বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনীতি চরম সংকটের মধ্যে আছে : মুহিত

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনীতি চরম সংকটের মধ্যে আছে মন্তব্য করে সাবেক অর্থমন্ত্রী এ এম এ মুহিত বলেন, ব্যাংক খাত খুব ঝামেলার মধ্যে আছে। একে এভাবে চলতে দেওয়াটা অর্থনীতির জন্য ভালো হবে না। বর্তমান অর্থমন্ত্রী অনেক কথা বলেছেন, অনেক ঘোষণাও দিয়েছেন। তবে এখনো বোঝা যাচ্ছে না তিনি ঠিক কী করতে যাচ্ছেন।

সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে আবুল মাল এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমাদের ব্যাংক খাত এখনো অপরিপক্ব। ব্যাংক খাতে দুর্বলতা আছে। বেসরকারির তুলনায় সরকারি ব্যাংকগুলোতে দুর্বলতাটা বেশি। বেসরকারি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের হারও কম।

মুহিত বলেন, আসলে করপোরেট ব্যবস্থাপনায় আমরা দুর্বল। ব্যক্তি এখানে ব্যাংকের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর একীভূত হওয়ার ব্যবস্থা এখনো আছে। নেই দেউলিয়া আইন। অর্থমন্ত্রী থাকাকালে একটা ভুল করেছি আমি। ফারমার্স ব্যাংককে স্বাভাবিকভাবে মরতে দেওয়া উচিত ছিল। ফারমার্স ব্যাংকে শুরু থেকেই ডাকাতি হয়েছে। এটা কোনো ব্যাংক ছিল না।

কেন মরতে দিলেন না? এমন প্রশ্নে উত্তরে মুহিত বলেন, ভয়ে। একটা মরে গেলে তার ক্রমিক প্রভাব পড়ে পুরো খাতে। এখন মনে হচ্ছে ফারমার্স ব্যাংককে মরতে দিলে অসুবিধা হতো না।

বেসিক ব্যাংক প্রসঙ্গে মুহিত বলেন, আবদুল হাই বাচ্চুর মতো একটা লোকই বেসিক ব্যাংক ধ্বংস করে দিল। আর আমরাও এতে পক্ষ (পার্টি) হয়ে গেলাম। ব্যাংকটা আগে ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের খাতে ঋণ দিত। আমরাই শিথিল করে দিলাম। এটা ছিল একটা বড় ভুল।

আবদুল হাই বাচ্চুর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারলেন না কেন? এ প্রশ্নের জবাবে মুহিত বললেন, আমি এ ব্যাপারে কথা বলতে চাই না। তিনি ছিলেন ভিন্ন ধরনের রাজনীতিবিদ। বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে তার সংযোগ ছিল এবং এগুলো তিনি ব্যবহার করেছেন।

বাংলাদেশর শেয়ারবাজারের করুণ অবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন,  এটা খুবই দুঃখজনক। এখানে বাজারটা সব সময়ই ফাটকা বাজার হিসেবে থেকে গেছে। আসলে আমরা সঞ্চয় করি না, খালি খরচ করি। ভারতের সবাই সঞ্চয় করে। সম্পদ ভালো থাকলে খরচের প্রবণতা ভালো, যেটা যুক্তরাষ্ট্রের আছে। তবে ধনী না হলেও আমি একজন বড় সঞ্চয়কারী।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে রিজার্ভ চুরি প্রসঙ্গে মুহিত বলেন,  ঘটনার ২২ দিন পর আমি খবর জানলাম। আমি জানলাম ফিলিপাইনের সূত্রে খবর বেরোনোর পর। খুবই নাখোশ হয়েছিলাম যে আমাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা জানাল না। তৎকালীন গভর্নর অবশ্য পরে একটা ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন যে তিনি ভেবেছিলেন বিষয়টা সামলে নিতে পারবেন। এত বড় একটা জিনিস, জানানোটা তার দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক কতটা স্বাধীন হওয়া উচিত? এমন প্রশ্নের উত্তরে মুহিত বলেন, স্বাধীন হওয়া উচিত। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মাঝেমধ্যে অপ্রত্যাশিত আচরণ করে। ফলে নিয়ন্ত্রণটাও দরকার। একটা উদাহরণ দিই। বিশ্বব্যাংকে আমাদের পক্ষে একজন ভারতীয় নির্বাহী পরিচালক ছিলেন, যিনি মূলত একজন পরিবহন-যোগাযোগবিষয়ক অর্থনীতিবিদ। তিনি অনেক গবেষণা করে আমাকে জানালেন যে বাংলাদেশ ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) প্রায় ২০০টি ছোট কারিগরি সহায়তা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে এবং এগুলোতে একেকজন পরামর্শক রয়েছেন। বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। আমি একটু অবাক হলাম। পরীক্ষা করে দেখা গেল এগুলো মোটামুটি অপচয়মূলক ও অপ্রয়োজনীয় উদ্যোগ। আমরা ঠিক করলাম, এগুলো বন্ধ করে দেব।

পূর্ববর্তি সংবাদআনন্দবাজার-এর প্রতিবেদন: সিএএ নিয়ে ক্ষোভ গোপন রাখলেন না শেখ হাসিনা
পরবর্তি সংবাদর‌্যাব ১১-এর হেফাজতে মিলল নিখোঁজ দুই আলেমের সন্ধান, রাতেই ফিরিয়ে আনার আশাবাদ