আর কত বাংলাদেশি হত্যা করবে ‘সীমান্তের হানাদার’ বিএসএফ?

খসরু খান ।।

ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নাম বিএসএফ্। এই বিএসএফ গুলি করে বাংলাদেশিদের হত্যা করার এক বর্বর নীতি রপ্ত করে নিয়েছে। সর্বশেষ গতকাল বুধবার ও আজ বৃহস্পতিবার সীমান্তে গুলি করে ৫জন বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যা করেছে ভারতের এই বাহিনী। গুলি বর্ষণের ঘটনায় আহত অনেকেই চিকিৎসা নিচ্ছে হাসপাতালে।

বিএসএফের সীমান্ত হত্যা দিন দিন বাড়ছে। ভারতীয় এই বাহিনী বহু বছর ধরে হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে বাংলাদেশিদের ওপর। ২০১৯ সালে ৩৮জন বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে বিএসএফ। ২০১৮ সালে তারা হত্যা করেছিল ১৪জন বাংলাদেশিকে। এক বছরে এই হত্যাকাণ্ড ৩ গুন বাড়িয়েছে ভারত। এদিকে নতুন বছর শুরুর আজ মাত্র ২৩তম দিন। এর মধ্যেই বিএসএফ বেশ কয়েকজনকে হত্যা করেছে। তাদের হাতে আহত হয়েছে ৩৯জন আর আটক হয়েছে আরো ৩৪জন বাংলাদেশি।

ভারত ও বাংলাদেশের নাকি এ মুহূর্তে ‘সর্বোচ্চ বন্ধুত্বের সম্পর্ক’ চলছে। বাংলাদেশের বড় কর্তারা গত কয়েক বছর ধরে এমন কথা বার বার বলছেন। ভারতের নতুন নাগরিকপুঞ্জি ইস্যু ও নাগরিকত্ব সংশোধন আইন নিয়ে ভারতীয় নেতাদের পক্ষ থেকে বারবার বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী বক্তব্য দেওয়া হলেও ‘ভারতের বন্ধুত্ব’ হাসিমুখে ধরে রাখতে আমাদের এ দিকের নেতারা হরদম প্রস্তুত । নানারকম বাংলাদেশ-বিরোধী তৎপরতার পাশাপাশি ভারতীয় বাহিনীর হাতে গড়ে প্রায় প্রতি মাসে ৪জন বাংলাদেশি নিহত হলেও জোরালো কোনো প্রতিবাদ আমাদের দিকে থেকে উচ্চারিত হচ্ছে না। পরিস্থিতি অনেকটা এমন যে, ভারতের সীমান্ত-বাহিনী যত বাংলাদেশিকে যে অজুহাতেই হত্যা করুক-এ নিয়ে এদিক থেকে কোনো প্রতিবাদ করা যাবে না। এ হত্যাকাণ্ড নীরবে মেনে নিতে হবে ‘হাসিমুখ বন্ধুত্বেরই’ সাথে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয় বাহিনী যেভাবে হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে, পৃথিবীর কোথাও বিবাদমান দুটি রাষ্ট্রের সীমান্তে এমন হত্যাকান্ডের নজির নেই। নজির নেই এজাতীয় সীমান্ত হত্যা এভাবে নীরবে সয়ে যাওয়ারও। অন্য কোনো দেশের সীমান্তে কোনো হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটলে সেটা পরিণত হয় অনেক বড় ইস্যুতে। শোরগোল পড়ে যায় চারদিকে। আলোচনা ও প্রতিবাদে উত্তপ্ত হয়ে উঠে পরিবেশ। কিন্তু বন্ধুত্বের পোশাকি আওয়াজ মুখে নিয়ে ভারতের হাতে বাংলাদেশি হত্যার এই পাশবিক ধারাবাহিকতা নিয়ে দেশিয় কর্তাদের কোনো আওয়াজ নেই। ভারতীয় পক্ষের সাথে বিগত বছরগুলোতে সীমান্ত হত্যা নিয়ে কিছু আলোচনা ও সিদ্ধান্তের খবর সংবাদপত্রের আর্কাইভে পাওয়া যায়। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতির চিত্র দিন দিন ভয়াবহ থেকে আরো ভয়াবহতর হয়ে উঠছে।

ভারতের সাথে বন্ধুত্বের শব্দাবলী না থামলেও সীমান্তে ভারতীয় বাহিনী হানাদারের ভূমিকায় যে কোনো কমতি করছে না-আজকালের ৫ বাংলাদেশি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সেটা আবারো প্রমাণিত। প্রশ্ন হচ্ছে, এই সীমান্ত হত্যাকারী ‘হানাদার বন্ধুদের’ ব্যাপারে প্রতিবাদী ভাষায় মুখ খুলতে আমাদের আর কতদিন লাগবে? নাকি হাসিমুখে কেবল গদগদ বন্ধুত্বের বিনিময়ই চলবে আজীবন? বিএসএফের গুলিতে নিহত ‘ফেলানি’র মতো গোটা সীমান্তের বাংলাদেশিদের জীবন ভারতের হাতে ফেলনা হয়েই থাকবে সব সময়? থাকতেই হবে? ক্রমবর্ধমান এই হত্যাকাণ্ডের ধারাবাহিকতা থামাতে কোনো কৌশলী, সাহসী পদক্ষেপ কি নেওয়া যায় না?

পূর্ববর্তি সংবাদজেরুজালেমে ইসরায়েলি নিরাপত্তাকর্মীদের আচরণে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন ফ্রান্স প্রেসিডেন্ট
পরবর্তি সংবাদহজযাত্রীদের প্লেন ভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা