দীনী বিষয়ে প্রশ্নোত্তর: লাইভ প্রোগ্রামে আদাব রক্ষা না করায় অনেক ফিতনা হচ্ছে

শিহাব সাকিব ।।

জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়া ঢাকার উস্তাদ ও রিসালাতুল ইসলাম বিডির উপপরিচালক মাওলানা তাহমীদুল মাওলা বলেছেন, সাহাবায়ে কেরাম নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে দীন শিখেছেন প্রধানত দুইভাবে। এক. নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ থেকে কথা বলতেন। সাহাবায়ে কেরাম শুনতেন। দুই. সাহাবায়ে কেরাম প্রশ্ন করতেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিতেন।

নানা রকম প্রশ্নই সামনে আসত। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঢালাওভাবে সব প্রশ্নের উত্তর দিতেন না। বরং জরুরি ও প্রয়োজনীয় হলেই জবাব দিতেন। মাঝে মাঝে শুধু মুখে বলেই ক্ষ্যান্ত হতেন না বরং হাতে কলমে শিখিয়েও দিতেন। কখনও বা সাথে সাথে উত্তর দিতেন না। অহির অপেক্ষা করতেন। আবার কোন কোন প্রশ্ন এড়িয়েও যেতেন। অবান্তর ও উদ্ভট প্রশ্ন করলে রাগ করতেন। ধমক দিতেন। এই ছিল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রশ্নোত্তরের কয়েটি সুরত।

রামপুরা মহানগর প্রজেক্ট জামে মসজিদে গত জুমাবার বাদ ইশা সাপ্তাহিক তাফসির মাহফিলে সুরা বাকারার ১৮৯ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যায় কথাগুলো বলেন মাওলানা তাহমীদুল মাওলা।

হাইসাম ইবনু জামিল রহ. বলেন একলোক ইমাম মালিক রহ.কে ৪৮ টি মাসআলা জিজ্ঞেস করেছিল। তিনি ৩২ টির জাবাবেই বলেছিলেন, “আমি জানি না”! -আত তামহীদ ১:৭৩। ঘটনাটি উল্লেখ করে মাওলানা বলেন, “মালেক রহ. এর মত জগদ্বিখ্যাত আলেম এত এত প্রশ্নের উত্তরে “জানি না” বলতে কোন সংকোচবোধ করেন নি। আমাদের পূর্বসূরি মহান মনীষীদের এমন বহু ঘটনা রয়েছে। সব প্রশ্নের উত্তর দেয়াকে তারা পসন্দ করতেন না। কারণ সব প্রশ্নের উত্তর হয় না।

ইবনু সারহ রহ. (মৃত্যু ২৫০ হি.) বলেন, “আজকাল ‘আমি জানি না’ বলাটাকে অনেকে দোষ মনে করে”! –আল কামিল ১:৯৩। আলেমের জন্য সব প্রশ্নের উত্তর দেয়া আবশ্যক নয়। তাৎক্ষণিক জরুরি প্রশ্নের উত্তর জানা থাকলে তো বলে দিবেন। কিন্তু ভালোভাবে জানা না থাকলে বলবেন না।

আর যে সব প্রশ্ন একটু সময় নিয়ে ভেবে চিন্তে, পরামর্শ ও গবেষণা করে দিতে হয়, এমন প্রশ্নের উত্তর সাথে সাথে দেয়া ঠিক নয়। তাৎক্ষণিক উত্তর না দেয়াটা দোষের কিছু নয়। বরং ভুল, বিভ্রান্তিকর বা আংশিক উত্তর দেয়া ভয়ংকর অপরাধ। অবান্তর ও অমূলক প্রশ্ন অবশ্যই এড়িয়ে যাবেন। কখনও প্রয়োজন মনে হলে এমন প্রশ্নকর্তাকে সতর্কও করে দিবেন। ইদানিং যারা লাইভ প্রশ্নোত্তরের অনুষ্ঠান করেন তাদের কেউ কেউ এসবের ব্যতিক্রম করার কারণে অনেক ফিতনা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। আমাদের সবার কর্তব্য রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সালাফের আদর্শ অনুসরণ করা।”

মাওলানা তাহমীদুল মাওলা আরও বলেন, “প্রশ্নকারীরও কিছু বিষয় লক্ষ্য রাখা আবশ্যক। যেমন নূহ আলাইসি সালামের নৌকা কত ইঞ্চি লম্বা ছিল, অমুকের কুকুরের নাম, তমুকের গাধার নাম কী ছিল- জাতীয় উদ্ভট আজগুবি ও বিভ্রান্তিকর প্রশ্ন করবেন না। তেমনি জটিল ও পারস্পরিক মতামত নির্ভর বিষয়ে তাৎক্ষণিক উত্তর চাইবেন না। বরং স্থানীয় আলেমদের কাছ থেকে নিয়মতান্ত্রিক ফতোয়া জেনে নিবেন।” আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে এই গুরুত্বপূর্ণ কথাগুলোর উপর আমল করার তাওফিক দান করুন। আমীন।