মিয়ানমারে গভীর সমুদ্রবন্দর এবং দ্রুতগামী ট্রেন চালু করবে চীন

ইসলাম টাইমস ডেস্ক : গণহত্যার দায়ে বিশ্ব যখন মিয়ানমার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে, ঠিক তখন মিয়ানমারে গভীর সমুদ্রবন্দর এবং দ্রুতগামী ট্রেন চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীন। এ লক্ষ্যে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিং পিং শুক্রবার মিয়ানমারের রাজধানীতে পৌঁছেছেন। শির সফরে দুই দেশের কয়েক বিলিয়ন ডলারের অবকাঠামো চুক্তি হবে বলে জানা গেছে।

চীনের গ্লোবাল বেল্ট ও সড়ক উদ্যোগের অংশ হিসেবে শি বেশ কিছু বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। চুক্তির ফলে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ এবং পূর্ব থেকে পশ্চিমে দ্রুতগামী ট্রেন চালুর মাধ্যমে মিয়ানমারের চেহারা বদলে যেতে পারে।

তবে সমালোচকরা এ সফরকে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের কারণে অং সান সু চির বদলে যাওয়া ভাবাধারার বিপরীতে প্রতীকী সহযোগিতা হিসেবে দেখছেন। শুক্রবার এক স্বাগত অনুষ্ঠান ও নৈশ ভোজের পর শি শনিবার সু চি ও সেনাপ্রধান মিং অং হলাইং-এর সঙ্গে বৈঠক করবেন।

রোহিঙ্গা গণহত্যা নিয়ে অভিযোগে যখন মিয়ানমার থেকে পশ্চিমাবিশ্ব মুখ ফিরিয়ে ?নিচ্ছে, ঠিক তখনই বড়ো বিনিয়োগ নিয়ে কোটি কোটি ডলারের অবকাঠামো চুক্তি করতে দেশটিতে সফরে গেলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং। চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডরের আওতায় উভয় দেশ বেশ কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই করতে পারে।

এ সফরে পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে ১৩০ কোটি ডলারের গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ, পূর্বদিকে দ্রুতগামী ট্রেন এবং বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র ইয়াঙ্গুনে আরো কিছু শিল্প গড়ে তোলা নিয়ে চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে।

রাখাইনে কিয়াউকফিউ গভীর সমুদ্রবন্দর গড়ে চীন নাগালে পেতে চায় বঙ্গোপসাগর এবং এর মাধ্যমে সরাসরি ভারত মহাসাগরকে। তাছাড়া, দ্রুতগামী ট্রেনের মাধ্যমেও চীনের ইউনান প্রদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের ওই বন্দরকে যুক্ত পরিকল্পনা রয়েছে বেইজিংয়ের। এ পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর প্রকল্পের পথ সুগম করা এবং মিয়ানমারে সবচেয়ে বড়ো বিদেশি বিনিয়োগকারী দেশ হিসেবে চীনের প্রভাব প্রতিষ্ঠা করাই শি-র সফরের লক্ষ্য।

কিয়াউকফিউ বন্দর প্রকল্পের জন্য চীন ৭২০ কোটি ডলার বিনিয়োগে ইচ্ছুক ছিল। কিন্তু চীনা লগ্নিতে ঋণের ফাঁদে পড়ে দেশ বিকিয়ে যাওয়ার ভয়ে সে বিনিয়োগ ১৩০ কোটি ডলারে নামিয়ে এনেছে মিয়ানমার। বন্দর নির্মাণ ছাড়াও বিস্তীর্ণ শস্যভূমি ও বন এলাকায় চীনের বিনিয়োগে গার্মেন্টস ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কারখানা গড়ে তোলারও পরিকল্পনা রয়েছে।

মিয়ানমারের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক ইতিপূর্বে কখনো কখনো সমস্যাশঙ্কুল থাকলেও রোহিঙ্গা প্রশ্নে চীন মিয়ানমারের পাশে দাঁড়ানোর পর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক অনেকটাই উষ্ণ হয়েছে।

পূর্ববর্তি সংবাদঅডিও ফাঁস হওয়ায় পদত্যাগ করেছেন ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী
পরবর্তি সংবাদবি-বাড়িয়ায় হামলাকারী কাদিয়ানীদের পক্ষেই চলছে প্রোপাগান্ডা