কলকাতায় ট্রাম্প বিরোধী বিক্ষোভ

ইসলাম টাইমস ডেস্ক : জানুয়ারিতে কলকাতার রাস্তায় বিক্ষোভ হয়েছিল ‘গো ব্যাক মোদী’ স্লোগান দিয়ে। ফেব্রুয়ারির শহর বিক্ষোভ দেখল ‘মোদীর বন্ধু’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত সফরের প্রতিবাদে। বিক্ষোভ মিছিল ঘিরে বাম ছাত্র-যুব ও অন্যান্য গণসংগঠনের কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় বচসা বাধল।

এইচ-ওয়ানবি ভিসা থেকে শুরু করে রফতানি সমস্যা, কোনও কিছুরই সমাধানের আশ্বাস মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সফরে নেই বলে সরব হয়েছে কংগ্রেস ও বামেরা। বরং, দুগ্ধজাত সামগ্রীর মতো বেশ কিছু জিনিস এ দেশে পর্যাপ্ত উৎপাদন হওয়া সত্ত্বেও আমেরিকা থেকে আমদানি করতে হবে, এমনই অভিযোগ তাদের। দেশের জন্য সমস্যার সুরাহা না করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ট্রাম্পের মনোরঞ্জনের জন্য কোষাগার থেকে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছেন, এই অভিযোগকে সামনে রেখে দিল্লি, কলকাতা-সহ নানা শহরেই দু’দিন প্রতিবাদের ডাক দেওয়া হয়েছে। ধর্মতলায় জমায়েত হয়ে সোমবার প্রথমে মার্কিন তথ্যকেন্দ্রের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বাম যুব ও ছাত্রেরা। তার পরে একই পথে বিক্ষোভ মিছিল ছিল বাম ও কংগ্রেস-সহ সব শ্রমিক সংগঠন, কর্মচারী ও মহিলা সংগঠনের। দুই মিছিলই পার্ক স্ট্রিট মোড়ের আগে জওহরলাল নেহরু রোডের উপরে আটকে দেয় পুলিশ। বাধা পেয়ে পুলিশের সঙ্গে বচসার পরে রাস্তা আটকেই বিক্ষোভ অবস্থান চালান বাম নেতা-কর্মীরা, পোড়ানো হয় ট্রাম্পের কুশপুতুল।

বিক্ষোভ মিছিলে এ দিন শামিল হয়েছিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র, পলিটব্যুরোর সদস্য মহম্মদ সেলিম, কাউন্সিলর চয়ন ভট্টাচার্য, সিটুর অনাদি সাহু ও সুভাষ মুখোপাধ্যায়, ইউটিইউসি-র অশোক ঘোষ, এআইটিটিইউসি-র দিবাকর ভট্টাচার্য প্রমুখ। পরীক্ষার মরসুমে মাইক ছাড়াই ট্রাম্প-বিরোধী স্লোগান দেন তাঁরা। সেলিম বলেন, ‘‘আমেরিকায় গিয়ে মোদী ট্রাম্পের হয়ে নির্বাচনী প্রচার করে এসেছিলেন! এখন ব্যক্তি মোদী আর ব্যক্তি ট্রাম্পের ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট হচ্ছে বিপুল টাকা ব্যয় করে। এতে দেশের কোনও লাভ নেই।’’ ট্রাম্প-বিরোধী মিছিলে বাধা দেওয়ায় রাজ্যের তৃণমূল সরকারেরও সমালোচনা করেন বাম নেতা-কর্মীরা।

জোড়া মিছিলের আগে ধর্মতলার মোড়ে বিক্ষোভে দেখায় এসইউসি। সেখানে ট্রাম্পের কুশপুতুল পোড়ানো হয় দলের রাজ্য সম্পাদক চণ্ডীদাস ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে। জেলায় জেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি ছিল নানা বাম দলের। ‘দেশ-বিরোধী’রাই প্রতিবাদ করছে বলে অভিযোগ করে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের অবশ্য কটাক্ষ, ‘‘বামেরা এবং এসইউসি তাদের জন্মলগ্ন থেকেই এই বিরোধিতা করে যাচ্ছে। তাতে ভোট কমতে কমতে তারা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গিয়েছে। একটা পঞ্চায়েত বা পুরসভা জেতারও ক্ষমতা নেই। তাদের বিরোধিতায় কী যায় আসে?’’

আনন্দবাজার পত্রিকা

পূর্ববর্তি সংবাদপুরান ঢাকায় আ.লীগ নেতার বাড়ি থেকে পাওয়া গেল পাঁচ সিন্দুকভর্তি টাকা, স্বর্ণালঙ্কার
পরবর্তি সংবাদকরোনা ভাইরাস : চীনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬৬৩