অ্যান্টিবায়োটিক  মা ও শিশুর জন্য সব সময় ক্ষতিকর

ইসলাম টাইমস ডেস্ক :  শুধু শিশু গর্ভে থাকাবস্থায় নয়, শিশু জন্মের সময়– এমনকি জন্মের পরেও দেখা গেছে,  অ্যান্টিবায়োটিক  মা ও শিশুর জন্য ক্ষতিকর। সম্প্রতি মেডিকেল জার্নাল বিএমজেতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় এমনি তথ্য জানিয়েছে।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, গর্ভাবস্থায় প্রথম তিন মাসে ম্যাক্রোলাইডজাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করা মায়েদের শিশুদের মধ্যে জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি বেশি।

ম্যাক্রোলাইড অ্যান্টিবায়োটিকের মধ্যে রয়েছে এরিথ্রোমাইসিন, ক্লেরিথ্রোমাইসিন ও এজিথ্রোমাইসিন। এসব ওষুধ সাধারণত নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস, মূত্র, ত্বক ও যৌন সংক্রমণজনিত রোগের চিকিৎসার জন্য ব্যবহূত হয়।

এ গবেষণা অনুযায়ী, অ্যান্টিবায়োটিকের মধ্যে ম্যাক্রোলাইডজাতীয় ওষুধগুলো পশ্চিমা দেশে বেশি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

গবেষণাটি ১৯৯০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যে জন্মগ্রহণকারী ১ লাখ ৪ হাজার ৬৫০ জন শিশু এবং পেনিসিলিন বা ম্যাক্রোলাইড ব্যবহারকারী মায়েদের কাছ থেকে জন্ম নেয়া শিশুদের ওপর ডাটা বিশ্লেষণ করে করা হয়েছে।

গবেষকরা এসব শিশুর জন্মকালীন ত্রুটি এবং জন্মের পর নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডারগুলো অনুসন্ধানের চেষ্টা করেন। এবং ফলাফলে বেরিয়ে আসে গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে ম্যাক্রোলাইডজাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারকারী মায়েদের জন্ম নেয়া শিশুদের এক হাজারজনের মধ্যে ২৮ জনেরই বড় ধরনের ত্রুটি রয়েছে।

অন্যদিকে পেনিসিলিন ব্যবহারকারী মায়েদের থেকে জন্ম নেয়া শিশুদের মধ্যে এ ঝুঁকি কিছুটা কম। মোট এক হাজার শিশুর মধ্যে ১৮ জনের এ ধরনের ত্রুটি রয়েছে। বড় ধরনের ত্রুটির মধ্যে হূদরোগজনিত ত্রুটি বেশি।

এ গবেষণার অন্যতম একজন গবেষক ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক রুথ গিলবার্ট। তিনি বলেছেন, গবেষণাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই গবেষণার ভিত্তিতে গর্ভবতী নারী এবং তাদের চিকিৎসকদের সংক্রমণের ধরনের ওপর নির্ভর করে বিকল্প ওষুধ ব্যবহারের পথ খুঁজে নিতে হবে। আর একেবারে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ না করার মধ্যেও ঝুঁকি রয়েছে।

তিনি বলেন, গর্ভবতী নারীর সংক্রমণ ঘটলে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করা প্রয়োজন। কারণ সংক্রমণ অনাগত শিশুর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

পূর্ববর্তি সংবাদগলায় মাছের কাঁটা বিঁধে শিশুর করুণ মৃত্যু
পরবর্তি সংবাদক্ষমতায় গেলে বিএনপি পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পুনর্বিচার করবে