ফাহিম সিদ্দিকী ।।
গত অক্টোবরে মামাতো ভাই আশিকের ওয়ালিমা অনুষ্ঠানে শেষ দেখা হয়েছিল মুহাম্মাদ এর সাথে। প্রাণবন্ত ছিল, মুখে হাসি লেগেই ছিল। সুস্থ্য মনে হচ্ছিল; জিজ্ঞেস করলাম, মুহাম্মাদ তোমার কষ্ট হয় না? নীচু স্বরে বলল, আল্লাহ ভালো রেখেছেন আলহামদুলিল্লাহ। কষ্ট তো হয়, চেষ্টা করি যেন কেউ না বোঝে বলেই মুখটা কেমন মলিন হয়ে গেল। তারপর কি কি মুতলাআ করছে জানতে চাইলে বলতে থাকল। খাবার সময় দুই ভাই মুহাম্মাদ, আহমাদ আমি একসাথেই বসি। ও দাঁড়িয়ে আমার প্লেটে খাবার তুলে দিচ্ছিল, বললাম তুমি অসুস্থ আমি দিচ্ছি তুমি বোস। নাছোর বান্দা শুনল কোথায়! পুরো সময় খোঁজ নিচ্ছিল কি লাগবে আমাকে বলবেন। অবাক তাকিয়ে থাকি॥
মুহাম্মাদ এর দাদা আর আমার নানা অন্তরঙ্গ বন্ধু ছিলেন। দু জনই পরস্পরের ছেলে মেয়ে বিয়ে দিয়ে সম্পর্ক আরও মজবুত করেছিলেন। সেই সূত্রে আমার মেঝো মামির ভাই জামিয়া শারইয়্যা মালিবাগের সনামধন্য মুহাদ্দিস , বিশিষ্ট কলামিষ্ট, বহু গ্রন্থ প্রণেতা মাওলানা নাসিম আরাফাত সাহেব। আবার মুহাম্মাদ এর মামা আমার হামসবক ঘনিষ্ঠ সাথী। মুহাম্মাদ সম্পর্কে আমার ভালো জানাশোনা ছিল। একজন আদর্শ তালিবুল ইলম বলতে যা বোঝায় তাই ছিল মেধাবী মুহাম্মাদ। জানামতে খুব অল্প সময়ে মার কাছেই হিফজ করেছিল। দাওরা করে ইফতা পড়েছিল মালিবাগে। ওকে আমি কিতাবের মধ্যেই নিমগ্ন দেখেছি সবসময়। বেশি দেখতাম মাকতাবাতুস সালামে দাঁড়িয়ে বসে কিতাব দেখতে। বড় নেক ছিল সবার প্রিয় মুহাম্মাদ, এমন নেক সন্তান সত্যিই বিরল। দীর্ঘ চার বছর যাবত মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত ছিল সে। গতকাল সন্ধ্যায় ইন্তেকাল হয়। এমন জান্নাতি মানুষের জানাযা পড়ার সৌভাগ্য কজনেরই হয়! হযরত মাওলানা আব্দুল গাফ্ফার সাহেব মাওলানা যাইনুল আবিদীন, মুফতি বুরহান সাহেবসহ মাওলানা আব্দুস সালাম সাহেবদের অভিব্যক্তি জানান দিচ্ছিল তার সততার, নেক হওয়ার, জান্নাতি হওয়ার।
আজ আহমাদ মসজিদে নামাজের পূর্বে ভাইকে নিয়ে দেখা একটি স্বপ্নের কথা বলেছে। তাৎপর্যপূর্ণ স্বপ্নটি প্রণিধানযোগ্য।
“গত রাতে মুহাম্মদ ভাইয়ার লাশের পাশে বসে সূরা ইয়াসিন তিলাওয়াত করছিলাম । চোখ বন্ধ করেই তেলাওয়াত করছিলাম। এরই মধ্যে তন্দ্রা এসে যায়। দেখলাম ভাইয়ার লাশ কাঁধে করে নিয়ে যখন কবরে রাখলাম, তখন জাহান্নামের ফেরেশতারা এসেছে আবার জান্নাতের ফেরেশতারাও এসছে। জাহান্নামের ফেরেশতারা যখন মুহাম্মাদ ভাইয়ার লাশ নিয়ে যেতে চাইলো, তখন জান্নাতের ফেরেশতারা তাদেরকে কবর থেকে বের করে দিল। এরমধ্যেই দেখি একদল জান্নাতি হুর এসছে ভাইয়াকে নেয়ার জন্য। ভাইয়ার মাথায় ঘন কালো চুল। অথচ ক্যানসারের কারণে ভাইয়ার চুল পড়ে গিয়েছিল। স্বর্ণের অলংকার পরিহিতা সবচেয়ে সুন্দর হুরটি ভাইয়াকে সাথে নিয়ে উপরে উঠে যাচ্ছে। আমি যেতে চাইলে ভাইয়া বললেন, তুমি আরো অনেক পরে আসবে। ” স্বপ্নের এটুকু বলেই হাজার হাজার মানুষের সামনে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে আহমাদ।
আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউসের অধিবাসী করুন। প্রতিটি ঘরে ঘরে মুহাম্মাদ এর মতো নেক সন্তান দান করুন। আমীন
লেখকের ফেসবুক পোস্ট থেকে নেওয়া
















