরোক্ত আলোচনায় মাদ্রাসাপড়ুয়া সন্তানের সাধারণ পরিবারের কথা আসলেও এই কথা সকল মুসলিম পরিবার ও পরিবারপ্রধানের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য। আপনার যেই সন্তানটিকে আপনি দ্বীনী শিক্ষা ও দ্বীনী পরিবেশ দিতে পারছেন না, সেই সন্তানটি কিন্তু বাইরের পরিবেশ দ্বারা ঠিকই আক্রান্ত হচ্ছে। একসময় সেই সন্তানকে নিয়ে আপনি প্রচুর আফসোস করছেন, তাঁকে ধমকাচ্ছেন, শাসন করছেন। কিন্তু আদতে তা কোনো কাজই হচ্ছে না। কারণ, শৈশবে যখন তাকে দ্বীনী শিক্ষা ও সার্বক্ষণিক দ্বীনী পরিবেশ দেয়া আপনার দায়িত্ব ছিল, তখন তা দিতে পারেননি। ফলে, একসময় আপনার সন্তান বিগড়ে যাচ্ছে।
আরবিতে একটি প্রবাদ আছে— আল-ইলমু ফিস-সিগার, কান-নাকশি ফিল-হাজার। ‘বাল্যকালে শেখা ইলম পাথরের গায়ে খোদাইয়ের মতো স্থায়ী হয়ে থাকে।’ আপনি সন্তানকে যেই পরিবেশে গড়ে তুলবেন, বড় হয়ে সে সেভাবেই চিন্তা করবে। দ্বীনদারির জন্য একটা দ্বীনদার পরিবার ও দ্বীনী পরিবেশ জরুরি। তাহলে সন্তানের দীক্ষা নিয়ে আলাদাভাবে চিন্তা করতে হবে না। পরিবেশের মাধ্যমেই সে দীক্ষা লাভ করতে থাকবে।

সারকথা হলো, সন্তানের জন্য পরিবারে দ্বীনী পরিবেশ ও দ্বীনী শিক্ষা নিশ্চিত করা একজন বাবার প্রধান দায়িত্ব। তাহলে সেই সন্তান সঠিকভাবে বেড়ে উঠবে। সেই পরিবেশ যদি নিশ্চিত করতে না পারেন, তাহলে আল্লাহ্‌র দরবারে তিনি জিজ্ঞাসিত হবেন। জবাবদিহি করতে হবে। সন্তান মাদরাসায় পড়ুক কিংবা স্কুলে, তার জন্য পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। মাদরাসাপড়ুয়া সন্তানের জন্য একটু বেশিই জরুরি। কারণ, একসময় তার আমল-আখলাককে ফলো করে মানুষ চলবে। পরিবেশের অভাবে যে-সন্তানের আমলি ঘাটতি থেকে যাবে, তার দায় বাবা কখনোই এড়াতে পারেন না।

এক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, শখের বশে মাদরাসায় পাঠানো সন্তানের বাবা এবং জেনারেল পড়াশোনা করেও দ্বীনদারি মেনে চলা সন্তানের বাবা— অজ্ঞতার কারণে সামাজিকতার বিরোধী বলে অনেক ক্ষেত্রেই সন্তানের দ্বীন পালন নিয়ে কটাক্ষ করেন। অনেক ক্ষেত্রে শরিয়াহ বিরোধী সামাজিক কর্মটিতে অংশগ্রহণ করতে চাপও দেন। পরিবারের অন্য সদস্যরাও বিভিন্নরকম কথা বলে থাকেন। দ্বীনী পরিবেশ নিশ্চিত না করার কারণে একে তো তারা শরিয়াহ অমান্য করছেন, দ্বীন পালনের কারণে কটাক্ষ করে নিজেদের দুর্ভাগ্য তারা আরও বাড়াচ্ছেন। নিজে শরিয়াহ না মানুন, অন্যকে শরিয়াহর খেলাফ করতে বাধ্য করার অধিকার কারুর নেই।

লেখক: তরুণ আলেম-লেখক ও সম্পাদক

পূর্ববর্তি সংবাদকুমিল্লায় ২৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে ১৮টি মডেল মসজিদ
পরবর্তি সংবাদশিক্ষার্থীদের পাকিস্তানে চলে যাওয়ার হুমকি ভারতীয় শিক্ষকের