বাংলাদেশের ইসকন মন্দিরের অন্তর্দ্বন্দ্বীয় কলহকে ভারতে প্রচার করা হচ্ছে ‘জিহাদি হামলা’ হিসেবে

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: বাংলাদেশের নেত্রকোণা জেলার একটি ইসকন মন্দিরে হিন্দুদের অন্তর্দ্বন্দ্বীয় কলহের একটি ভিডিও ভারতের সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করা হচ্ছে মুসলমানদের হামলা হিসেবে। দেশটির ক্ষমতাসীন উগ্র হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপির সমর্থকেরা ছড়িয়ে দিয়েছে এই ভিডিও।

এসব ভারতীয়ের দাবি– বাংলাদেশে হিন্দু মন্দিরে ‘মুসলিম জিহাদি বাহিনী’ এই বর্বর আক্রমণ চালিয়েছে।

বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর ধর্মীয় নির্যাতন এখনও অব্যাহত রয়েছে এমন খবর প্রচার করে ভিডিও শেয়ার করে অনেকেই মোদি সরকারের এনআরসিকে সমর্থন জানিয়েছেন। অথচ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিষয়টি আদৌ তেমনটি নয়। ভিডিওতে দেখা সংঘর্ষটি ছিল ওই মন্দিরের অন্তর্দ্বন্দ্বীয় কলহ। গত ১৭ জানুয়ারি নেত্রকোনার এক ইসকনের মন্দিরে এ ঘটনাটি ঘটে।

এ বিষয়ে ওই মন্দিরের প্রেসিডেন্ট জয়রাম দাস গণমাধ্যমকে বলেন, ‘হামলাটিকে নিয়ে সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানো হচ্ছে ভারতে। বিষয়টি আদৌ তেমনটি ছিল না। একটি দেবোত্তর সম্পত্তির জবরদখল ঠেকানোর জন্য মন্দিরের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে এ হামলার ঘটনা ঘটে।’

তিনি বলেন, ‘২৫ হিন্দু ও কয়েকজন মুসলমান মিলে ওই জমিটি জবরদখল করে রেখেছে। সেই বিষয়টি নিয়েই ঘটনাটি আবৃত। এখানে বাইরের কোনো গোষ্ঠী এসে হামলা চালায়নি। এটি মূলত হিন্দুদের নিজেদের মধ্যে জমিসংক্রান্ত একটি গণ্ডগোল মাত্র।’

ভিডিওটি নিয়ে গবেষণা করেছে ভারতে দুটি নির্ভরযোগ্য মিডিয়া ফ্যাক্ট চেক টিম- ‘দ্য কুইন্ট’ ও ‘অল্ট নিউজ’। তাদের বক্তব্যও ওই মন্দিরের প্রেসিডেন্ট জয়রাম দাসের সঙ্গে মিলে গেছে।

দল দুটি জানিয়েছে, বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন বলে ভারতের সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ওই ভিডিওটির সঙ্গে স্থানীয় মুসলমানদের হামলার দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই। একটি জমির দখল কেন্দ্র করে স্থানীয় হিন্দুদের সঙ্গে মন্দির কর্তৃপক্ষের সংঘর্ষ ঘটে। হামলাকারীরা প্রায় সবাই ছিলেন হিন্দু ধর্মাবলম্বী। এ হামলার ঘটনা মন্দিরের কর্মকর্তারা স্বীকারও করেছেন। নেত্রকোনার থানা পুলিশের এজাহারেও একই বক্তব্য রয়েছে।

ওই ঘটনায় নেত্রকোনা পুলিশের কাছে দায়ের করা এফআইআরে মন্দির কর্তৃপক্ষ যাদের নামে অভিযোগ করেছে, তাদের বেশিরভাই হিন্দু ধর্মাবলম্বী।

তারা হলেন— শান্তা সরকার, ছায়া সরকার, রূপম চৌহান, রাজন চৌহান, মোহাম্মদ পরশ, হিমেল মিঞা, শরিফ আহওয়াল, বিশ্ব সরকার, তাপস সরকার, উজ্জ্বল সরকার।

উল্লেখ্য, জানুয়ারি মাসের এ ঘটনার সপ্তাহখানেক পর ‘এফএম হিন্দু’ নামে ভারতের দক্ষিণপন্থী হিন্দুদের একটি গ্রুপ ফেসবুকে সেই ঘটনার ভিডিওটি আপলোড করে ক্যাপশন দেয়– ‘বাংলাদেশের নেত্রকোনা জেলার ইসকন মুক্তারপুর মন্দিরে হামলা চালিয়েছে মুসলিম জিহাদি বাহিনী। তিনজন ভক্ত মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে।’

এভাবেই বাংলাদেশকে দোষারোপ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজবের টুইট ঝড়ে মেতে ওঠেন বিজেপি ও তার অঙ্গ সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা।

পূর্ববর্তি সংবাদতুরস্কে ভয়াবহ তুষার ধস, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮
পরবর্তি সংবাদবিএনপির পুনর্নির্বাচনের দাবি মামা বাড়ির আবদার : ওবাইদুল কাদের