বিশ্বজুড়ে পশ্চিমা দেশগুলির প্রভাব বিস্তার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানির বাককিতণ্ডা

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে পশ্চিমা দেশগুলির প্রভাব বিস্তার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানির বাককিতণ্ডা শুরু হয়েছে। উপনিবেশ যুগের মতো বিভিন্ন রাষ্ট্রের ওপর আধিপত্য ধরে রাখার জন্য ঝগড়ার সুরে কথা বলছে দেশগুলির নেতারা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার কারণে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রভাব দিনে দিনে খর্ব হচ্ছে বলে যে কথা বলা হয়, তা নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সঙ্গে ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে মোটামুটি একটা বিতণ্ডা হয়ে গেছে মিউনিখের নিরাপত্তা সম্মেলনে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এই সম্মেলনে বলেছেন, এই অভিযোগটি অতিরঞ্জিত। যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার ভূমিকা গুটিয়ে নিচ্ছে বলে যে অভিযোগ, সেটিও তিনি নাকচ করে দিয়েছেন।

তিনি ইউরোপীয় নেতাদের এই বলে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন যে আটলান্টিকের দুই তীরের বন্ধন অটুট আছে এবং ‘পশ্চিমা বিশ্বের বিজয় অব্যাহত আছে।’

কিন্তু প্রায় সাথে সাথেই তার এই কথার পাল্টা জবাব দিয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ‘পশ্চিমা বিশ্ব ক্রমশ দুর্বল হচ্ছে।’

মিউনিখ সম্মেলন বিশ্বের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা সম্মেলনগুলোর একটি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতা থেকে শুরু করে সামরিক বাহিনীর উর্ধ্বতন জেনারেল, কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক নীতি-নির্ধারক এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা এই সম্মেলনে যোগ দেন।

এবারের সম্মেলনের আলোচনায় দুটি বিষয় প্রাধান্য পাচ্ছে। একটি হচ্ছে পশ্চিমা দুনিয়ার ক্রমশ ক্ষয়িষ্ণু প্রভাব। আরেকটি হচ্ছে রাশিয়া এবং চীন যেভাবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রমশ আরও বেশি কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, সেই বিষয়টি।

সম্মেলনের উদ্বোধনী ভাষণে জার্মান প্রেসিডেন্ট ফ্রাংক ওয়াল্টার স্টাইনমায়ার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তো এখন ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়’ বলে যে কিছু আছে সেই ধারণাটিকেই প্রত্যাখ্যান করছে। যুক্তরাষ্ট্র এখন তার প্রতিবেশি এবং মিত্রদের গ্রাহ্য না করেই তাদের মত করে পথ চলছে।

তবে একথার জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, অভিযোগটি সঠিক নয়। তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার সীমান্তে নেটোর শক্তি বাড়ানোর মাধ্যমে তারা ইউরোপকে নিরাপদ রাখছেন।

কিন্তু ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাক্রোঁ জার্মান প্রেসিডেন্টের কথা সমর্থন করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র মনে হচ্ছে ইউরোপের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক পুর্নমূল্যায়ন করতে চাইছে। তিনি বলেছেন, ইউরোপকে তার নিজের ভবিষ্যৎ নিজেই ঠিক করতে হবে।

প্রভাব ও আধিপত্যের বিস্তার নিয়ে ইউরোপ আর আমেরিকার সম্পর্কে যে ফাটল দেখা দিয়েছে তার সবচেয়ে বড় উদাহারণ হচ্ছে চীনের বৃহৎ কোম্পানি ‘হুয়াওয়ে’ নিয়ে মতবিরোধ।

যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক চাপ দিচ্ছিল হুয়াওয়েকে যেন অন্যদেশগুলো ফাইভ-জি মোবাইল নেটওয়ার্ক করার অনুমতি না দেয়। তাদের যুক্তি এর মাধ্যমে বেইজিং ইউরোপের ওপর গুপ্তচরবৃত্তির সুযোগ পেয়ে যাবে। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মার্ক এসপার তার বক্তৃতার পুরো সময় ধরে চীন সম্পর্কে সেরকম হুঁশিয়ারিই দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমেরিকার মিত্র দেশগুলো চীনা টেলিকম প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়েকে তাদের দেশে ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক তৈরির কাজ করতে দিলে চীনা গোয়েন্দা তৎপরতার দরোজা খুলে যাবে।

কিন্তু ব্রিটেন আর ফ্রান্সের মতো মিত্রদেশ যুক্তরাষ্ট্রের এই চাপ এখনো পর্যন্ত অগ্রাহ্য করে চলেছে।

সম্মেলনে আমেরিকার সমালোচনার কড়া জবাব দিয়ে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, চীনা টেলিকম কোম্পানি হুয়াওয়ে নিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষারক্ষী মার্ক এসপার মিথ্যা বলেছেন। এর আগে মি এসপার বলেন, চীন হুয়াওয়ের মাধ্যমে পশ্চিমা প্রযুক্তি চুরি করছে।

বিবিসি অবলম্বনে

পূর্ববর্তি সংবাদজাপানের সেই প্রমোদতরীতে করোনায় আক্রান্ত ৩৫৫ জন
পরবর্তি সংবাদকুয়েতে মানব পাচারে যুক্ত লক্ষীপুরের এমপি কাজী শহিদ, আরব টাইমসে প্রতিবেদন প্রকাশ