দুঃখজনক: ইসলামী নাশিদের নামে কী গাইছে মাদরাসা ছাত্ররা!

খন্দকার মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ ।।

গতকাল এক ভাই আমাকে মেসেঞ্জারে একটি ইউটিউব লিঙ্ক দিয়েছেন। খুলে দেখলাম লেখা আছে ” ……. মাদরাসার এক ছাত্রের কণ্ঠে গাওয়া একটি উর্দু সংগীত”

কিছু আলেমের উপস্থিতিতে এক ছাত্র গাইতেছে “তু হিন্দু বনে গা নাহ মুসলমান বনে গা, ইনসান কি আওলাদ হে ইনসান বনে গা”। শুনেই বুঝতে পারলাম এটা একটা হিন্দি ছায়াছবির গান। ১৯৮০ এর দশকের একটি ছায়া ছবিতে এই গানটি গাওয়া হয়েছে। একটি গানকে ইসলামী সঙ্গীত বলার কারণে আমি অবাক হয়ে এই লেখা লিখছি না। আমি লিখছি কারণ সেই গানের মধ্যে যে কথাগুলো বলা হয়েছে তারমধ্যে অনেক কথা ইসলামী আকিদার সাথে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। তা যে কোনো সাধারণ মানুষই বুঝতে পারার কথা। অথচ স্টেজে বসে আছেন কিছু আলেম। তারা এই গানের কথাগুলো খুব ভালভাবেই বুঝেন এতে কোনো সন্দেহ নাই। কিন্তু একটু চিন্তা-ফিকির না করে ইসলামবিরোধী কথাগুলোকে ইসলামী সংগীতের নামে চালিয়ে দেওয়ার মত এই কাজটাকে তাদের বোকামি বলব? নাকি অজ্ঞতা বলব বুঝতে পারছি না।

গানের কথাগুলো কেন ইসলামবিরোধী?

১। প্রথম লাইনে বলা হয়েছে (ছোট শিশুকে) “তুমি হিন্দুও হইও না আবার মুসলিমও হইও না, বরং তুমি মানুষ হইও।” এখানে অন্যান্য ধর্মের বিধান আমি জানি না, তবে ইসলাম ধর্ম যারা পালন করে তাদেরকে ইসলাম এই অনুমতি দেয় না যে, সে বলবে “আমি মুসলিমও নই আবার হিন্দুও নই।” কোনো মুসলিম নিজেকে হিন্দুও নয় আবার মুসলিমও নয় বলে পরিচয় দিলে সে মুরতাদ হয়ে যায়। সে আর মুসলিম থাকে না।

২। দ্বিতীয় লাইনে বলা হয়েছে (ছোট্ট শিশুকে সম্বোধন করে) “তুমি এখনো কোনো ধর্মের অনুসারী নও সেটাই ভাল হয়েছে।” তার মানে কী? যে ব্যক্তি কোনো ধর্মের অনুসারী হবে না সেই ভাল? ইসলাম আপনাকে এই কথা বলার অনুমতি দেয়? তারমানে ইসলামের চেয়ে অন্য কিছু ভাল? এতেও ঈমান চলে যায়।

৩। কয়েক লাইন নিচে বলা হয়েছে “সৃষ্টিকর্তা সবাইকে মানুষ হিসেবে দুনিয়াতে পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু আমরাই তাকে হিন্দু অথবা মুসলিম বানিয়েছি।” এই কথাটিও ইসলাম সমর্থন করে না। কারণ হাদিস শরিফে আছে, রাসুল স. বলেছেন: প্রত্যেক শিশু মুসলিম হিসেবেই জন্ম গ্রহণ করে। পরে তার বাবা-মা তাকে ইহুদি নাসারা (ইত্যাদি) বানিয়ে নেয়। এই হাদিসটি বুখারি শরিফ ও মুসলিম শরিফে আছে। তাহলে বুঝাই গেল যে, গানে যেটা বলা হয়েছে সেটা ইসলাম সমর্থন করে না।

৪। তারপরে বলা হয়েছে “যে কোরআন মন্দিরকে সমর্থন করবে না সেই কোরআন তোমার নয়। আবার যেই গীতা কাবাকে সমর্থন করবে না সেই গীতাও তোমার নয়।” এখানে কবি কোন ধরণের ধর্মের কথা বলেছেন? সর্বধর্ম? আল্লাহও রাজি শয়তানও রাজি? সেটা কি ইসলাম সমর্থন করে?

আমার মনে হয় মঞ্চে বসা ওলামায়ে কেরাম গানটির অর্থ ভালভাবে খেয়াল করেননি। খেয়াল না করাটাও দোষ তাদের জন্য। কারণ তারা আলেম সমাজ। তাদেরকে সাধারণ মানুষ অনুসরণ করে। আমরাও ছোটকালে না বুঝে অনেক হিন্দি গানকে ইসলামী সংগীত মনে করে পড়েছি (ইসলামী অনুষ্ঠানে নয়)। কিন্তু বড় হওয়ার পরে তা ত্যাগ করেছি এবং ছাত্রদেরকে সংশোধন করে দিয়েছি। কিন্তু এখন উস্তাদগণের উপস্থিতিতে এ রকম ইসলামবিরোধী একটি গান গাওয়া হচ্ছে, তাও আবার ইসলামী সংগীতের নামে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

ইসলামের উপর আক্রমণগুলো কোন দিক থেকে কীভাবে আসে সেদিকে ওলামায়ে কেরামের আরো সতর্ক দৃষ্টি রাখা উচিৎ। সাথে সাথে এর মোকাবিলা করার জন্য জ্ঞানার্জন করা জরুরী। ইদানীং আমাদের দেশে যেসব দিক দিয়ে ইসলামের উপর আঘাতগুলো আসছে সেগুলোর মধ্যে কয়েকটির নাম হল: সেক্যুলারিজম, সর্বধর্ম, মানবধর্ম, ধর্ম যার যার উৎসব সবার ইত্যাদি।

সবগুলোর মূলকথা মোটামুটি এ রকম: “ইসলামের আলাদা বৈশিষ্ট্য ধ্বংস করে দিয়ে হিন্দু ধর্মের সাথে ইসলামকে মিলিয়ে নেয়া। বাঙ্গালী সংস্কৃতির নামে হিন্দুয়ানী সংস্কৃতিকে মুসলিমদের উপর চাপিয়ে দেয়া।”

এই অপচেষ্টা উপমহাদেশে চলছে অনেক দিন আগে থেকেই। দীনে ইলাহি নামে আকবরি ধর্মের মুল কথাও ছিল “তু হিন্দু বনে গা নাহ মুসলমান বনে গা”। সেই ষড়যন্ত্রের মোকাবিলাও যেসব ওলামায়ে কেরাম করেছেন সেই তাদের উত্তরসূরিরা আজ ঘুমে অচেতন।

কোনো কোনো সময় তাদের নীরবতা অমার্জনীয় অপরাধ হিসেবে প্রমাণিত হবে আগামীতে। উক্ত গানের মধ্যেও সেই একই চেষ্টা করা হয়েছে। অথচ মঞ্চে বসে থাকা ওলামায়ে কেরামের সেদিকে কোনো খবরই নাই। আল্লাহ আমাদেরকে তার দীনের উপর অটল থাকার এবং ইসলামবিরোধী বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের মুকাবিলা করার তাওফিক দান করুন।

পূর্ববর্তি সংবাদভারতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস গভীর কূপে, ২১ জনের প্রাণহানি
পরবর্তি সংবাদমাদক কেনার টাকা না দেয়ায় স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, মাকে জখম