গাজীপুরে পোশাক কারখানায় নামাযের রুটিন: প্রচার-অপপ্রচার

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের (মুসলিম) নামাযের জন্য নিয়ম জারি করা হয়েছে। এটি একটি খুশির খবর। ভাল খবর। মুসলিমদের উপর নামাজ পড়া ফরজ। ইসলামের মূল ৫ স্তম্ভের একটি হল নামাজ। নামাজ মানুষকে খারাপ ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখে।

কিন্তু প্রশংসনীয় এ উদ্যোগটির সমালোচনায় মেতে উঠেছেন কিছু ব্যক্তি এবং প্রভাবশালী কিছু সংবাদমাধ্যম। সাধারণ এ নিয়মটিকে তারা নানাপ্রকার অপপ্রচার চালিয়ে জটিল এবং জলঘোলা করার চেষ্টা করেছেন।

এদিকে মিডিয়ার এমন অপপ্রচার বিরুদ্ধে সামাজিকমাধ্যমে সরব হয়েছেন সচেতন অনেক আলেম এবং দ্বীনদার মানুষ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচিত আলেম মাওলানা আহমদুল্লাহ তার এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন,

‘আপনি কাউকে হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম বা ময়লার ট্যাংকি পরিস্কারের কাজ দিলেন, লোকটি যদি আপনার প্রস্তাবিত পারিশ্রমিকের বিনিময়ে সম্মত হয়, তাহলে সেটা বেআইনী নয়।

যৌনপল্লীর কাউকে কিছু টাকার বিনিময়ে যৌনকর্মের জন্য ভাড়ায় নিলেন সেটাও আইনে সিদ্ধ।

কাউকে রাজনৈতিক সভা বা মিছিলের জন্য ভাড়ায় নিলেন সেটাতেও আপত্তি নাই।

যতোসব আপত্তি হলো শ্রমিককে শ্রমঘন্টার মধ্যেই যদি নামাজ পড়তে নির্দেশ করেন তাহলে।

ধর্মীয় কাজে কাউকে বাধ্য করা যাবে না, এই যুক্তিতে গাজীপুরে (রপ্তানীতে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত) মাল্টিফ্যাবস লিমিটেডের কারখানার শ্রমিকদের নামাজের নির্দেশ দেওয়া বে আইনী বলে দাবি করেছেন আইনমন্ত্রী এবং এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিভিন্ন মিডিয়া।

আপনি শ্রমিককে ৮ঘন্টা শ্রমের বিনিময়ে বেতন দিয়ে ময়লার ট্যাংকিও সাফ করাতে পারবেন, পারবেন সবই করাতে, কিন্তু মুসলিম শ্রমিককে শ্রম ঘন্টার মধ্যে কাজ বাদ দিয়ে নামাজ পড়তে বলতে পারবেন না। কী অদ্ভুত বৈপরিত্য!

কারখানাটির কতৃপক্ষের যুক্তিগুলো আমি পড়েছি। নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে অসাধারণ মনে হয়েছে। তাদের যুক্তি, বিভিন্ন বিভাগের শ্রমিকদের মধ্য সৌহার্দ্য এবং বসা কাজের মধ্যে চতুর্থ তলায় নামাজ পড়তে গেলে কিছুটা ব্যয়ামের ফলে কর্মচঞ্চলতা বৃদ্ধি পায় নামাজের মাধ্যমে।

শ্রমিকরা যে কাজে শ্রম দিয়ে থাকেন তাতে সব সময় সবাই সন্তষ্ট থাকেন না, নিছক টাকার জন্যই করে থাকেন। তবুও সেটা কিন্তু আইনসিদ্ধ। আপত্তি কেবল নামাজের ব্যপারে!

আপনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শার্ট, প্যান্ট, হাফ প্যান্টসহ যেকোনো ড্রেস নির্ধারণ করতে পারবেন, কিন্তু পারবেন না স্কার্ফ বা হিজাবকে ড্রেসের আওতায় আনতে। সেটা করলে স্বাধীনতা খর্ব হয়ে যাবে।
গান-নাচের অনুষ্ঠানে সবার অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করতে পারবেন, কিন্তু মুসলিমদের নামাজের নির্দেশ দিলেই স্বাধীনতা নষ্ট হবে!

এ হলো আমাদের সেক্যুলার বন্ধুদের যুক্তি’!

 

এদিকে মাওলানা খন্দকার মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ এক লেখায় লেখেন,

‘গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের (মুসলিম) জন্য নামাজ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এটি একটি খুশির খবর। ভাল খবর। মুসলিমদের উপর নামাজ পড়া ফরজ। ইসলামের মূল ৫ স্তম্ভের একটি হল নামাজ। নামাজ মানুষকে খারাপ ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখে।

কিন্তু দুঃখের বিষয় হল দেশের মিডিয়াগুলোতে এই ভাল খবরটিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে যেন কারখানার মালিক তার শ্রমিকদেরকে (মুসলিম) নামাজ পড়তে বলে মহা অপরাধ করে ফেলেছেন। এটাকে বলা হচ্ছে কারো উপর ধর্ম চাপিয়ে দেয়া হিসেবে। সংবিধানের দোহাই দিয়ে বলা আছে যে কারো উপর ধর্ম চাপিয়ে দেয়া যাবে না। আরে ভাই নামাজ পড়তে বলা আর ধর্ম চাপিয়ে দেয়া কি এক জিনিস হল? মুসলিমদের জন্য নামাজ পড়া বাধ্যতামূলক। এতে ছাড় দেয়ার কোনো সুযোগ ইসলামে নাই। আর ধর্ম চাপিয়ে দেয়া তখনই বলা যেতে পারে যখন কাউকে জোর করে ধর্ম ত্যাগে বাধ্য করা হবে।

নামাজ পড়তে বলাকে ধর্ম চাপিয়ে দেয়া বলাটা এক প্রকার মূর্খতার শামিল। যারা নামাজ পড়াকে “ধর্ম চাপিয়ে দেয়া” নাম দিয়ে সংবিধান লঙ্ঘিত হয়েছে বলে অপপ্রচার চালাচ্ছেন যারা, তারা কি মাদ্রাসাসমূহের বিরুদ্ধেও এই একই অভিযোগ তুলবেন? যদি বলেন হ্যাঁ, তুলব। তাহলে একটু বড় গলায় বলুন যদি সেই সাহস থাকে। আর যদি বলেন “না, তুলব না”। তাহলে আমার প্রশ্ন কেন তুলবেন না? পোশাক কারখানাও একটি প্রতিষ্ঠান আর মাদ্রাসাও একটি প্রতিষ্ঠান। দুটোতেই বাংলাদেশী নাগরিকরা কর্মরত ও শিক্ষারত আছেন। সবার জন্য সংবিধান সমান। একটিতে যদি নামাজ বাধ্যতামূলক করা অপরাধ হয়, তাহলে আরেকটিতে অপরাধ হবে না কেন? একটি কারখানার মালিক যদি মনে করেন যে, নামাজিরা বেশি কাজ করে। তাহলে তিনি নামাজ বাধ্যতামূলক করতেই পারেন। যেমন তিনি আইন করতে পারেন যে, এখানে কাজ করতে হলে দুপুরের খানা সবাইকে একসাথে খেতে হবে। কারণ উপোষ থেকে কাজ করলে কাজ ভাল হয় না। এখানে যেমন দোষের কিছু নাই, তেমনি সবাইকে একসাথে নামাজ পড়তে হবে এ রকম আইন করলেও সেটাকে দূষণীয় বলা যায় না।

কোরআন বলছে নানাজ নামাজিকে খারাপ ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখে। তাহলে তো নামাজের আদেশ দেয়ার মাধ্যমেই আমরা সারা দেশে অপরাধ কমিয়ে আনতে পারি। এখানে ভাল কিছু না দেখে যারা খারাপ কিছু দেখছেন তাদের চোখে ইসলামবিদ্ধেষী চশমা লাগানো হয়েছে তা নির্দিধায় বলা যেতে পারে। আসলে সেক্যুলাররা ইদানীং দিশাহারা হয়ে গেছে। মুসলিমদের জাগরণ দেখে তারা এখন কোথায় কী করবেন বুঝতে পারছেন না। কোথাও ইসলামী বই নিষিদ্ধ করা হচ্ছে, আর কোথাও কোরান হাদিসের কিতাবকে জঙ্গি বই বলা হচ্ছে। আর কোথাও নামাজ পড়াকে অনুৎসাহিত করা হচ্ছে। এসব করে তারা আসলে সম্প্রীতির এই বাংলাদেশকে অশান্ত করার অপচেষ্টা করছেন। ধর্মীয় সম্প্রীতির হাজার বছরের ঐতিহ্যকে নষ্ট করে যারা সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিচ্ছেন সেসব সেইসব অপরাধীদের বিরুদ্ধে সরকারের ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ বলে আমরা মনে করি’।

পূর্ববর্তি সংবাদকাশ্মীর নিয়ে কথা বলায় ভারতে আমার সাথে অপরাধীর মতো ব্যবহার করা হয়েছে: ব্রিটিশ এমপি
পরবর্তি সংবাদসবাইকে কচুরিপানা খাওয়ার পরামর্শ দিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী!