সাম্প্রদায়িক সিএএ : ঘরে-বাইরে প্রতিবাদ-সমালোচনার মুখে মোদির ভারত

তারিক মুজিব ।।

ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার কর্তৃক সংসদের উভয় কক্ষে পাশ হওয়া বিতর্কিত মুসলিম বিরোধী নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে আন্দোলন এখনও চলমান। প্রতিদিনই আন্দোলনকারীরা প্রতিবাদের নিত্যনতুন কৌশল উদ্ভাবন করছে।

ইন্ডিয়া গেইটের সামনে বিশাল পতাকাতলে সমবেত হয়ে, জামিয়া মিল্লিয়ার সামনে প্রতীকী ছবি এঁকে, কেরালাতে সাত কিলোমিটার লম্বা মানববন্ধ করে প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। ধর্ম-বর্ণের বিভেদ ভুলে গিয়ে মানুষ প্রতিবাদ করছে এই মুসলিম বিদ্বেষী কালো আইনের। ছাত্ররা পালন করছে অগ্রণী ভূমিকা। একদিন দিল্লিতে তো পরেরদিন মুম্বাইয়ে, বা লাখনৌতে কিংবা কেরালার কোনো জেলায়- ছাত্ররা সর্বব্যাপী আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। জামিয়া মিল্লিয়া, আলীগড়, জওহারলাল ইউনিভার্সিটিসহ দেশব্যাপীই চলমান প্রতিবাদ সংগ্রাম। ভারতের প্রসিদ্ধ মাদরাসার ছাত্ররাও প্রতিবাদে অংশ নিচ্ছে সমানতালে।

ছাত্র এবং সাধারণ জনতার আন্দোলনের ফলও হয়েছে বেশ। কেরালা, পাঞ্জাব, রাজস্থান, পশ্চিমবঙ্গ চারটি রাজ্যের বিধানসভায় সিএএ বিরোধী প্রস্তাব পাশ হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নেও গতকাল নিন্দা প্রস্তাব পাশ করা হয়েছে। ইইউ-এর ৭৫০ সদস্যের ৬০০ জনেরও বেশি ভারতের এই কালো আইনের নিন্দা জানিয়েছে। সাথে সাথে ভারতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তারা। ইইউ-এর প্রস্তাবে বলা হয়েছে সাম্প্রদায়িক সিএএ আইন পাশ করে ভারত গোটা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি রাষ্ট্রহীনতার পরিচয় দিয়েছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে হুমকির মধ্যে রেখেছেন।

এদিকে ভারতের জাতীয় প্রজাতন্ত্র দিবসে আমেরিকার ৩০ টিরও বেশি শহরে একযোগে সাম্প্রদায়িক সিএএ বিরোধী মিছিল হয়েছে। লন্ডনেও বিজেপি সরকার কর্তৃক পাশ হওয়া নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বাতিলের দাবিতে প্রজাতন্ত্রদিবসে বিক্ষোভ করেছে ভারতীয়রা। প্রজাতন্ত্রদিবসে বিক্ষোভ হয়েছে ভারতের ভেতরেও বিভিন্ন রাজ্যে। শাহিনবাগের আন্দোলন সবচেয়ে জোরদার। সেখানে আন্দোলন এখনও চলমান। হাজার হাজার নারী অংশ নিয়েছেন শাহিনবাগের আন্দোলন। তাদের নিরাপত্তার জন্য আছেন পুরুষরাও।

এদিকে দেশটির ক্ষমতাসীন বিজেপির অবস্থান বিল পাশ হওয়ার পর থেকেই বেশ মারমুখি ও সহিংস। বিল পাশের এক সপ্তাহে আসাম, উত্তরপ্রদেশ ও লাখনৌ মিলে ২৫ জনের অধিক আন্দোলনকারী মুসলিম নাগরিক হত্যা করেছে। গ্রেফতার করা হয়েছে কয়েক হাজার আন্দোলনকারীকে। বিজেপির মন্ত্রী ও নেতারা চরম সাম্প্রদায়িক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে নিয়মিতই। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সামনেই এক যু্বককে সিএএ’র বিরোধিতা করায় মারধর করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর আজ বলেছেন, যারাই সিএএ’র বিরোধিতা করবে তাদের গুলি করে মারা হবে। এছাড়া আরও চরম উগ্রবাদী বক্তব্য বিজেপি বিধায়ক ও মন্ত্রীরা সময়ে সময়ে দিয়ে যাচ্ছেন।

তবে বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সাম্প্রদায়িক বক্তব্যের সমালোচনা হচ্ছে দেশি এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইকনোমিস্ট সিএএ, এনআরসির নিন্দা জানিয়ে ‘অসহিষ্ণু ভারত’ শিরোনামে প্রতিবেদন করেছে। এছাড়াও আল জাজিরা, আনাদুলু, বিবিসিসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতেও ভারতীয় মন্ত্রীদের পদক্ষেপের বেশ সমালোচনা করা হচ্ছে।

এদিকে দেশজুড়ে প্রতিবাদকারীরা মনে করছেন, কঠোর আন্দোলন করে বিদেশিদের দৃষ্টিগোচর করতে পারলে এবং সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারলে সাম্প্রদায়িক সিএএ বাতিলে বাধ্য হবে সরকার।

পূর্ববর্তি সংবাদযুক্তরাষ্ট্রের ‘ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি’ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা ফিলিস্তিনিদের
পরবর্তি সংবাদভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির দায়ে ঢাবির ৬৭ শিক্ষার্থী আজীবন বহিস্কার